ভয়ংকর এক দুঃস্বপ্ন দেখে ঘুম ভাঙলো। স্বপ্নে দেখলাম ফুটপাতের এক দোকানে আপেল কিনতে গেছি। আপেল নাকের সামনে ধরে শুকতেছি। শুকার সময় আপেল নাকের মধ্যে ঢুকে গেছে। আর বের করতে পারিনা। পুরা স্বপ্নে এই আপেল নাকের মধ্যে নিয়ে ঘুরছি। কি ভয়ংকর ব্যাপার। লজ্জায় কারো দিকে তাকাতে পারিনা…

এটা ছিলো গতকালের ঘটনা। পরশু আরো ভয়ংকর স্বপ্ন দেখেছি। দেখলাম বরিশালের একটা মেয়ে সুপারি কুড়াতে বাগানে গেছে। আমি বাগানের বাইরের দিঘীর পাড়ে বসে আছি। হঠাৎ দেখা গেলো, মেয়েটি দৌড়াতে দৌড়াতে বাগান থেকে বেরিয়ে আসছে। পেছনে একটা বাঘ তাকে তাড়া করছে। আমি সাহস দেখিয়ে বাঘকে শূয়রেক বাচ্চা বলে গালি দিলাম। বাঘ ওই মেয়েকে ছেড়ে আমার দিকে তেড়ে আসতে থাকলো। টিনের বেড়া দিয়ে বানানো একটা রান্নাঘরের পিছে গিয়ে পালালাম। এরপর কি হইসিলো মনে নাই। তবে লাস্টের অংশটুকু মনে আছে। বাঘ রান্নাঘরের পিছনে চলে আসছে। আমি লাঠি দিয়ে বাইরায়া বাঘের কানসা ফাটায় ফেলসি। বাঘ অজ্ঞান হয়ে গেছে। এরপর এইটারে ভালোমত পিটায়ে লেজ ধরে টানতে টানতে বাসায় নিয়ে আসছি…

দুঃস্বপ্ন আজকেও দেখেছি, আজকের স্বপ্নটা ছিলো এরকম। আমি আমার বিছানায় ঘুমিয়ে আছি। হঠাৎ দরজায় কেউ একজন জানোয়ারের মত নক করা শুরু করলো। আওয়াজে ঘুম ভেঙে গেলো। আমি আড়চোখে তাকালাম। বুয়া গিয়ে দরজা খুললো। দরজার সামনে দুই সেনাবাহিনী দাঁড়িয়ে আছে। তাদের মাঝখানে আবুল হায়াত। সে হাত উঠিয়ে আমাকে দেখিয়ে বলছে, “স্যার এইযে এটাই সেই হারামজাদা। আমাকে জ্বালায় পোড়ায় শেষ করে ফেলসে। ওরে গুলি করে দেন।”

সাথে সাথে মিলিটারীর গুলিতে আমার বুক ঝাঁজড়া হয়ে গেছে। জানালা দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার জন্য উঁকি দিয়ে দেখি, নিচে সেনাবাহিনীর কামান নিয়ে রুবেল বসে আছে। এরপর কি হইসিলো মনে নেই…

স্বপ্নের সামান্য কিছু অংশ আমরা মনে রাখতে পারি। এই সামান্য অংশই যদি এত ভয়ংকর হয়, তাইলে পুরাটা কত ডেঞ্জারাস ছিলো ! ভাবা যায়?

জানিনা কেনো এমন হচ্ছে। এমন অবস্থায় বাইরে থেকে একটু ঘুরে আসা দরকার। ভেবেছিলাম নেপাল যাবো। কপাল ভালো না। প্লেন ফেয়ার হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে। বাজেট ক্রস। দেশের ভেতরই আরেকবার ট্যুর মারতে হবে। তাতে যদি একটু এই স্বপ্ন দেখার রোগ থেকে ছাড় পাওয়া যায়, অসুবিধা কোথায় !

রাজশাহী বিভাগ, রেডি থাকো। আমরা আসছি 🐻

Comments

comments