তিনতলার ভাড়াটিয়া হানিফ আংকেলের মেয়ে সুমাইয়ার সাথে প্রতারণা করলাম। সে পুরাই শোকে কাতর হয়ে গেছে। ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদছে…

… ঘটনার শুরু গত পরশুদিন, ছাদে !

আমি আব্বার লুঙ্গি রিসিভ করতে ছাদে গেছি। বুয়া সকালে ছাদে লুঙ্গি রোদে দিয়ে সেই যে গেছে, আর ফিরে নাই। সন্ধ্যা হয়ে যাচ্ছে থেকে আমি লুঙ্গি সংগ্রহ করতে ছাদে গেলাম। গিয়ে দেখি, তিনতলার ভাড়াটিয়ার মেয়ে সুমাইয়া পেয়ারা গাছের পাতা ছিঁড়তেছে। দেখেই মেজাজটা খারাপ হয়ে গেলো। মারধর করার জন্য হাত নিশপিশ করা শুরু হলো। কিন্তু কি করবো ! মেয়ে মানুষ, চাইলেও গিয়ে লাথি-উষ্ঠা বা গায়ে হাত দেয়া যাবেনা…

আমি নিজেকে বুঝালাম, ‘কি করছো নিপু? আদর্শের কথা ভুলে গেলে? তুমি না মেয়েদের কাছ থেকে দুরে থাকো? মেয়েদের সাথে হাত মেলাতে চাওনা। আর সেই তুমিই কিনা এখন একটা মেয়েকে সামান্য পাতা ছেঁড়ার অপরাধে মারতে চাচ্ছো? তুমিও কি তাহলে ববি হয়ে গেলে?’

মনের সাথে যুদ্ধ করা শেষে আমি নিজেকে সংযত করে নিলাম। মারামারির মধ্যে গেলাম না। ভদ্রভাবে গিয়ে তাকে জিজ্ঞেস করলাম, ‘কি ব্যাপার সুমাইয়া? তুমি পাতা ছিঁড়তেসো কেনো? এইটা তো কাঁঠাল পাতা না, পেয়ারা পাতা। চাইলেও খেতে পারবানা। অযথা ছিঁড়ে কি লাভ?’

আমার কথা শুনে সে থতবত খেয়ে বললো, স্যরি ভাইয়া, আর এমনটা হবেনা।

আমি তাকে বললাম, “তুমি যদি কিছু ছিঁড়তেই চাও, তাহলে নিচে গিয়ে সিদ্দিকের চেয়ারের পেছনে ধান গাছের ছবি আঁকা কিছু পোস্টার দেখবা, ওগুলা ছিঁড়ো। খুব মজা পাবে।”

– তাই নাকি ভাইয়া ! কিন্তু সিদ্দিক ভাইয়া তো বিএনপি করে। উনি যদি আমার ক্ষতি করে?
– আরে ধুর। ওই তো কয়দিন পর দেশ ছেড়ে পালাবে।
– পালাবে কেনো ভাইয়া?
– বিএনপি জিতবে বলতে বলতে সে এলাকায় এমনভাবে ভাইরাল হইসে, বিএনপি না জিতলে পোলাপান তারে ন্যুড করে কোমড়ে গোলাপ ফুলের মালা বেধে দিয়ে রাস্তায় ঘুরাবে।
– ইয়াল্লা ভাইয়া তাই নাকি !
– হো। তুমিও বিএনপি করো নাকি?
– না ভাইয়া আমি আওয়ামীলীগ করি। জয় ভাইয়ার উপর ছোটবেলা থেকে ক্রাশড। এবার তো আমি ভোটার হইছি। প্রথম ভোটটা জয় ভাইয়া আর শেখ তন্ময় ভাইয়াকে দিবো।
– দুইজনরেই দিবা একসাথে?
– হ্যাঁ ভাইয়া। পিচ্চিকাল থেকেই ভোট দেয়ার খুব ইচ্ছা আমার।
– বাহ খুব ভালো। আচ্ছা থাকো। আমি যাই।
– আব্বা লুঙ্গির জন্য অপেক্ষা করতেছে। গামছা পেঁচায়ে বসে আছে। পরে কথা হবে।
– আচ্ছা ভাইয়া টাটা।

লুঙ্গি কাঁধে নিয়ে ছাদ থেকে নেমে চলে এলাম। ওইদিনের ঘটনা ওখানেই শেষ…

আজকে দুপুরের দিকে হঠাৎ মনে হইলো, ভাত খেয়ে বসে আছি। কাজকর্ম তো নাই। ওই বেকুব মেয়েটারে একটু পেইন দিলে কেমন হয় ! ওরে বলসিলাম সিদ্দিকের লাগানো পোস্টারগুলো ছিঁড়ে ফেলতে। সে ছিঁড়ে নাই। ওরে এখন পেইন দেয়া ফরজ।

যেই ভাবা সেই কাজ। বিকাল পর্যন্ত দরজার সামনে ঘাপটি মেরে বসে রইলাম। দরজার গ্লোব দিয়ে তাকিয়ে দেখতে থাকলাম, সে ছাদে যাওয়ার জন্য উপরে উঠে কিনা…

