সফল মানুষ হিসেবে নয়, মাঝে মাঝে নিজেকে অতি সাধারণ যুবক ভেবে ভাবতে বসি। সফলতার গল্পগুলোকে একপাশে রেখে ফেলে আসা স্মৃতিগুলোকে যদি এক মিনিটের প্রাধান্য দেই, তাহলে আমাদের গল্পগুলো কেমন হবে? ভেবে দেখা যাক…

কোচিংয়ের মেয়েগুলো সব লাপাতা হয়ে গেছে। কে কোথায় আছে, কেউ জানেনা। বাকি ছেলেগুলো সব চাকরীর খোঁজে ছুটে বেড়াচ্ছে। মাঝে মাঝে তাদের দেখে রিকশা থামিয়ে বলি, “ভাইয়া কালো হয়ে গেসো কেনো? চাকরী খুঁজতেসো নাকি?” এ কথা বলে কি যেনো এক বিকৃত সুখ পাই…

বছর বছর বন্ধু পাল্টে গেলেও বাসার নিচের চা দোকানদারের সাথেই বেশিদিন হয় সম্পর্ক টিকে আছে। কেউ বুঝুক আর না বুঝুক, ক্লান্তশ্রান্ত হয়ে যখন সামনে যাবো, শাহাবুদ্দিন ভাই ঠিকই বুঝবে এইমুহূর্তে মন কি চায়…

এক কাপ চা ধরিয়ে দিবে, অথবা একটা সিগারেট। মাঝে মাঝে দেয়াশলাই দিতে ভুলে যাবে। ‘খানকির পোলা লাইটার দে’ বলে গালি দিবো। বেচারা কিছু মনে করুক আর না করুক, তবুও ভালোবাসবে…

জীবনে অনেক মেয়ের সাথে সুসম্পর্ক হয়েছে। তাদের অনেকেই এখন অন্যের বক্সখাটে লাফাচ্ছে। আমার সাথে কুয়াকাটা যেতে না পারলেও ঠিকই অন্য কারো হাত ধরে ভারতের গোয়া সী বিচ ঘুরে বেড়াচ্ছে। মাঝে মাঝে ইনবক্সে ঢু মারি সেই পঁচা কথাগুলো পড়ার জন্য। পড়তে পড়তে এই ভেবে আঁতকে উঠি, এটাই কি এই ম্যাসেজগুলোর একমাত্র কপি? নাকি অপরজনের ইনবক্সেও স্মৃতিস্বরূপ আরেক কপি রয়েছে। এখনকার মেয়েরা তো বিয়ের ছ’মাস আগেই খুব ভালোভাবে ঘাটাঘাটি করে আইডি ক্লিন করে নেয়। ইনবক্সে চাচা চাচী, মামা মামী, খালাত বোন ছাড়া অন্য কারো ম্যাসেজ রাখেই না…

ভাবতে ভালো লাগে, ইনবক্সে ন্যুড পাঠিয়ে বেড়ানো মেয়েগুলো সব সংসারী হয়ে গেছে। একসময় যারা এক হাতে বুক খাঁমচে ধরে ন্যুড পাঠাত, আজ তারা সেই হাতেই স্বামীর কোর্ট আঁকড়ে ধরে কভার ফটো দিচ্ছে। কেউ আবার দুই হাতে বাচ্চা কোলে নিয়েও ছবি দিচ্ছে। ক্যাপশন লিখেছে, এক জীবনে আর কি চাই !

… অথচ এদেরই একসময় চাহিদার শেষ ছিলো না

মাঝে মাঝে এদের প্রোফাইলে গিয়ে বিয়ের ছবি দেখি। এবাউটে গিয়ে বয়সের ভারে নুইয়ে পরা পেটমোটা লোকটির ছবি দেখে ভাবতে থাকি, এরচেয়ে হাজারগুনে ভালো আছি…

… নাটকীয় জীবন !

শেষ রাতে আইয়ুব বাচ্চুর মত করে গাইতে ইচ্ছে হয় –

“সেই তুমি কেনো এত অচেনা হলে
সেই আমি কেনো তোমাকে দুঃখ দিলেম…”

Comments

comments