নিরন্তর

পার্কের ৩ নম্বর সিটে বসে কেউ দেশ চালানোর সংবিধান নিয়ে চিন্তা না করলেও মন বা‍ঁচানোর সংবিধান নিয়ে ঠিকই চিন্তা করছে। দেখতে ভালে‍া লাগছে ব্যাপারটা। দূর থেকে দেখছি। কাউকে অপেক্ষা করাতে ভালো লাগে। বিন্দুকে অপেক্ষা করানোটা আমার অভ্যাসের মধ্যেই পড়ে। চুপ করে তার পাশে গিয়ে বসলাম !

– আপনি বসলেন কেনো পাশে?

– বসার জন্য পূর্ব অনুমতির কোন সাইনবোর্ড চোখে পড়েনি তাই !

– ভদ্রতা জানেন না?

– বাসে নিশ্চয়ই ভদ্রতা করা যায় না !

– এটা বাস না পার্ক !

– পাবলিক বাস আর পাবলিক পার্ক একই কথা।

– ত্যাড়া কথা বলা আপনার অভ্যাস?

– যেমন রাগ করে সেই আগুনেই পোড়া আপনার অভ্যাস !

– সিগারেট খেয়েছেন নিশ্চয়ই? দূর্গন্ধ আসছে

– কেউ তো বলেনি সুগন্ধ আসছে !

– রাস্তায় কি আজও জ্যাম ছিলো আপনার?

– আপনি যে রাস্তায় এসেছেন, সে রাস্তাতেই এসেছি !

– আমি তো কোনো জ্যামে পড়িনি !

– আমি কি একবারো বলেছি যে আমি জ্যামে পড়েছি?

– তো এত দেরী?
– আমি আপনাকে আপনার বাসা থেকেই ফলো করতে করতে এসেছি।

– তো আমাকে এতক্ষন বসিয়ে রাখার মানে কি?

– দূরে বসে সিগারেট টানছিলাম আর দেখছিলাম! সিগারেটের ধোঁয়ার মধ্যে দিয়ে কাউকে দেখা একটা শিল্প !

– কেনো ! আমার সামনে সিগারেট টানা মানা নাকি?

– মনে নেই, একবার এক প্যাকেট সিগারেট আমাকে গিফট করে সেই সিগারেট আমাকে দিয়েই পুড়িয়েছিলেন?

– আজ খেতে পারেন। বাধা দিবোনা !

বিন্দু কথাগুলো শেষ করার আগেই একটা সিগারেট বের করে ধরালাম ! লাইটারটা বিন্দুরই দেয়া। এত তাড়াতাড়ি সিগারেট ধরিয়েছি দেখে কিছুটা অবাক হয়েছিলো সে। তৎক্ষনা‍ৎ সামলে নিয়েছে নিজেকে, সেটা কিছুটা হলেও বোঝা যাচ্ছে…

– কিছু করছেন? নাকি এখনো মানুষের মন পড়া নিয়েই ব্যস্ত?

– এখনো মন পড়ি

– আমি এখন কি ভাবছি বলতে পারবেন?

– ভাবছেন আমি কেনো রাগ ভেঙে তুমি করে বলছি না !

– বিয়ে করেছো?

– বলেছিলাম করবোনা !

– এখনো একা থাকো?

– কেউ একা রাখলে তো থাকতেই হবে !

কথাটা বলে উঠে দা‍ঁড়ালাম। বিদায় না নিয়েই চলে যাচ্ছি। এতে সে কিছুটা কষ্ট পাবে। বিন্দুকে আগে কষ্ট দিতে খারাপ লাগত। এখন বোধ হয় উল্টো নিজে শান্তি পাই। শান্তিটা অবশ্য মন থেকে আসে না। সিগারেটের ধোঁয়া থেকে আসে। তাকে কষ্ট দেয়ার পর সিগারেট টেনে কিছুটা নতুন পাতার মত সতেজ অনুভূতি হয়। সিগারেট হবে সুখের মন ঔষধ !

কিছুটা দমকা বাতাস দিচ্ছে ! বৃষ্টি হওয়ার সংকেত নয়। গাছেরা তাদের আনন্দ প্রকাশ করছে, অথবা নিজেদের মধ্যে কথা বলছে। গাছ হলে বোধ হয় ভালো করতাম। সব ছেড়ে দূরে সরে যাওয়ার কোন উপায় থাকত না। নিজেদের মধ্যেই থাকতে হত নিরন্তর…

যেই বাতাসে প্রেমিক-প্রেমিকারা রিক্সায় ঘুরে বেড়ায়, সেই বাতাসে বসে কেউ কেউ সিগারেটে এক দুই টান দিয়ে হৃদয়ে বিষ ভর্তি করছে। একে দুঃখের বিষ না বললেও সুখ-আনন্দের বিষও বলে না !

Comments

comments