এবছর গরমের কারণে যতবার হাফন্যুড হয়ে শুয়েছি, কোনো বিবাহিত পরিবারও বোধহয় সারাজীবন এতবার ন্যুড হয়না। আর ভালো লাগেনা। কোথাও একটু ডুবিয়ে আসতে পারলে ভালো হয়…

কই যাওয়া যায় ভাবতে ভাবতে মাথায় আসলো ওয়াটার কিংডমের কথা। ঢাকার মধ্যে এই একটা জায়গায়ই আছে, যেখানে ডুবাডুবি করার জন্য একটু পরিষ্কার পানি পাওয়া যায়। গরিবের নীলহ্রদ…

যেই ভাবা সেই কাজ। বাসায় সবাইকে বললাম, সকালে ওয়াটার কিংডমে যাচ্ছি। কেউ যেনো ঘুম থেকে উঠতে দেরি না করে। সকালে সময়মতই সবাই ঘুম থেকে উঠলো। কেউই দেরী করলো না। আমি প্যান্টের ভেতর মোটা দেখে আরেকটা থ্রিকোয়ার্টার পরে নিসি। ওয়াটার কিংডমে পৌছে আর জামাকাপড় পাল্টাতে হবেনা। প্যান্ট খুলে ঝাঁপিয়ে পরলেই হবে…

বাসা থেকে নিচে নামতে যাবো, এমন সময় দেখি দারোয়ান সিদ্দিকও হাজির। হাতে পলিথিন ব্যাগ। সে আমাদের সাথে যেতে চায়। শুনেই আমার মেজাজ গরম হয়ে গেলো। আমি ফকিরনির পোলার বুকে একটা লাথি মেরে সিড়ি থেকে ফেলে দিলাম। সিদ্দিকের সাথে সাথে তার হাতের পলিথিন ব্যাগটিও উড়ে গিয়ে নিচের সিড়িতে পরলো। ব্যাগ থেকে একটি সাবান আর একটি লুঙ্গি বেরিয়ে এলো। আমি দৌড়ে গিয়ে সিদ্দিকের গলায় পারা দিয়ে তাকে জিজ্ঞেস করলাম, “গরিবের বাচ্চা তুই ব্যাগ নিয়া আইসস ক্যান? কই যাবি তুই?”

– ভাই আপনাগো লগে পিকনিকে যামু
– ফকিরনির পোলা তুই গরিব। তোর ওয়াটার কিংডমে যাইয়া কি করবি। তোরে দেখলে তো মানুষ গোসল রাইখা উইঠা যাবে।

সিদ্দিক মাটিতে শোয়া অবস্থায়ই আমার পা ধরে আকুতি মিনুতি করা শুরু করলো…

– Please আমাকে নিয়ে যান
– তুই ইংলিশ কইলি ক্যান শূয়রের বাচ্চা?
– স্যরি, মিসটেক
– তোরে নিমু ভালো কথা। তুই ব্যাগে কইরা সাবান নিসস ক্যান? সাবান দিয়া কি করবি?
– গোসল করার সময় গায়ে দিমু
– তুই যে হালা ফকিরনির পোলা, তোর কথায়ই বুঝা যায়। ওয়াটার কিংডমে মানুষ সাবান গায়ে দেয়? তোরে তো নেয়া যাবেনা। তুই বাড়ি পাহারা দে, যাহ।

সিদ্দিক এবার হাঁটু গেড়ে বসে কান্নাকাটি শুরু করলো। আমার ভালোই লাগছিলো। পেছন থেকে আব্বা বললো, কান্নাকাটি করতে হবেনা। আসো আসো…

গ্রিন সিগন্যাল পেয়ে সিদ্দিকের ৩৬টা দাঁত বেরিয়ে গেলো। সে নাচতে নাচতে গাড়িতে উঠে ড্রাইভারের পাশে গিয়ে বসলো।

তিনঘন্টা পর…

ওয়াটার কিংডমে পৌছে গেছি। ভেতরে ঢুকেই আর দেরি না করে আমি থ্রি কোয়ার্টার পরে পানিতে নেমে গেলাম। কিছুক্ষণ পর সিদ্দিক বেরিয়ে এলো। পরে আর কিছু নেই। ঘামে ভেজা জাইঙ্গা। এটা পরেই সে পানিতে নেমে গেলো। আমি সাঁতার কেটে তার থেকে একটু দুরে সরে এলাম…

