জীবনে প্রথম ৩০০ টাকা রিকশা ভাড়া দিয়ে বড়ধরণের ঠক খেলাম। সকালে বের হয়ে রিকশা নিয়েছি, যাত্রাবাড়ী থেকে মালিবাগ যাবো। ভাড়া ৮০ টাকা। মানিকনগর যাওয়ার পর ইবিএলের এটিএম বুথে ঢুকে কার্ড দিলাম। কার্ড আটকে গেলো। ১৫ মিনিট চেষ্টা শেষে কার্ড মেশিন থেকে বেরিয়ে এলো। এরমধ্যে রিকশাওয়ালা তিনবার এসে এটিএম বুথের দরজায় নক দিয়েছে। বিরক্ত হয়েও কিছু বলিনি। এদের আসলে ধৈর্যশক্তি কম। তাই ব্যাপারটা গায়ে লাগাইনি। আধাঘন্টা পর মালিবাগ গিয়ে পৌঁছালাম। রিকশা থেকে নেমে বললাম, মামা আবার যাত্রাবাড়ী যাবা? সে যাবে বললো…

আমি বললাম, ঠিক আছে তাহলে তুমি বসে চা নাস্তা খাও। আমি উপরে গিয়ে ফাইলটা জমা দিয়ে আসি…

সে রিকশা সাইড করে বসলো। আমি অফিসে চলে এলাম। আধাঘন্টার মধ্যে কাজ শেষ করে বেরিয়ে এলাম। এসে দেখি, সে রিকশা রেখে অফিসের সামনে সিড়ির উপর শুয়ে আছে। আমাকে দেখেই লাফ দিয়ে উঠে এলো…

“এইটা একটা কাজ করলেন ভাই? এত সময় লাগাইলেন”

বললাম, “চালাও তো রিকশা। অফিস আদালতের কাজ তোমরা কি বুঝবা? চলো চলো, যাত্রাবাড়ী চলো”

রিকশা ঘুরিয়ে আমরা যাত্রাবাড়ীর উদ্দেশ্যে রওনা হলাম। ভাড়া সেই একই, ৮০ টাকা। যাত্রাবাড়ী নেমেই মনে হলো, ইউটিলিটি বিলের কাগজ নিয়ে আরামবাগ যাওয়ার কথা ছিলো। এই রিকশা নিয়েই আরামবাগের উদ্দেশ্যে চললাম। ভাড়া আরো ৭০ টাকা ঠিক করা হলো। গেলাম আরামবাগ। যার কাছে গেলাম, সে বসুন্ধরা সিটিতে গিয়ে বসে আছে। এই রিকশা নিয়েই পান্থপথের উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। কাজ সারলাম। একই রিকশায় যাত্রাবাড়ী ফিরলাম। ফেরার পথে অবশ্য পল্টনে সিঙ্গারা খাওয়ার বিরতিও নিয়েছিলাম। দুইটা সিঙ্গারা খাওয়ালাম বেচারাকে…

প্রায় সন্ধ্যা হয়ে গেছে। যাত্রাবাড়ী ফিরে মানিব্যাগ থেকে ১০০ টাকার দুইটা চকচকে টাটকা নোট বের করে রিকশাওয়ালার হাতে দিলাম। ২০০ টাকা দেখে সে যেনো আকাশ থেকে পরলো !

“কি দিলেন?”

“কি দিবো আবার? টাকা দিলাম। টাটকা নোট। ঘ্রাণটা দেখসো টাকার?”

আমি নোট দুইটা তার নাকের সামনে নিয়ে ধরলাম। সে শুঁকলো না। পাল্টা উত্তর দিয়ে বললো, “ভাড়া দিবেন ৪০০” !

“ধুর হালা। দুষ্টমি করো? ৪০০ দিবো ক্যান?”

“হিসাব কইরা দেখেন। আশি আশি একশো ষাইট, একশো ষাইটে আর সত্তরে দুইশ তিরিশ, দুইশ তিরিশ আর সত্তুরে তিনশ, তিনশ আর একশ চাইরশ। আপনে দুইশ দেন কোন হিসাবে?”

“তোরে সিঙ্গারা খাওয়াইছি না? খাইসস?”

“কোক খাইসিলিনা এক চুমুক?”

হ খাইসি

“আমার মুখেরতে নিয়া সিগারেট খাইস তিনটা। খাইসস কিনা ক”

আপনে দিসেন দেইখা খাইসি..

“খাইসস তো। এখন নকতামি করস ক্যান? তোরে নিয়া সারাদিন ঘুরলাম। তোর তো একটা বিবেক থাকা উচিত। আমি ভাবছি তুই ভাড়াই নিবিনা। এখন তুই চাইরশ চাস ! তুই তো মানুষের বাচ্চাই না বেটা। তোর জন্মই হইসে ডেটফেল ওষুধ খায়া।”

মানিব্যাগ থেকে আরো একশো টাকা বের করে মোট তিনশ টাকা তার মুখে ছুঁড়ে মেরে দিয়ে বললাম, “তুই বেটা ঠকাইলি আমারে। কাজটা ভালো করলিনা”

তাও সে মানেনা। আমি আর পেছনে না তাকিয়ে দ্রুত পা চালিয়ে বাসায় চলে এলাম। ভুল মানুষের সাথে ভালো ব্যবহার করেছি। যার প্রতিদান হিসেবে ৩০০ টাকা ভাড়া দিয়ে ঠকতে হলো…

যাক, ভালো একটা শিক্ষা হয়েছে। আর কখনোই এসব ছোটলোকদের সাথে ভালো আচরণ করবোনা…

Comments

comments