অফিসের পিয়নের সাথে রেষারেষি চলছে। ফকিরের বাচ্চাটাকে দেখলেই গা জ্বলে। ওর নাম শাহিন। শালা প্রতিদিন ক্লিনশেভ করে অফিসে আছে। আমার কথা হইলো, তুই কি অফিসার? তুই ক্যান ডেইলি ডেইলি শেভ করবি? তোর কিসের এত পার্ট? শেভ করতে এত টাকা তুই কোথায় পাস? নিশ্চয়ই তুই ধান্দা করস !

এদের মত কর্মচারীদের কারণেই কোম্পানির নাম খারাপ হয়। এরাই বড় হয়ে ঘুষখোর হয়, দালাল হয়। গরিব গ্রাহকদের ফাইল এক ডেস্ক থেকে আরেক ডেস্কে ঘুরায়। এই ছোটলোকটাকে যে করেই হোক, অফিস থেকে তাড়াতে হবে…

ভেবে দেখলাম বর্তমানে বাংলাদেশে সাইবার আইন সবচেয়ে কড়াকড়ি। শালাকে তথ্য প্রযুক্তি আইনের আওতায় এনে ঘায়েল করতে পারলে সবচেয়ে বেশি ভালো হয়। তাই পরিকল্পনা মাফিক আমি আমার পথে এগোনো শুরু করলাম…

সিকিউরিটি ক্যামেরা দেখে আগেই জানতে পেরেছি, অফিস ছুটির পর শাহিন প্রতিদিন টেবিল মুছার সময় তিন নম্বর ডেস্কের পিসিতে বসে আধাঘন্টা ফেসবুকিং করে। চাক্কাওয়ালা চেয়ারে বসে শার্টের কলার খাড়া করে সেলফি তুলে। ভং ধরে যে সে বিরাট বড় অফিসার !

আমি পরিকল্পনামত তিন নম্বর ডেস্কের পিসি থেকে শাহিনের ফেসবুক আইডি ব্রাউজ করলাম। ষড়যন্ত্রের যে নীলনকশা আমি শাহিনকে নিয়ে একেছি, তার বেড়াজাল ভেঙে শাহিন কখনোই বেরোতে পারবেনা…

আজ সকাল ১০টা,

শাহিন কুকুরটা আজও শেভ করে এসেছে। অফিসে ঢুকার সাথে সাথেই আমি তার চুলের মুঠি ধরে তাকে টানতে টানতে বড় স্যারের রুমে নিয়ে গেলাম। আমি শার্টেই ধরতাম। কিন্তু ঘামে ছোটলোকটার শার্ট ভিজে আছে। তাই চুলে ধরেছি…

বড় স্যারকে আগে থেকেই সব জানিয়ে রেখেছি। তার সামনে শাহিনকে টেনে নিয়ে গিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ করলাম –

– স্যার মারেন ক্যান! আমি কি করলাম?
– তোমার নামে অভিযোগ আছে, তুমি নাকি ডলি জহুরের নামে ফেক আইডি চালাও?
– খোদার কসম, আমি চালাই না
– সিসিটিভির ফুটেজ বলছে তুমি অপরাধী। তিন নম্বর ডেস্কে বসে তুমি ডলি জহুরের নামে আইডি চালাও।
– আমি আমার নামে আইডি চালাই। আইডির নাম Shahin Khondo Kar
– ঢুকে দেখাও

শাহিন পকেটে হাত ঢুকিয়ে ঝুনঝুনি হাতালো। পকেটে ফোন নেই। ফোন বাইরে রেখে এসেছে। বাইরে থেকে ফোন আনিয়ে তার হাতে দেয়া হলো। ফেসবুকে ঢুকেই দেখা গেলো, তার আইডির নাম ডলি জহুর ! প্রোফাইল পিকচারে ডলি জহুরের চশমা পরা ছবি। সাথে অভিনেতা আবুল হায়াত।

মুহূর্তেই শাহিন বোকাচোদা হয়ে গেলো। বড় স্যারও আর দেরি না করে শাহিনের গালচাপা সই করে দশ বারোটা চটকানা বসিয়ে দিলেন। আমার খুব ভালো লাগলো। আমিও তার সাথে যোগ দিলাম। দুজন নিলে শাহিনকে আচ্ছামত পিটালাম। চেয়ারের চিপায় ফেলে ইচ্ছামতন লাইত্থাইলাম। শাহিন আমাদের দুজনকেই একসাথে আব্বু বলে ডাকলো। জীবনে প্রথমবারের মত কাউকে কুত্তাপিটানি পিটাইতে পেরে বড় স্যার বিরাট আনন্দিত। আমার পারফরমেন্সে তিনি বিরাট খুশি। তিনি আমাকে অনুরোধ করলেন, শাহিনকে প্রতিদিন এভাবে ঘারানোর ব্যবস্থা করে দেয়ার জন্য…

আমি স্যারকে বললাম, “ও কিছু না। ম্যানেজ হয়ে যাবে” !

আমার ক্যারিয়ারে আজ আরেকটি মাইলফলক যুক্ত হলো। এবার বেতনটা বাড়িয়ে নিয়ে বিয়ে করার পালা 🙂

Comments

comments