বাসার দারোয়ানকে এটিএম বুথে আটকে রাখসে। সিকিউরিটি থেকে আমাকে ফোন দিয়ে জানালো, সিদ্দিক নামে এক লোক এটিএম বুথে গিয়ে চুরি করা মাস্টারকার্ড ঢুকিয়ে অনেকক্ষণ যাবৎ উল্টাপাল্টা গুতাগুতি করেছে। সিকিউরিটি কর্তপক্ষ তাকে ছিনতাইকারী সন্দেহে আটক করে রেখেছে। আমি যদি তাকে চিনে থাকি, তাহলে যেনো দুপুরের মধ্যে আমার অথোরাইজড কাগজপত্র নিয়ে তাদের অফিসে যাই…

কি একটা ঝামেলার ব্যাপার। কেমনে কি হইসে কিছুই বুঝতেছিনা। বাসায় বিষয়টা নিয়ে আলোচনায় বসলাম। ফাঁকে দিয়ে বুয়া এসে বললো, সে এই কার্ডের ব্যাপারে জানে…

‘বলো, কি কি জানো তুমি?’

“সিদ্দিক্কায় গেছেকাইল চৌরাস্তায় একটা কার্ড খুঁইজা পাইসে। ব্যাংকের ট্যাকা তুলনের কার্ড। এইডার ভিতরে নাকি ট্যাকা থাকে। কইসিলো সকাল হইলে সব টাকা তুইলা আনবো। হেরপর তো বাজার করতে গিয়া আর ফিরে নাই”

ঘটনা বুঝা গেলো। শালা রাস্তায় কার না কার হারিয়ে যাওয়া মাস্টারকার্ড খুঁজে পেয়েছে। সেটা নিয়েই এটিএম বুথে ঢুকে গেছে টাকা তোলার জন্য। অথচ পিন, পাসওয়ার্ড কিচ্ছু জানেনা। হারামজাদা এখন আকাম বাধায়ে আমাকে ঝামেলায় ফেলসে…

কিছু তো আর করার নাই। নিজেদের লোক। ছাড়িয়ে আনতে হবেই। অফিসের আইডিকার্ড, বাসার ইউটিলিটি পেপারস সহ চলে গেলাম ব্যাংকে। এগুলো দিয়ে জিম্মানামা লিখে তাকে ছাড়িয়ে আনতে হবে…

ব্যাংক থেকে আমাকে তাদের সিকিউরিটি অফিসে পাঠালো। গেলাম। গিয়ে দেখি, সিদ্দিককে দেয়ালের দিকে মুখ করে ফিরিয়ে দাঁড়া করায় রাখসে। পেছন থেকে দেখে মনে হচ্ছে, সে দেয়াল চুমাচ্ছে…

আমরা অন্য রুমে গিয়ে বসলাম। পরিচয় দিলাম। আলাপ আলোচনা হলো। অফিসার ভদ্রলোক বেশ ভালো মানুষ। তাকে বুঝিয়ে বললাম, সিদ্দিক হচ্ছে একটা মাইন্দার। ওর কাজকর্মই এরকম অদ্ভুত। বেতন ছাড়াই শালা দেড়বছর ধরে কাজ করতেসে। মানুষ হিসেবে খুব একটা খারাপ না।

…এইসব ভুগিচুগি গল্প শুনায় দিলাম

সিদ্দিককে এই রুমে নিয়ে আসা হইসে। তার হাতে একটা ভাঙা কার্ড। কার্ডের গায়ে নাম লেখা স্বপন দাস। টানাহ্যাঁচড়া করায় কার্ডের অর্ধেক অংশ ভেঙে এটিএম মেশিনের ভেতরে রয়ে গেছে। বাকি অংশ সিদ্দিকের হাতে…

অফিসার এখনো একটু কনফিউশনে আছেন। তিনি সিদ্দিককে ছেড়ে দিবেন কিনা বুঝতে পারছেন না। আমি তার সন্দেহ দুর করার জন্য সিদ্দিককে জিজ্ঞেস করলো, “কার্ডের গায়ে কি নাম লেখা? বলো তো।”

সিদ্দিক ভেঙে ভেঙে পরলো, “স্বপ্ন দোষ” !

অফিসার এবার নিশ্চিত হলেন, এই শালা আসলেই বোকাচোদা। সে হাইজ্যাকার না। তিনি সিদ্দিকের একটা ছবি তুলে রাখলেন। আর কাগজপত্র রেখে দিয়ে আমাদের বিদায় দিলেন…

পুরাটা দিন নষ্ট হলো সিদ্দিকের পেছনে। ওরে হোটেল থেকে পুরি খাওয়ায়ে বাসায় নিয়ে আসছি। রুমে পাঠিয়ে বলসি, রেস্ট নাও। গিয় কিছুক্ষণ শুয়ে থাকো। আজকে আর তোমার ডিউটি করতে হবেনা…

শালা খুশি হয়ে রুমে চলে গেছে। আমি লাঠি খুঁজতেছি। এরমধ্যে সিদ্দিক জামাকাপড় পাল্টে লুঙ্গি পরে বিছানায় যাক। আজকে ওরে ঘাড়াবো…

Comments

comments