তিনতলার রাশেদ ভাই তার বাচ্চাকে ধমকায়ে ঘর থেকে বের হচ্ছে। আমি নিচে নামার সময় দেখে ফেলসি। দৌড়ায় গিয়ে ধরলাম, “আরে ভাই ধমকাচ্ছেন কেনো এভাবে বাচ্চাটাকে। কি আজিব। যান তো, কাজে যান।”

রাশেদ ভাইকে লজ্জিত মনে হলো। জিজ্ঞেস করলাম, সমস্যা কি? খুলে বলেন…

“আপনার ভাতিজার কচ্ছপ পালার শখ হইছে। অ্যাকুরিয়াম চায়। মাছ পালবে, কচ্ছপ পালবে।”

‘এই বয়সে বাচ্চাদের কত শখই তো হয়। আপনি যান তো। আমি সুন্দর করে বুঝিয়ে দিচ্ছি। বাবু তুমি আমার সাথে আসো। চলো ছাদে যাই’

এই বলে আমি পিচ্চিকে নিয়ে ছাদে চলে এলাম। পিচ্চিরে বললাম, তোমার নজর এত ছোট কেনো?

আমার কথা শুনে পিচ্চি ভড়কে গেলো। বললো, “আমি কি করেছি চাচ্চু?”

“তুমি মাছ কেনো পালবে? কচ্ছপ কেনো পালবে? তুমি পালবে কুমির। নজর বড় করো বুঝলে?”

‘কুমির কি পালা যায় নাকি?’

“কি বলো ! আমি তো ছোটবেলায় অ্যাকুরিয়ামে জলহস্তি পালসি। বইতে জলহস্তির কথা পড়সো না? আম সেই জলহস্তির ছোট্ট বাচ্চা এনে অ্যাকুরিয়ামে পালসি। সারাদিন পানির মধ্যে পাছা ডুবায়ে বসে থাকত।”

‘ওইটা এখন কোথায়?’

“ওইটা বড় হবার পর পালিয়ে গেছে। লাফ দিয়ে বের হয়ে পালিয়ে গেছে অ্যাকুরিয়াম থেকে।”

‘তাইলে আমি এখন কি কিনবো?’

“তুমি কুমির কিনতে পারো। তোমার আব্বুকে প্রেসার দাও কুমির কিনে দেয়ার জন্য। রাতদিন কানের কাছে গিয়ে ঘ্যান ঘ্যান করবা। কুমির না দিলে পড়া মুখস্ত করবানা। তাইলেই দেখবা রাজি হয়ে গেসে”

পিচ্চির মাথায় কুমির কেনার ভুত ঢুকিয়ে দিলাম। সে নাচতে নাচতে বাসায় চলে গেছে। এইবার রাশেদ হারামজাদারে বুঝাবো, বাড়িভাড়া দেরিতে দেয়ার সাজা কতটা ভয়ানক…

Comments

comments