রামপুরা যেতে উবার বাইকে ২০০ টাকা ভাড়া চায়। ভাবলাম আর ১০০ টাকা বাড়িয়ে দিলে প্রাইভেট কারেই যাওয়া যায়। কিছু সেলফি তোলা যাবে। রাইডের রিকুয়েস্ট পাঠিয়ে বসে রইলাম। তিন মিনিট পর গাড়ি চলে আসলো। ড্রাইভারের নাম জহুরুল। মানুষের নাম জহিরুল হয়। কিন্তু সে ড্রাইভার বলেই তার নাম জহুরুল। এমনটাই মনে হলো আমার…

এক নজরে জহুরুলকে দেখে নিলাম। চাপ দাড়িওয়ালা জানোয়ার। শার্টের উপরের বোতাম দুইটা খোলা। বুকে রুবেলের মত লোম। পেট ভালোই মোটা। পেটের কারণে এই লোক তার নিচের তলার যন্ত্র দেখতে পায় না বলে আমার ধারণা। ব্যক্তিগত জীবনে সে বড়ই দুখী…

– জহুরুল সাহেব
– হ্যাঁ স্যার বলেন
– গাড়ি কি নিজের?
– না, মালিকের গাড়ি। অফটাইমে রাইড দেই।
– মালিক তো বোধহয় জানেনা যে আপনি এই কাজ করেন। জানলে তো আপনাকে ধরে গুহা মারবে।

জহুরুলের চেহারায় কিসের ছাপ দেখা গেলো বুঝলাম না। তবে তার চোখমুখ কিছুটা শুকিয়ে গেলো। আমার কথা তার পছন্দ হয়নি। শালার কোন দুনিয়ায় আছি, ড্রাইভারদেরও দেখি এখানে আবেগ আছে। ড্রাইভার হেল্পারদেরও যদি আমাদের মত মন থাকে, আবেগ থাকে, তাহলে ওদের সাথে আমাদের পার্থক্য কি? স্ট্রেঞ্জ…

গাড়ির জানালায় এক ভিক্ষুক ঠোঁট লাগিয়ে চুম্মা দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। এই ভিক্ষুককে আমি প্রায়ই এই রাস্তায় দেখি। সে কখনো সচরাচর আমার কাছে ভিক্ষা চায় না। আমি গ্লাস নামিয়ে বললাম, তুমি গ্লাসে চুম্মাচ্ছো কেনো? হোয়াটস রং উইথ ইউ?

ভিক্ষুক বললো, খয়রাত দেন…

হাহাহা। তোরে দিবো খয়রাত? তুই কি ভাবসস এই গাড়ি আমার নিজের? তাই ভিক্ষা চাইতে আসছস? এতদিন তো এই পথ দিয়ে কত যাতায়াত করলাম, তখন তো ভিক্ষা চাইলিনা। আজকে গাড়িতে বইসা আছি দেখেই নাচতে নাচতে চলে আসছস। শালা ভিখারী…

আমি গ্লাস উঠিয়ে দিলাম। ততক্ষণে ফকিরের বাচ্চাটা জানালা দিয়ে ভেতরে হাত ঢুকিয়ে দিয়েছে। সিগন্যালও এরমধ্যে ছেড়ে দিলো। ফকিরের হাত আটকে গেছে হাহাহা। গাড়ির সাথে সাথে ছোটলোকটাও দৌড়াচ্ছে। দেখতে ভালোই লাগছে।

খানিকটা সামনে এসে ড্রাইভার জহুরুল গ্লাস নামিয়ে ভিক্ষুকটির হাত মুক্ত করে দিলো। আমি তাকে বললাম –

“তুমি এটা কি করলে? তোমাকে আজকে ওয়ান এস্টার দেবো” !

Comments

comments