জানোয়ারটা সাঁতার কাটছে। পানির নিচে ডুব দিয়ে সাঁতার কাটতে কাটতে বিভিন্ন কাপলদের মাঝখানে গিয়ে ভেসে উঠছে। বনচটকানা খাচ্ছে। সবমিলিয়ে দেখতে ভালোই লাগছে…

আমি মনে মনে সিদ্দিককে মারার নীলনকশা আঁকলাম। পাইপের মত যে রাইডটা আছে, ওইটায় উঠার জন্য সিদ্দিককে উপরে নিয়ে গেলাম। লাল রংয়ের রাইডারে সিদ্দিককে বসিয়ে পিঠে লাথি মেরে পাইপের ভেতর দিয়ে ফেলে দিলাম। সিদ্দিক বাবাগো বলে পিছলা খেয়ে নিচে পরে গেছে। আমিও তার পেছন পেছন একটা হলুদ রংয়ের রাইডার নিয়ে পাইপের ভেতর ঢুকে গেলাম। ভালোই লাগছে…

মাঝপথে গিয়ে সিদ্দিককে পেলাম। তার রাইডার চলে গেছে। সে পাইপের ভেতর আটকে আছে। আমি আমার রাইডারের গতি কমিয়ে তার মুখে একটা লথি মারলাম। গতি ফিরে পেয়ে সে আবারো স্লিপ খেতে খেতে নিচের দিকে চলে গেলো। পেছন পেছন আমি রাইডার নিয়ে নামলাম। পাইপ থেকে বেরিয়ে সিদ্দিক পাইপের মুখেই দাঁড়িয়ে ছিলো। আমি স্লিখেতে খেতে এসে সজোরে তার পিঠে লাথি দিয়ে পাইপ থেকে বেরিয়ে গেলাম। তারপর তাকে পানির নিচে ফেলেই তার বুকের উপর দাঁড়িয়ে রইলাম। পানির নিচ নিচ থেকে বুদবুদ উঠছে। দেখে হয়ত অনেকে সন্দেহ করবে। তাই কিছুক্ষণ পর সিদ্দিকের বুকের উপর থেকে সরে গেলাম। সিদ্দিকের দেহ ভেসে উঠলো। শালা মনে হয় মরে গেসে হাহাহা…

না মরেনি, সেন্সলেস হয়েছে। দুই ভদ্রলোক মিলে তাকে টেনে পানির উপরে তুলে এনে ফ্লোরে রাখলো। একজন মুরব্বি বললো, পেটে পানি ঢুকেছে। মুখে মুখ লাগিয়ে ফু দাও। নাহলে মারা যাবে…

এই শূয়রের মত কালো মুখে কেউই পাম্প দিতে চাইলোনা। সিদ্দিক আজ বুয়া হলে ঠিকই কেউ না কেউ এগিয়ে আসতো। সিদ্দিকের এই বিপদের দিনে আমিই এগিয়ে এলাম। মুখে পাম্প দিয়ে নয়, বুকে পাড়া দিয়ে…

আমি ওয়াটার কিংডম কর্তৃপক্ষকে বললাম মিলার বাপুরাম সাপুড়ে গানটা প্লে করতে। তারা গান বাজালে আমি সিদ্দিকের বুকের উপর উঠে নাচা শুরু করলাম। এক পা বুকে, আরেক পা পেটের উপর দিয়ে ব্যালেন্স ঠিক রেখে নাচতে থাকলাম। পানি বেরোচ্ছে…

কাজ হচ্ছে দেখে আমার সাথে সাথে আরো কয়েকজন এসে সিদ্দিকের বুকের উপর উঠে দাঁড়ালো। আমরা সবাই মিলে দলীয় নৃত্য করলাম। কিছুক্ষণের মধ্যেই সিদ্দিকের পেট থেকে সব পানি বেরিয়ে এলো। শূয়রটা বোধহয় টাইগার খেয়েছিলো। হলুদ পানিও বের হলো…

অবশেষে সিদ্দিকের জ্ঞান ফিরলো। চরম একটা সুন্দর দিন কাটিয়ে আমরা ঘরে ফিরলাম। বাসায় এসে দেখি সিদ্দিক পানিতে শোয়া ছবি পোস্ট দিয়েছে। ক্যাপশনে লিখেছে –

“ওয়াটার কনডমে আমরা”

Comments

comments