মাদক বিরোধী অভিযানে দারোয়ান সিদ্দিকের নাম আসছে বলে তাকে ভয় দেখাইলাম। সে টুকটাক গাঁজা খায়। এত বড় অভিযানের হিটলিস্টে তার নাম আছে শুনে সে ভয়ে কুঁকড়ে গেছে। গতকাল ঈদের দিন পর্যন্ত তাকে পর্যবেক্ষণ করে আজকে শেষমেষ ডেকে এনে এই কথা জানিয়ে দিছি।

ঘটনার সুত্রপাত হয় এভাবে…

সিদ্দিককে আমি গতকাল বলতে শুনি, সে ফোনে কাকে যেনো বলছে, “এই গরমে ডিউটি করতে ভালো লাগেনা। মন চায় এক বোতল ইন্ডিয়ান ফেন্সি খাইয়া গোল্ডলিফে দুইটা বাড়ি মাইরা পইরা থাকি” !

আমি ততক্ষণাত তাকে জিজ্ঞাসাবাদ না করে কিছু না শোনার ভং ধরে চলে আসি। আমাকে আগে নিশ্চিতভাবে জানতে হবে, সে কি কি খায়…

আজ সুবহে সাদিকের প্রথম প্রহরে মর্নিংওয়াক করতে বাসা থেকে বের হয়েই গেটে পৌঁছে তাকে বললাম, “থানা থেকে জরুরী কল এসেছে। আমি যাচ্ছি। সাবধানে থাকিস”

মিথ্যা কথা বলে শালাকে ভড়কে দিলাম। আমার কথা শুনেই তার বুকের পশম দাঁড়িয়ে গেলো। ছোটলোকদের নিয়ে এই একটা অসুবিধা, শালারা স্পা করেনা। দুই টাকার ব্লেড কিনে তিনবার ইউজ করে…

মর্নিংওয়াক শেষে বাসায় ফিরেই সিদ্দিককে উপরে ডেকে আনলাম। তার সামনে একটা চৌধুরী এন্ড হোসাইনের মোটা বই কালো কাপড় দিয়ে ঢেকে রেখে বললাম, “হাত রাখ। হাত রেখে প্রতিজ্ঞা কর মিথ্যা কথা বলবিনা”

সিদ্দিক শালা ভড়কে গেলো হাহাহা !

– ভাই আমি কি কোনো অপরাধ করছি?
– কিছু না কিছু তো অবশ্যই করসস।
– কসম ভাই, ওইটা আমি না। মোজাম্মেল করসে।
– কোনটা?
– বুয়ার শাড়ি ফারসে মোজাম্মেল।
– ওইসব কিছু না। এর বাইরে আর কি কি করসস তুই?
– কিচ্ছু না ভাই। ইমানে…
– মাদক বিরোধী অভিযানে তোর নাম আসলো ক্যান? তুই নাকি গাঁজাগুজা খাস। আশেপাশের অন্য বাড়ির দারোয়ানদের কাছে স্টিক বানায়া বানায়া বেচস? সত্যি নাকি?

সিদ্দিক চুপ করে দাঁড়িয়ে রইলো। বুঝলাম শালা স্বীকার করবেনা। হাতের কাছে এক লিটারি ঠান্ডা পানির বোতল ছিলো। বোতল দিয়ে সিদ্দিকের বুকে পাড় দিলাম। বোতলের গুতা খেয়ে সে সোফায় গিয়ে পরলো। তারপর হ্যাঁ সূচক ভঙ্গিতে মাথা নাড়তে নাড়তে উঠে দাঁড়ালো। আমি তাকে অভয় দিয়ে বললাম, “কিচ্ছু হবেনা। যাহ, নিচে গিয়ে বস। মন দিয়ে বাড়ি পাহারা দে…”

সিদ্দিক স্বস্তির হাসি হাসতে হাসতে নিচে চলে গেলো…

খেলনা বন্দুক কিনে এনেছি। এলাকার দানব সাইজের কয়েকটা ছোটভাই আছে। ফাইভ স্টার জিমের মালিক। ওদেরকে ডেকে এনেছি। পরামর্শ করেছি ওদেরকে দিয়ে আজকে ফেক ক্রসফায়ারের অভিনয় করে সিদ্দিককে ভয় দেখাবো। ঠিক যেভাবে বিদেশি অভিনেতারা ফেক টেক্সি, ফেক টিচার, ফেক ডাক্তারের অভিনয় করে মানুষকে বিনোদনের চরম শিখরে পৌঁছে নিয়ে যায়…

সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় আমরা দলবল নিয়ে বাড়িতে ঢুকে পরেছি। সিদ্দিককে বললাম, “তোর ক্রসফায়ার হবে। আমি সামনেই থাকবো। ভয় পাইস না।”

সিদ্দিক বাচ্চা কুকুরের মত কুই কুই করে উঠলো…

… ঘটনা খুব দ্রুত ঘটতে শুরু করেছে !

মোটাসোটা একটা ছেলে প্রথমে ভেতরেই ঢুকেই সিদ্দিকের বুকে লাথি মেরে তাকে টুল থেকে ফেলে দিয়েছে। আরেকজন চেইন খুলে খেলনা পিস্তল বের করে সিদ্দিকের মুখে লাগিয়ে রেখেছে। দেখতে বেশ ভালোই লাগছে…

বাকি দুজন মিলে সিদ্দিককে উপুড় করে শোয়ালো। একজন আরেকজনকে জিজ্ঞেস করলো, “গুলি কোথায় করলে ভালো হয়?”

দ্বিতীয়জন বললো, গুলি করার দরকার নেই। বন্দুক ভরে রেখে দিন…

তৃতীয়জন এসে বললো, বুকে গুলি করেন স্যার।অবশ্যই ডানপাশে করবেন। বামপাশে পকেট আছে। টাকাপয়সা থাকতে পারে…

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সিদ্দিককে নগ্ন করে মেহেদি গাছের দিকে মুখ করে দাঁড়া করানো হলো। তারপর আমরা পাঁচজন মিলে তার দশ হাত পেছনে গিয়ে খেলনা পিস্তল রেডি করলাম। পিস্তল তাক করে সবাই একসাথে সিদ্দিকের পিঠ ও ব্যাকসাইডে শ্যুট করে জ্বালিয়ো দিলাম। খেলনা গুলির ছিটায় সিদ্দিক বন্য শূকরের মত নাচতে লাগলো। দেখতে ভালোই লাগছে…

সিদ্দিক বুঝতে পেরেছে আমরা তাকে সারপ্রাইজ দিয়েছি। মাঝে মাঝে বাড়ির কাজের লোকদের উৎসবের দিলে এভাবে সারপ্রাইজ দেয়া উচিত। তারাও তো মানুষ। তাদেরও তো মন আছে…

ফাইভ স্টার জিমের ছোটভাইরা গুলি গুলি খেলে মজা পেয়ে গেছে। ওরা আবদার করে বসেছে, এখন থেকে প্রতিদিন বিকালে বন্ধুবান্ধবরা মিলে এখানে আসবে গুলি গুলি খেলতে। আমিও ভাবছি, সিদ্দিককে দিয়ে নতুন এই ব্যবসাটা করাতে পারলে মন্দ হয়না…

Comments

comments