সকাল থেকে তিন ছাত্রকে ঘাড়াইলাম। এরা এসএসসিতে ফেইল করেছে। আমার ছাত্র না। আমার এক বন্ধুর ছাত্র। সে টিউশনি করে। পিচ্চি তিনটা তিন পরিবারের। এদের তিনজনেরই আবার একটা করে বোন আছে। বোনের সাথে কামরুলের অবৈধ আতাত চলে। তাই সে এই তিন পিচ্চিকে পড়ায়। সম্পর্কের প্রতি কামরুল বেশ শ্রদ্ধাশীল। পিচ্চি শূয়রের বাচ্চাগুলা তা বুঝেনা। খারাপ রেজাল্ট করে গৃহশিক্ষককে ফাঁসাতে চায়। ওদের ঘাড়ানো ফরজ…

আমি সচরাচর ফুটপাত ধরে হাঁটিনা। ইদানিং ফুটপাত ব্যবহার না করলে ম্যাজিস্ট্রেট এসে জরিমানা করে, ধমক দেয়। পাশে থাকা হাবিলদার, সেও খায়েশ মেটাতে ব্লাকটেপ পেঁচানো লাঠি দিয়ে ব্যাক্সাইডে বাড়ি দেয়। আমি ফুটপাত ধরেই হাঁটছি। হেঁটে গুলশান ১ থেকে গুলশান ২ এ যাচ্ছি। উবারে রাইড রিকুয়েস্ট পাঠিয়ে রেখেছিলাম। ড্রাইবারের নাম হাবিব। তার কল আসলো…

পকেট থেকে ফোন বের করতে করতেই কপালে ঢুসা খেলাম। খেয়ে বসে পরলাম। এরপর একমিনিট কি হয়েছে, আর মনে নেই। সাথে ছোটভাই ছিলো। সেন্স আসার পর দেখলাম, সে পকেট থেকে ফোন বের করে চুলের ফাঁকে টর্চলাইট মারছে। জিজ্ঞেস করলাম, গর্তটর্ত দেখা যায়? ব্রেইন দেখতে পাও?

ছোটভাইবললো, চামড়া ছিলে গেছে। তেমন কাটেনি…

পাশের বিল্ডিংয়ের দারোয়ানকে দেখলাম, অন্যদিকে ফিরে দাঁড়িয়ে আছে। সে ভেবেছে, আমি তার কাছ থেকে জরিমানা নেবো। ছোটলোক হারামজাদা। আমি রাস্তা থেকে উঠে তার কাছে গিয়ে ভং ধরলাম…

“মামা, আমি কোথায়?”

দারোয়ান আমার দিকে শূয়রের দিকে তাকালো। আমিও তাকালাম। তারপর সে নিজ থেকেই বলতে শুরু করলো – “ফেনীর ঘূর্ণিঝড়ে এই গাছ নুইয়ে গেছে। কাইটা নেয়ার লোক নাই”

“তুই কাটস নাই হারামজাদা? তোরে কি বেতন দেয়না? তোর ছবি তুলে আজকে আপলোড দিয়ে মানুষরে শেয়ার দিতে বলবো। তুই জানস আমি কে?”

ছোটলোকটা ভয় পেয়ে গেলো। আমি হাঁটতে শুরু করলাম। ততক্ষণে উবার চলে গেছে…

… কালকে রোজা। কপালে ব্যথার কারণে প্রথম তারাবীটা আর পড়া হলো না। আম্মাকেও বলসি, “আমি কোথায়? রাতে ডাইকোনা। আমি ঘুমাবো। আরেকদিন রোজা রাখবো।”

আম্মা গালি দিতে দিতে তার রুমে চলে গেছে। রমজানের মাসে মানুষকে গালাগাল করা কি ঠিক?

Comments

comments