আমাদের দেশে নির্বাচনের সময় মানুষের আচার আচরণ, আবেগ ও চিন্তাধারায় ব্যাপক পরিবর্তন আসে। সাধারণত সমাজের নিচু স্তরে নির্বাচনের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পরে। নির্বাচনের আগে এরাই সবচেয়ে বেশি লাফায়, কিন্তু পরে কোনো ফায়দা পায় না। যে সরকারই আসুক না কেনো, এদের কপাল একই থাকবে। তবে লাভ হয় উঁচু স্তরের। সরকার বদলাক বা না বদলাক, তারা কোনো না কোনোদিক থেকে ঠিকই লাভবান হবে…

আমার মতে, নিম্ম মধ্যবিত্তরা টেনশনে লাফায়। উচ্চবিত্ত এবং উচ্চ মধ্যবিত্তরা জানে, নির্বাচনে তাদের কোনো ফায়দা নেই। একইসাথে সামাজিক মর্যাদার খাতিরেও তারা লাফাতে পারেনা।

নির্বাচনের সময় উচ্চবিচ্চ বা সমাজের উঁচু শ্রেণীর লোকেরা দুই মাসের জন্য বাজারে টাকা ছাড়া বন্ধ করে দেয়। কর্মচারীদের বেতন আটকে দিয়ে এই টাকা ইনভেস্ট করা হয় নির্বাচনে বিভিন্ন দলের পেছনে, নেতাদের পেছনে। একটা সিট পেয়ে গেলেই হয়। বাকি জীবন আরামসে টাকা গুণতে গুণতে কাটিয়ে দেয়া যাবে। এখানেও ভোগান্তির শিকার হচ্ছে মধ্য ও নিম্নবিত্ত শ্রেণীর লোকেরা…

নির্বাচনটা মূলত গরিবদের জন্য। দেশে যদি সবাই ধনী হত, সবাই যদি প্রিন্স হত, তাহলে আর এই আইন সংবিধান, নির্বাচন-নিয়ন্ত্রণ প্রথার প্রয়োজন হত না। যে যার মত দেশ ছেড়ে ইউরোপ আমেরিকায় চলে যেত। দেশ খালি পরে থাকত। সাগরের বুকে ছাগল চড়ানোর জন্য একটা ছোট্ট লীলাভূমি, নাম বাংলাদেশ…

আর সেই দেশে আমি আবুল হায়াতকে নিয়ে সিনেমা বানাতাম, “টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া : দৌঁড়াও বাবুল দৌঁড়াও”

সিনেমায় আবুল হায়াত একাই অভিনয় করবে। টেকনাফে ছবির শ্যুটিং শুরু হবে। আবুল হায়াত দৌড়াবে। আমি তার পেছন পেছন ক্যামেরা নিয়ে দৌড়াবো। এই দৌঁড় তেতুলিয়ায় গিয়ে শেষ হবে…

Comments

comments