মানুষের হৃদপিন্ড থাকে বুকে। কিন্তু গরিবদের হৃদপিনিড থাকে কোমড়ে। তাই ভিক্ষুকের কোমড় বরাবর লাথি দিলাম। লাথি খেয়ে সে গড়াতে গড়াতে সিড়ি থেকে নিচে পরে গেলো। ছোটলোকদের ছোট নজর। আজ যদি কোনো বড়লোককে লাথি দিতাম, সে হয়ত ডিগবাজি খেয়ে লিফটে ঢুকে যেত। এই ভিখারীটা গরিব বলেই গড়াতে গড়াতে সিড়ি গিয়ে পরে গেছে। এদের আইডল হয় সাধারণত আনোয়ার হোসেন, প্রবীর মিত্র, গোলাম মোস্তফা। অন্যদিকে ধনীদের আইডল হয় রজনীকান্ত, উত্তম কুমার, নাসিরউদ্দিন শাহ…

লাথি খেয়ে সিড়ি থেকে পরার সময় ভিক্ষুকের বাটি উল্টে গিয়ে সব কয়েন তার সাথে সাথে নিচে পরতে লাগলো। ঝুনঝুন ঝুনঝুন করে আওয়াজ হলো। তিনতলার ফ্লাটের বাচ্চারা দরজা খুলে বেরিয়ে এলো। পয়সার আওয়াজ শুনে ওরা খুশিতে হাততালি দিচ্ছিলো। এরইমাঝে সিড়ি থেকে কয়েনের সাথে সাথে এক বুড়া বেটা গড়িয়ে পরতেসে দেখে ওদের আনন্দ আরো কয়েক গুণে বেড়ে গেলো। আমি পেছন থেকে বললাম, “ধোরো না ধোরো না। ওকে পরতে দাও” !

বাচ্চারা সরে গেলো। ভিক্ষুক শূয়রটা গড়াতে গড়াতে দোতলা পর্যন্ত চলে গেছে। তাকে আর দেখা গেলো না…

ইদানিং খুব ব্যস্ত সময় কাটছে। বাসার দারোয়ান সিদ্দিকের আবার বাবা মেরে গেছে। এটা নিয়েও আরেক পেরেশানির মধ্যে ছিলাম। যার যখন খুশি মরে যাচ্ছে। এগুলা কোনো কথা? তোর কি দরকার ছিলো এই অসময়ে মরার? চাইলেই কি বাসার দারোয়ানকে ছুটি দেয়া যায়? অভ্যন্তরীণ কিছু ব্যাপার স্যাপার আছে না?

দেড়বছরের বেতন জমা ছিলো। সেখান থেকে এক মাসের বেতন দিয়ে সিদ্দিককে গত সপ্তায় গ্রামে পাঠালাম। বাবার দাফন কাফন সেরে বেচারা চলে এসেছে। ওর চেহারার দিকে তাকানোই যায় না। কালো মানুষ বেদনার বিষাদে আরো কালো হয়ে গেছে। সারাদিন কি যেনো এক টেনশন তাকে গ্রাস করে রাখে। ধ্যান্দা লেগে এদিকওদিক তাকায় থাকে। আগে সে কখনো এই বাড়িতে ফকির মিসকিনদের ঢুকতে দিত না। পায়ে লাঠি দিয়ে বাড়ি মেরে তাড়িয়ে দিত। এখন তার চোখের সামনে দিয়ে ফকির আসে যায়। সে খেয়ালই করেনা…

সিদ্দিককে মানসিকভাবে আঘাত করে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে হবে। ছাদে নিশু আপাদের পেয়ারা গাছ আছে। সেখান থেকে একটা ডাইল্লা ভেঙে সিদ্দিকের মাথায় বাইরাইলে কেমন হয়? সিনেমায় দেখেছি, এ পদ্ধতিতে কুংফু নায়ক রুবেল স্মৃতিশক্তি ফিরে পায়। প্রতিবন্ধী জীবন থেকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসে…

নাহ থাক। আজকে আর দৌড়ঝাঁপ করতে ইচ্ছে করছে না। যে যার মত থাকুক। এরকম দুপুরবেলা ভাত খেয়ে শুয়ে থাকাই শ্রেয়। বন্ধু মিলন বাবুলের মত…

Comments

comments