ছোটবেলা থেকেই আমি একটু স্বাধীনচেতা মানুষ। কয়েকটা উদাহরণ দিয়ে বুঝানো যায়। টুকপালানি খেলার সময় সবাই গিয়ে পালাত, আমার কাজ হচ্ছে তাদেরকে খুঁজে বের করতে হবে। আমি খুঁজে বের করার দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে বাসায় চলে আসতাম। এরা ঘন্টার পর ঘন্টা লুকিয়ে থাকত। একপর্যায়ে বিরক্ত হয়ে বেরিয়ে এসে দেখত, আমি নাই। বাসায় এসে শুয়ে আছি…

ক্রিকেট খেলার সময়ও আমি এধরণের কাজ করতাম। আমার কথা হচ্ছে, আমি যতক্ষণ ব্যাটিংয়ে আছি, ততক্ষণ আমি একলাই ব্যাটিং করবো। পার্টনারকে কোনো সুযোগ দিবো না। এরজন্য আমি প্রায়ই রান নেয়ার সময় অর্ধেক মাঠ থেকে ফিরে আসতাম। পার্টনার দৌড় দিয়ে আউট হয়ে যেত…

কোনো নিয়ম আমাকে আটকে রাখতে পারেনি। নিজের নিয়মে চলতে চলতে সবাইকে বুঝিয়ে দিয়েছি, আমি এমনই। আমার নিয়মে অভ্যস্ত হয়ে যাও। মানিয়ে নিতে পারলে থাকো, নাহলে বিদায় হও…

… এ কারণেই বোধহয় প্রেমিকা থেকে শুরু করে বাসার কাজের বুয়া পর্যন্ত কোনোটাই টিকেনি !

কাজের বুয়ার কথা কেনো বললাম, তারও একটা কারণ আছে। বুয়াদের একটা অভ্যাস, তারা ঘর ঝাড়ু দেয়ার সময় ফ্যান বন্ধ করবে ঠিকই, কিন্তু ঝাড়ু দেয়া শেষে ফ্যান অন করে যাবেনা। কাপড় ধোয়ার সময় শার্টের বোতামে সাবান লাগিয়ে রাখবে। এই সাবান সহই শার্ট আয়রন করবে। একটা দিনও সকালের নাস্তায় আস্তা কুসুম সহ ডিম পোঁচ দিবেনা। কুসুমটারে ভেঙে নষ্ট করে দিবে। এইসব জিনিস আমি নিতে পারিনা। মেজাজ খারাপ হয়ে যায়। এ কারণেই আমার বাসায় কাজের বুয়া টিকেনা…

আম্মা ইদানিং ভয়াবহ রকমের অসুস্থ হয়ে পরেছে। তার কথা হচ্ছে, বিয়ে কর বিয়ে কর…

আমি চাই এই স্বাধীন জীবন আরো কয়েকবছর টিকে থাকুক। এরজন্য কাজকর্ম ছেড়ে নিজেই ঘরের কাজ করতে রাজি আছি। কিন্তু স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করবে, এমন মানুষের সাথে চলায় আমি বিশ্বাসী না…

আমার কথা হচ্ছে, নিজের টাকায় বার্গার কিনে খেতে পারলে মদও কিনে খেতে পারবো। তাতে কার কি? কারো বাপের টাকায় তো খাচ্ছিনা…

সিদ্ধান্ত নিয়েছি, বিয়ের পর মদের বোতল এনে ফ্রিজে রেখে দিবো। আমার অ্যালবামে প্রায় ১,৫০০ মেয়ের সাথে আমার সেলফি আছে। এগুলো বাধাই করে ঘরের দেয়ালে লাগিয়ে রাখবো…

বিয়ে করলে এমন কাউকেই করবো, আমার প্রতি যার অগাধ বিশ্বাস থাকবে এবং আমার স্বাধীন জীবনে যে কোনোপ্রকার বাধা দিবেনা। অন্তত তাকে এতটুকু বুঝতেই হবে, মানুষ সবসময় একরকম থাকেনা…

Comments

comments