অল্প সময়ের মধ্যেই তাকে দেখা গেলো। ফোন টিপতে টিপতে ছাদে উঠছে। ছাদের গেট খোলার আওয়াজ পাওয়ামাত্রই আমি হাতের বুড়া আঙ্গুলে নীল কালি মেখে ছাদের উদ্দেশ্যে রওনা হলাম। ছাদে গিয়ে দেখি, সে কানে হেডফোন লাগিয়ে গান শুনতে শুনতে পায়চারি করতেসে।

তবে আমার ধারণা, সে গান শুনছিলো না। হেডফোন লাগিয়ে পর্নোগ্রাফীর আওয়াজ শুনছিলো। কারণ সে চোখে কম দেখে। মোটা গ্লাসের চশমা পরে। চশমার পাওয়ারও নাকি অনেক বেশি। ছাদের রেলিংয়ে কাউয়া বসলে সে কোকিল দেখে। এরকম আন্ধা লোকের পক্ষে পর্ন ভিডিও দেখা মোটামুটি অসম্ভব ব্যাপার। তাই হেডফোন লাগিয়ে আওয়াজ শুনছে। হতেও পারে এরকম…

– কি করতেসো সুমাইয়া? তোমাকে তো ভোটকেন্দ্রে দেখলাম না। কি ব্যাপার?
– ভোট কেন্দ্রে? আজকে কি ভোট হয়েছে নাকি ভাইয়া?
– হা। এইযে আমি ভোট দিয়ে আসলাম। দেখসো, আঙ্গুলে নীল দাগ।
– ও মাই গড ! বলেন কি ভাইয়া, আমি তো জানতামই না। কেউ তো আমাকে বলেনাই !
– ওহ নো।ভেরি স্যাড। থাক মন খারাপ কোরোনা।
– এটা কি হইলো ভাইয়া ! আমি শেখ তন্ময় ভাইকে ম্যাসেজ পাঠিয়ে রেখেছি, উনারে ভোট দিবো। উনি সিন করে নাই। ভাবলাম, ভোট দিলে ঠিকই সিন করবে। কিন্তু ভোটটা মিস করে ফেললাম ! কি হবে এখন !!
– কি আর হবে। থাক, মন খারাপ কোরোনা। সিদ্দিককে তো বলসিলাম তোমার বাসায় গিয়ে যেনো তোমাকে সকাল সকাল ডেকে দেয় ভোট দিতে যাওয়ার জন্য। সে বলে নাই?
– না ভাইয়া (সুমাইয়ার চোখ ভেজা ভেজা)
– সে চায় নাই তুমি ভোট দাও। তাই এমন করসে। তুমি আজকেই আব্বার কাছে গিয়ে বিচার দিয়ে আসবা। বলবা, দারোয়ানের কাছে ছাদের চাবি চাইতে গেলে সে তোমাকে বলছে, চাবি নিতে হলে পাপ্পি দিতে হবে। পারবানা বলতে? প্রতিশোধ নিবানা?
– পারবো ভাইয়া। আমি এখনি গিয়ে বলতেছি।
– হ্যাঁ, যাও। কি হয় জানায়ো আমাকে।
– আচ্ছা

বলদাটারে আব্বার কাছে পাঠিয়ে দিয়ে একচা সিগারেট ধরিয়ে ছাদে কিছুক্ষণ পায়চারি করলাম। হঠাৎ নিচ থেকে চিৎকারের শব্দ ভেসে এলো !

“খালু মাইরেন না মাইরেন না”

আরে এটা তো সিদ্দিকের গলা। দৌড়ে রেলিংয়ের পাশে গিয়ে দেখি, আব্বা কোরবানির গরু বাধার দড়ি দিয়ে সিদ্দিকের গলায় ফাঁস বেধে তাকে ফ্লোরে ফেলে ছাতার ভাঙ্গা ডান্ডি দিয়ে পিটাচ্ছে। দড়ির আরেক মাথা সুমাইয়ার হাতে…

এত দ্রুত আব্বা অ্যাকশনে যাবে আমি ভাবতেও পারিনি ! আমি ভেবেছি, হয়ত দুয়েকটা ধমক দিয়ে ছেড়ে দিবে ! যাই হোক, সিদ্দিকের আহজারি দেখতে ভালোই লাগছে, হাহাহা। শূয়রটা মাটিতে শুয়ে যন্ত্রণায় কাঁকড়ার মত লাফাচ্ছে। তার পরনের লুঙ্গি প্রায় খুলে গেছে। ভেতরের সবুজ জামার খানিকটা দেখা যাচ্ছে। এক হাতে লুঙ্গি ধরে রেখেছে। আরেক হাতে মার খাওয়া থেকে নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা করছে…

ভালোই একটা গেম খেললাম। এই প্রথমবারের মত বিজয় দিবসের দিন নিজেকে সত্যিকারের বিজয়ী বলে মনে হচ্ছে…

নিচে নেমে এলাম। ভোট দিতে না পারায় সুমাইয়া সিড়িতে বসে কাঁদছে। কান্না করার সময় অশ্রুশিক্ত চোখে মেয়েদেরকে দেখতে স্বপ্নদোষে ভিজে যাওয়া লুঙ্গির মত লাগে…

সুমাইয়া নামের সব মেয়েগুলাই ক্যান জানি একটু হাবলা টাইপের হয় 🌸

Comments

comments