আগামীকাল আবুল হায়াতের জন্মদিন। খুব ভোরে ফজরের আজানের সময় ঘুম থেকে উঠে গোসল করে দুই রাকাত নফল নামাজ পড়ে আবুল হায়াতের জন্য দোয়া করবো। তারপর নাস্তা খেয়ে কেক কাটার জন্য বেরিয়ে যাবো। কিন্তু সেটা আবুল হায়াতের জন্য নয়, আমাদের এলাকার বাবুল পাশার জন্য। কালকে বাবুল পাশারও জন্মদিন…

জন্মদিনের এই শুভ শুভ আনন্দময়ো ক্ষণে আমি বাবুল পাশাকে মারবো। প্রথমে তার বাসায় যাবো। গিয়ে দরজায় লাথি দিয়ে ফ্লোরে শুয়ে পরবো। বাবুল পাশার বড় মেয়ের জামাই তৌহিদ এসে দরজা খুলবে। দেখবে কেউ নেই।আমি চুপিসারে হামাগুড়ি দিয়ে ভেতরে ঢুকে যাবো। তৌহিদ দেখবেনা। আমি হামাগুড়ি দিতে দিতে বাবুল পাশার রুমে চলে যাবো। গিয়ে দেখবো বন্ধু আমার কাকীর সাথে পাশা খেলে শুয়ে আছে। কাকী থাকবে ওয়াশরুমে…

বাবুলের পায়ের কাছে টেবিলফ্যান থাকবে। সেই বাতাসে বাবুলের লুঙ্গির মুখ ফাঁকা হয়ে থাকবে। এটাই সুযোগ। কেকের উপর বসানোর জন্য যে আঁতশবাজি বা ফায়ারওয়ার্ক্স ক্যান্ডেলটা এনেছি, সেটায় আগুন ধরিয়ে বাবুলের লুঙ্গির ভেতর ঢুকিয়ে দিয়ে আমি খাটের নিচে গিয়ে শুয়ে থাকবে। বাবুল যন্ত্রণায় লাফাবে। তৌহিদ এসে উঁকি দিয়ে দেখবে বাবুল খাটের উপর উদাম হয়ে নাচছে। তৌহিদ ভাববে বাবুল তার জন্মদিন উপলক্ষে ফূর্তি করছে। তৌহিদ তার নিজের রুমে চলে যাবে। দরজা লাগিয়ে দিয়ে তৌহিদও পাশা খেলা শুরু করবে। এটাই পাশা পরিবারের নিয়ম…

ততক্ষণে বাবুল পাশা ক্লান্ত হয়ে যাবে। আমি বাবুলকে কাঁধে তুলে বাড়ির বাইরে নিয়ে আসবো। বাবুল আমার কাঁধে শুয়ে পিঠে কিলাতে কিলাতে বলবে, “ছাড়ো তো বাড়া। কি করছো কি শুনি? কোথায় নিয়ে যাচ্ছো আমাকে? আমি কি করেসি?”

প্রত্যুত্তরে আমি তাকে বলবো, “চুপ শূয়র। একদম চুপ। একদম দেয়ালের সাথে মাথা ঘষাইতে ঘষাইতে নিয়ে দিবো। মাথার টাক ছিলে যাবে। বুঝলে?”

হুমকিধামকি খেয়ে বাবুল ভয়ে কুঁকড়ে যাবে। মিনমিনিয়ে কাঁদতে শুরু করবে। ততক্ষণে আমি তাকে বাসায় নিয়ে আসবো। বাসার সামনে সিদ্দিক ফুলদানি নিয়ে বাবুলের আসার অপেক্ষায় থাকবে। বাবুলকে দেখামাত্রই সিদ্দিক এই ফুলদানি দিয়ে বাবুলকে বাইরানো শুরু করবে। গাছ থাকবে সিদ্দিকের হাতে, ফুলদানির আঘাত পরবে বাবুলের দেহে…

দুষ্টমি শেষ করে তারপর আমরা বাবুলকে চিত করে শোয়াবো। মজিদ বেকারী থেকে কিনে আনা ২০০ টাকা দামের কমদামী কেকটি শুয়ে থাকা বাবুলের মুখের উপর লেপ্টে দিবো। পুরো মাথায় কেকটি ভালোমত মেখে আমরা জন্মদিনের গান গাবো। এবং পরিশেষে হাততালি দিবো। বাবুল হয়ত কাঁদবে। কিন্তু তার চোখের সেই নোনাজল মুখের উপর লেপ্টে থাকা কেকের কারণে বের হতে পারবেনা। রিটার্ন চোখের মধ্যে ঢুকে গিয়ে টাকের ভেতর জমবে…

সবশেষে আমরা বাবুল পাশার জন্য একটা প্রতিযোগিতার আয়োজন করবো। বাড়ির ছাদে তিনতলার ভাড়াটিয়া জগদিশ নার্সারী বানিয়েছে। সেখানে বিরাট বড় লোহার ড্রামে পেয়ারা গাছ আছে। আমি আর সিদ্দিক মিলে সেই গাছ ছাদ থেকে আনতে যাবো। তবে বাবুলকে এভাবে ফেলে রেখে যাবোনা। ফেলে রেখে গেলে সে দেয়াল টপকে পালিয়ে যাবে। তাই আমরা তার এটিএম লুঙ্গির ভিতর তাকে ঢুকিয়ে লুঙ্গির দুই মুখ গিট্টু দিয়ে বন্ধ করে দিবো। তারপর ছাদ থেকে দুজন মিলে ধরাধরি করে পেয়ারা গাছের ড্রামটি উঠিয়ে নিয়ে আসবো। তারপর বাবুলকে লুঙ্গির ভেতর থেকে বের করে তার বুকের উপর পেয়ারা গাছের ড্রামটি রেখে দিবো। স্যাটেলাইট থেকে ছবি তুললে মনে হবে, বাবুলের বুকে কেউ গাছ লাগিয়েছে…

গাছের ওজনে বাবুল পাশার ছাদনার হাড্ডি ভেঙে যাবে। এই অবস্থায়ই তাকে উঠতে হবে। যে করেই হোক, উঠে বাসায় যেতে হবে। কারণ আজকে যে তার জন্মদিন। পরিবার পরিজন, আত্মীয়স্বজনরা ওয়েইট করছে বেলুন ফুটিয়ে তার কেক কাটার জন্য…

কিন্তু বেলুন ফুটাবেই বা কি করে? বার্থডের জন্ম কিনে আনা বেলুন তো বাবুল আগেই অন্য কাজে লাগিয়ে ফুটা করে ফেলেছে…

Comments

comments