এক অদ্ভুত স্বপ্ন দেখলাম। স্পষ্টভাবে মনে থাকলেও বিচ্ছিন্ন কিছু অংশ মনে আছে। স্বপ্নটা ছিলো এরকম, ইনবক্সে দুইটা মেয়ে নক দিয়েছে। তারা দুজনই আমার ফ্যান। খুব সম্ভবত দুই বোন, অথবা বান্ধবী। যেহেতু শাসন করার সময় বাপ একটা দেখেছি, তাই মেয়ে দুইটাকে একই বাবার সন্তান বলে মনে হলো…

স্বপ্নের এক অংশে দেখলাম তাদের সাথে আমার ইনবক্সে পরিচয় হয়েছে। পরের অংশে দেখলাম, আমরা তিনজন অশ্লীল কথাবার্তা বলতেসি। তাও আবার গ্রুপচ্যাট বানিয়ে…

গ্রুপচ্যাট থেকে সরাসরি বাগানে চলে গেছি। খুব সম্ভবত প্যারিসের কোনো একটা অঞ্চল। লেকের উপর ঝুলন্ত গার্ডেন দেখে এমনটাই মনে হলো। মেয়ে দুইটার সাথে শুয়ে আছি। মানে তারা একটু দুরে, আমি আরেকটু দুরে। মাঝখানে চার-পাঁচ হাত ডিসটেন্স…

তাদের সাথে কি কি কথা হয়েছিলো, মনে নেই। ভুলে গেছি। সব কথা মনে রাখা যায় না। তাছাড়া মানুষ কথা বলে ভুলে যাবার জন্য। নাহলে কথা বলার অন্য কোনো কারণ দেখিনা। ভুলে যাওয়ার আগেই কথাটা অন্য কারো কাছে চালান করে দেয়া চাই। এটাই মূল কারণ…

ঝড় হচ্ছে। আকাশে বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে। আমরা তখনো বাগানে শুয়ে আছি। হঠাৎ খেয়াল করলাম, গাছের ফাঁক থেকেও বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে। আমি উঠে বসলাম। দেখলাম, এক লোক গলায় ক্যামেরা নিয়ে দৌড়ে পালাচ্ছে…

স্বপ্নের পরের অংশে আমি উবারে রাইড রিকুয়েস্ট দিলাম। আসার কথা ছিলো প্রাইভেট কার, এসেছে দিনাজপুরের সবজিবাহী ট্রাক। উপায় নেই। ঝড়ের সময় এভাবেই যেতে হবে…

ট্রাক আমাকে অচেনা জায়গায় নিয়ে এলো। দরজা খুলে ড্রাইভার আমার পিঠে লাথি মেরে গাড়ি থেকে ফেলে দিলো। এক পুরনো প্রাসাদের সামনে গিয়ে পরলাম। প্রাসাদের নিচে রাইফেল হাতে এক লোক দাঁড়িয়ে আছে। পরনে লুঙ্গি আর সেন্টুগেঞ্জি থাকায় তাকে সুবেদারের মত লাগছে। অথচ পোশাকআশাকে একটু বৈচিত্র থাকলে তাকে সেনাপতিওয়ালা রাজা’র মত লাগতে পারত…

সুবেদার আমাকে গুলি করবে। সুবেদারের পরিচয়, সে ওই মেয়েদের বাপ। সে আমাকে জিজ্ঞেস করলো, “খারাপ কথা বলো আমার মেয়েদের সাথে? বোটানিকান গার্ডেনে গিয়ে শুয়ে থাকো? উঠো, তোমার বুক ফুটা করে ফেলবো আজকে।”

আমি তাকে বললাম, ওইটা বোটানিকাল গার্ডেন না। প্যারিসের ঝুলন্ত বাগান…

সুবেদার আমার বুকে লাথি দিলো। তবে আমি পরিনি। সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে আছি। এই বয়সে ওর দুর্বল পায়ে কতটুকুই বা জোর আছে !

আমি তাকে বুঝিয়ে বললাম, “আমরা প্রেম করিনা। সে আমার ফ্যান।”

সুবেদার আমার থোঁতা বরাবর রাইফেলের বাট দিয়ে ঠুয়া মেরে বললো, “তুই কত বড় সেলিব্রেটি হইসস। আমার মেয়েরা তোর ফ্যান হয়। তোরে আজকে খাইসি…”

সুবেদার আমাকে গুলি করে দিলো। গুলি খেয়ে আমি শুয়ে পরেছি। শুয়ে শুয়ে ভাবছি, এই মুহুর্তে যদি রাস্তার পাশ দিয়ে ওমর সানি যেত। সে অবশ্যই আমাকে কাঁধে করে হসপিটাল নিয়ে যেত…

এটুকু পর্যন্ত স্পষ্ট মনে আছে। তারপর কি হয়েছিলো, ঠিকভাবে মনে নেই। তবে শেষ দৃশ্যে আমি দেখেছি, ওই মেয়ে দুইটার বাবার নাম-ছবি দিয়ে আমি ফেক আইডি বানিয়ে চালাচ্ছি। আইডির নাম সুবেদার জাহাঙ্গীর হোসেন। বিভিন্ন তারকার পোস্টে সেই আইডি থেকে কমেন্ট করছি – “স্বামী বিদেশে গিয়ে পাশা খেলছে আর আপনি বাসায় একা একা বিষন্ন জীবন কাটাচ্ছেন? গ্যারান্টি সহ আপনাকে ১০০% সুখী করতে পারি। পরিচয় গোপন থাকবে। ইমো নাম্বার ০১৯*****১২৩”

ঘুম থেকে উঠার পর সেই মেয়ে দুইজনের মধ্যে একজনকে হালকা মিস করলাম। মেয়েটা আমাকে স্বপ্নে রিকশাভাড়া দিয়েছিলো। আজপর্যন্ত কোনো মেয়ের কাছে রিকশাভাড়া চাওয়া হয়নি। কেনো চাইবো? আমি কি রিকশাওয়ালা নাকি !

Comments

comments