এরকমই এক ঝড়ের দিনে…

ঠিক ঝড়ের দিনে না, ঝড় শুরু হবার দুদিন আগে। আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে জানানো হলো, ঝড় হবে। সাধারণ ঝড় নয়, বড়সড় ঝড়। মেইনস্ট্রিমে যাকে বলে, প্রলয়ংকারী ঝড়…

আমার মনে হলো, টেনশনের কিছু নেই। মন বলে, কিছু হোক বা না হোক, তবুও একটু খোঁজ নেয়া প্রয়োজন !

কন্টাক্ট বুকে ঢুকলাম। কারো নাম লিখে সার্চ করতে মন চাইলোনা। স্ক্রল করতে করতেই নিচের দিকে গেলাম। নাম পাওয়া গেলো। এগারো ডিজিটের বেশ সুন্দর একটি নাম্বার। সামনে প্লাস ডবল এইট জিরো…

… জিরো বাদে ডিজিটের সংখ্যা দশটা

ফোন দিতে ইচ্ছে হলোনা। দিলাম না। কি হবে ফোন না দিলে? এটা কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় না। জীবনে আরো অনেক কিছু করার আছে। এসব নিয়ে পরে থাকলে চলবে?

মিনিটপাঁচেক বই নাড়াচাড়া করলাম। ঝড় আসলে ভালোই হবে। এই গরমের মধ্যে একটু ঝড়বাদলের দরকার।

…তবে তার আগে খোঁজ নেয়া দরকার।

ম্যাসেঞ্জারে আসলাম। আমার আইডিতে কেউ নেই। ফ্রেন্ডলিস্টে খুবই কম মানুষজন। মাত্র দুইজন। ম্যাসেঞ্জার আর কি স্ক্রল করবো !

নামের উপর টাচ দিলে ম্যাসেজ লিখে ফেললাম, “Is everything okay?”

এত দ্রুত উত্তর আশা করিনি। উত্তর এসে পরলো, “yes everything is okay”

ঝড় শুরু হতে আর ১ দিন বাকি। হবে তো অবশ্যই। কোনো সন্দেহ নেই। আগেকার সময় রাডার দিয়ে ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা বের করা হত। এখন গুগলে Weather লিখে সার্চ দিলেই সঠিক খবর জানা যায়। কয়টা বাজে রোদ উঠবে, কয়টা বাজে বৃষ্টি। একদম টাইম টু টাইম আপডেট। আরেকটু কনফার্ম হওয়ার জন্য আইফোন তো আছেই। এক্যুরেট ওয়েদার আপডেট…

…আমার প্রায়ই মনে হয় বাংলাদেশের আবহাওয়াবিদরা আইফোন চালায়।

যা খুশি চালাক। আরেকবার খোঁজ নেয়া দরকার। ম্যাসেঞ্জারে গেলাম। যা লেখার ইংলিশে লিখবো। বাংলা লেখা যাবেনা। পার্টের ব্যাপার…

– Shob thikthak?
– ki shob?
– Weather, elakar obostha
– shob e thikthak

রাতে কি করেছিলাম মনে নেই। বেশ আগের কথা। অনেক বছর পেরিয়ে গেছে। মনে রাখার উপায় নেই। ঘুম থেকে উঠে দেখি ঝড় হচ্ছে, সাথে মূষলধারে বৃষ্টিও হচ্ছে। ঝড়ে জানালার গ্লাস একটা ভেঙে পরে গেছে। জানালার পাশেই খাট। রাতে বই পড়ে একপাশে রেখে দিয়েছিলাম। পানির ঝাপটা এসে বইয়ের কভার ভিজে গেছে।

…বইয়ের নাম, The Wild Truth !

ম্যাসেঞ্জারে আসলাম। ম্যাসেজ লিখলাম, Thik ache shob?

সেন্ড হয়েছে একটায়। এরইমধ্যে দুঘন্টা পার হয়ে গেছে। কোনো উত্তর আসেনি। কিছুটা দুশ্চিন্তায় পরে গেলাম। বার্তাগ্রাহকের এলাকা এমনিতেই দুর্যোগপ্রবণ। ঝড়ঝাপটাগুলো সব ওদের উপর দিয়েই যায়। দুশ্চিন্তা হবারই কথা…

ওই এলাকার যাকে যাকে চিনি, সবাইকে ম্যাসেজ দিলাম। যতজনের সাথে পরিচয় ছিলো, নক দিলাম। টিভি অন করে লোকাল নিউজপোর্টালগুলোয় গিয়ে উপর নিচ খুঁজতে থাকলাম, চোখে পরার মত কোনো খবর পাওয়া যায় কিনা। কিছুই পেলাম না। কাউকেও না…

বিকাল হয়ে গেছে। খাবার সামনে নিয়ে বসে আছি। খাবো কিনা ভাবছি। এরমধ্যেই ফোনের স্ক্রিন জ্বলে উঠলো…

“apnar somossa ki bujhlam na”

হঠাৎ এরকম ম্যাসেজ দেখে একটু অবাক হলাম। অপ্রস্তুত হয়ে যাবার মতই বিষয়। কি লেখা যায় ভাবতে ইচ্ছে হলোনা। মনে যা ছিলো, তাই লিখা দিলাম –

“খোঁজখবর নিলাম। ওদিকে নাকি সাইক্লোনের এসেমব্লেজ বেশি। আচ্ছা, বিরক্ত করবোনা”

ম্যাসেজ পাঠানোর পর খেয়াল করলাম, বাংলায় লিখে ফেলেছি। ব্যাপার নাহ…

দুপুরের খাবারটা আর খাওয়া হলোনা। রাত হয়ে গেছে, রাতেই খাবো। ঝড়ে পুরো দেশ বিধ্বস্ত। বাকি আঠারো কোটি পরিবারের খোঁজ নিতে হবে। এই মুহূর্তে আর হাত পা গুটিয়ে বসে থাকলে চলবেনা…

…খোঁজ নেয়ার সবচেয়ে ভালো উপায় কি?

Comments

comments