১০-১২ বছর আগের কথা। তখন স্কুলে পড়তাম। দুনিয়ার সব আলতু ফালতু বিষয়ে চালাক হলেও ব্যবহারিক জীবনে কিছু বিষয়ে একদম মাথামোটা ছিলাম…

এক রমজান মাসে আম্মা অসুস্থ হয়ে পরলো। সকালের নাস্তা বানানোর কেউ নাই। বাধ্য হয়ে নাস্তা খেতে হোটেলে যেতে হলো। হোটেলে বেশিরভাগই পরোটার সাথে ডালভাজি অথবা স্যুপ খেতাম। আমার আবার অল্প তরকারীতে পোষায় না। দুইবার নেয়া লাগে। দুইটা পরোটা দিয়ে দুই বাটি স্যুপ খেয়ে আমি ৯০ টাকা বিল দিয়ে চলে আসতাম। এক বাচি স্যুপ ৪০টাকা। আমি তখনো বুঝি নাই যে, এক বাটি স্যুপ খাওয়া পরেরবার ফ্রিতে আরেক বাটি স্যুপ দেয়া হয়। টানা একবছর বেকুবের মত আমি দুই বাটি স্যুপ/ডালভাজির বিল দিয়ে গেছি…

… এরপর হোটেলের নিয়ম চেঞ্জ হলো। ওয়েটাররা বিলের কাগজ টেবিলে এনে দিয়ে গেলো। বললাম, আমি তো দুইটা পরোটা দুইটা স্যুপ খাইসি। বিল একটার করসেন কেনো?

সে বললো, ‘পরের বাটি তো ফ্রি দেয়া হয়। টাকা লাগেনা ওইটার জন্য’ !

শুনে আমি বেকুব হয়ে আকাশ থেকে পরলাম। একবছরে কম করে হলেও দশহাজার টাকার বাড়তি বিল দিয়েছি। ভাবা যায় !!

জীবনে প্রথম প্রেমিকার জন্য ফুল কিনতে গেছি। দামাদামি করা যাবেনা। দোকানের সবচেয়ে সেরা ফুলগুলো কেনা চাই। ফুল কিনতে গিয়ে পরিচয় হয়ে গেলো মুজিবুর ভাইয়ের সাথে। এলাকার ফুলের দোকানদার মুজিবুর আমাকে পরামর্শ দিলো, “ভাই একসাথে বিশটা ফুল দিয়েন না। দশটা দেন। তারপর থেকে প্রতিদিন একটা করে দিবেন” !

আমি ভাবলাম, কি ব্যাপার ! এই লোক তো দোকানদার। ফুল বেচলে তার লস নাই। তবুও সে আমাকে বিশটার বদলে দশটা নিতে বলতেসে। অভিজ্ঞ ব্যক্তি। নিশ্চয়ই সে আমার ভালো চায় !

চোখ বুজে এই লোকের কথা বিশ্বাস করে ফেললাম। তারপর মুজিবুরের কথামত টানা ছয়মাস প্রতিদিন তার দোকান থেকে একটা করে গোলাপ ফুল নিসি…

পরে জানতে পারলাম, যেই ফুল আমি ২০টাকা দিয়ে কিনসি, ওইটার দাম আসলে ৮টাকা। মুজিবুর টানা ছয়টা মাস আমাকে দিয়ে এই ফুল কেনাইসে। অথচ রিলেশন টিকে নাই…

… বোকা হয়েই চলেছি ।

মেয়েদের ড্রেসিং টেবিলে প্রায় সবধরণের কসমেটিকস থাকলেও সাধারণত ভিট কখনো থাকেনা। এইটা সম্ভবত তারা অন্য কোথাও লুকিয়ে রাখে। আমার এক বন্ধুর ভাতিজার জন্মদিনে গিয়ে এই ভিট নিয়ে আরেক বাজে ঘটনা ঘটলো। তখন বাজারে নতুন নতুন পার্টি স্প্রে এসেছে। বন্ধু পার্টি স্প্রে কিনে তার বাসার ওয়ারড্রোবে রেখেছে। সন্ধ্যায় আমরা সবাই গিয়ে উপস্থিত হলাম। কেক কাটার দুই মিনিট আগে সবাইকে চমকে দেয়ার প্লান করে বন্ধু আমাকে চুপেচাপে বললো, ‘ড্রয়ার থেকে পার্টি স্প্রে নিয়ে আয়। কেক কাটার সময় স্প্রে মাইরা দিবি’ !

আমি দোতলার ড্রয়ার থুয়ে ভুলে তিনতলার ড্রয়ার হাতিয়ে তার বোনের ভিট নিয়ে আসছি। কেক কাটার পর দেখা গেলো, বাচ্চার নাকে মুখে ভিট লেগে আছে। কেকের উপর ভিটের ফেনা। সবাই রাগী চোখে আমার দিকে তাকিয়ে আছে…

… অথচ আমি জানতামই না এইটা আসলে কি জিনিস। কি কাজে দেয়।

মাঝে মাঝে এই যে শৈশব জীবনের গল্প করি। ভালো লাগে। আমাদের ভালো খারাপের গল্পগুলো শেয়ার করার মত স্পেস খুবই কম। প্রত্যেকেরই অনেক অনেক গল্প আছে। সব গল্প হয়ত মনে নেই। মাঝে মাঝে হুট করে মনে পরে যায়। মনে করতে যতটুকু খারাপ লাগে, আবার ঠিক ততটুকু ভালোও লাগে…

অনেকে অতীতের কথা ভুলে যেতে চায়। তাদের ধারণা, হারিয়ে যাওয়া ভালো লাগার মানুষদের কথা ভুলে থাকার এটাই একমাত্র পথ।

তাদের ভুল ভাঙ্গিয়ে দিয়ে এটুকুই বলতে চাই, আমরা আসলে মানুষকে ভালোবাসিনা, আমরা ভালোবাসি সময়কে। এবং আমরা শুধু সেই সময়গুলোকেই ফিরে পেতে চাই। ভালো লাগার মানুষগুলোকে নয় !

বিশ্বাস না হলে এটুকুই ভেবে দেখুন, ঠিক এই মুহুর্তে আপনার দশ বছর আগের প্রেমিকা যদি ফিরে আসতে চায়, তাহলে আপনি কি করবেন? রাজি হবেন? নাকি হবেন না?

… আমি হলে অবশ্যই মানা করে দিবো, গল্পের প্রথম দিকের মানুষ হিসেবে, “বোকার মত” !

Comments

comments