দুদিন পরই ২৮শে অক্টোবর..

দুইবছর আগে এই দিনে আমার পরিচিত একটা মেয়ে মারা গেছে, নাম আদিবা। সুমাইয়া সুলতানা আদিবা। তার মৃত্যুটা আজও রহস্য হয়েই আছে। ঠিক কি কারণে আদিবা মারা গেলো, তা আমরা আজও কেউই জানিনা। কেউ বলে আদিবা সুইসাইড করেছে। কেউ বলে আদিবা ঘুমের ভেতর মারা গেছে। আবার কেউ বলে, এটা সুইসাইড ছিলো না, এটা ছিলো অপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড…

জানিনা সেদিন ঠিক কি হয়েছিলো। সারারাত ফেসবুকিং করে একটা মানুষ কেনো ভোরবেলায় নিজেকে গুটিয়ে নিলো। যে মানুষটা রাতে স্ট্যাটাস দিয়েছে, সিরিয়াস পোস্টে হাহা রিয়েক্ট দিলে ব্লক দিবে। মানে যে মানুষটা রাতেও নিজের ফেসবুক আইডি পরিচ্ছন্ন রাখার কথা ভাবছে, তার ঠিক কয়েকঘন্টা পর কেনো সে মানুষটা স্বেচ্ছায় জীবনের খাতা বন্ধ করে চলে যাবে !

অনেক কথা বলার ছিলো। বলা হলো না। আরো অনেক রাত ফ্লাইওভারে হেঁটে বেড়ানোর কথা ছিলো। হাঁটা হলো না। জানার ছিলো, ঠিক কি সমস্যায় সে ভুগছিলো। জানা হলো না। তবে প্রায়ই মনে পরে তার কথা। প্রায় মানে প্রতিদিনই। এটাও সে আর জানতে পারলোনা…

আদিবার মা এখনো কাঁদে। এখনো আমার পারসোনাল আইডিতে ম্যাসেজ দেয়, “বাবা কেমন আছেন?”

আমি ছয়মাস হলো উত্তর দেইনা। কি বলবো? উনি নিজেও ভুলতে পারেন না। আমাদেরও আর ভুলা হয় না। একটা মানুষকে আর কি বলে সান্তনা দিবো? সান্তনা দেয়ার ভাষা তো খুব কম। আমাদের সুখের গল্প কম হলেও সুখ প্রকাশ করার অনেক ভাষা আছে। কিন্তু সান্তনা জানানোর ভাষা আসলেই কম। এক লাইন দিয়ে তো আর ডেইলি ডেইলি একটা মানুষকে সান্তনা দেয়া যায় না। তাই উনার ম্যাসেজ সিন করাটাই বন্ধ করে দিয়েছি…

… আদিবার মা’র এই কান্না কোনোদিন থামবেনা ।

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় শীতলক্ষ্যা নদীর পাড়ে আদিবার কবর। একবার টিম পাঠিয়েছিলাম দেখে আসার জন্য। তারা খুঁজে পায়নি। তার ক’মাস পর নিজেই গিয়েছিলাম কবর জিয়ারত করে আসার জন্য। খুঁজে পেয়েছি ঠিকই। কিন্তু পারিবারিক কবরস্থানে বহিরাগত কাউকে ঢুকতে দেয়া হয়নি। তারা স্বীকারই করেনি এখানে এই নামে কারো কবর আছে। কেউ নাকি চিনেই না এই মেয়েটাকে…

আত্মহত্যা করার কারণে একটা মানুষ সবার পর হয়ে গেলো। অথচ এরাই হয়ত একসময় এই মেয়েটাকে তার বাবার কোলে দেখে বলতো, মাশাল্লাহ বাচ্চাটা কি সুন্দর !

বড়ই অদ্ভুত এ জাতি। রীতিনীতির কাছে হার মেনে ভালোবাসাকেও ছুঁড়ে ফেলে দিতে পারে…

… আর এটাই হয়ত আদিবার মত মেয়েদের জীবনের হিসাবনিকাশের খাতা বন্ধ করে চলে যাবার কারণ !

আদিবার আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি। আল্লাহ তাকে বেহেশত নসীব করুন।

Comments

comments