ধুমপান করতে এসে ভুলে বুয়ার পেটের উপর পারা দিয়ে ফেলেছি। বুয়া ভয় পেয়ে বনমোরগের মত চেঁচাতে নিয়েছিলো। অল্পের জন্য পারেনি। ভাগ্যিস তার মাথা থেকে কয়েক গজ দুরেই মোজাম্মেল বসেছিলো। সে বুয়ার মুখ চেপে না ধরলে কি একটা বাজে সিচ্যুয়েশন ক্রিয়েট হত, ভাবতেই পারছিনা। এজন্যই সবসময় বুয়াকে বলি, বুয়া লাইট জ্বালিয়ে শোও…

… মোজাম্মেল এত রাতে কিচেনে কি করছে, সে বিচার পরে হবে। আগে তিনটার ফ্লাটের নতুন ভাড়াটিয়াদের ঘুম ভাঙানো দরকার। এ বাসার মেয়েটার নাম মৌসুমী। শালি ভিকারুননেসায় পড়ে। হাহাহা খুব দুষ্ট !

আমি তাদের দরজার সামনে গিয়ে রিপনের পেজে ঢুকে তিন নম্বর ম্যাশআপ ভিডিওটা প্লে করলাম –

“বন্ধু তুমি একা হলে আমায় দিও ডাক
তোমার সাথে কথা বলবো আমি সারারাত
আসসালামুআলাইকুম…”

কোনো সাড়াশব্দ নেই। সপরিবারে সুইসাইড করলো না তো? আমি দ্বিধায় পরে গেলাম। রিপনের আরেকটা ভিডিও প্লে করলাম –

“আসসালামুআলাইকুম
তুমি আমার কাছে কি চাও? টাকা না ভালোবাসা? আমাকে বলো চাই, আমার জানোনের খুব দরকার।
আমাকে জানাও নাকি?”

এবারও ভেতর থেকে কোনো রেসপন্স এলো না। বাধ্য হয়ে “আরে ওই হমুন্দির পোলা দেলোয়াইরা” বলে চিৎকার করে দরজায় বাড়ি দিয়ে দৌড় দিলাম। একমিনিটও দাঁড়ালাম না…

… দৌড়াতে দৌড়াতে হাঁপিয়ে গেছি। এক দৌড়ে নিচে এসে পরেছি। আরেকটু হলেই সিদ্দিকের উপর হুমড়ি খেয়ে পরতাম। শুয়রের বাচ্চাটা ঘুমাচ্ছে। দায়িত্বজ্ঞান বলে কিছু নাই হারামজাদার। রোজা না রাখবি, না রাখ। বাড়িটা তো পাহারা দিবি ঠিকমত। নাকি?

আমি তাকে দরাজ কন্ঠে ডাকলাম, “সেদ্দেক? সেদ্দেক? ওঠো। সেদ্দেক?”

উঠেনা। এবার মায়াবী সূরে ডাকলাম –

“উঠো রোজাদার জাগো রোজাদার
সাহারীর সময় হইয়াছে ঘুমাইয়োনা আর”

ফাদারফাকার এইবারো উঠলোনা। মেজাজটা খারাপ হয়ে গেলো। আমি আবারো রিপনের পেজে ঢুকলাম। ঢুকে ২৬ নম্বর ভিডিওটা প্লে করে সিদ্দিকের কানের কাছে ধরলাম –

“মাংস কাটার ব্যাপারী ভাই কাইট্টা দিমু নলি
তোমার লাইগা করতে পারি ছয় রাউন্ডের গুলি”

সিদ্দিক এবার লাফিয়ে উঠলো। উঠে নাচা শুরু করলো। দেখে মনে হবে, নতুন কুড়ি থেকে উঠে এসেছে।

তার নাচ দেখে আমি আর নিজেকে সংযত রাখতে পারলাম না। আমিও নাচলাম। একজন আরেকজনের ডান পায়ের সাথে বাম পা গিট্টু দিয়ে চক্কর মারতে মারতে গোলাকার হয়ে নাচলাম। কিন্তু পনেরো সেকেন্ড পরই আউট হয়ে গেলো। ফুলস্ক্রিন থেকে আউট হয়ে ভিডিওফ্রেম বাইরে চলে এসেছে, অর্থাৎ থেমে গেছে…

সেহরীর আর বিশ মিনিট বাকি। এই মুহুর্তে আর সময় নষ্ট করা যাবেনা। সিদ্দিককে রেখে আমি উপরে চলে এলাম। সিদ্দিক এখনো নাচছে। তার জুতার তালে তালে প্রতিবেশীদের ঘুম ভেঙে গেছে।

আজকে আর এলাকায় ভবঘুরে যুবকদের প্রতিদিনকার সেই এক বয়ান শোনা যাচ্ছেনা –

“উঠো রোজাদার জাগো রোজাদার
সাহারীর সময় হইয়াছে ঘুমাইয়োনা আর”

… ওরাও নাচতে নাচতে বাসায় চলে গেছে 🙂

Comments

comments