এলাকার চা দোকানে গিয়ে দেখি, পোলাপান সব জড়ো হয়ে চা সিগারেট খাচ্ছে। দেখেই মেজাজ খারাপ হয়ে গেলো। পর্দা টান দিয়ে খুলে ফেললাম। লাথি দিয়ে বেঞ্চ ফেলে দিলাম। বেঞ্চে বসা তিনটি ছেলেই একসাথে মাটিতে পরে গেলো। জুতা দিয়ে বাইরানোর ভয় দেখালাম তাদেরকে। বিল না দিয়েই সবাই পালিয়ে গেলো। একপর্যায়ে আমি ক্লান্ত হয়ে রাস্তা পার হয়ে চলে আসলাম। অন্য দোকানে এসে বসলাম…

… এই গরমে একটু কোমল পানীয় না খেলেই নয়। দোকানদাররে বললাম, মামা একটা রেডবুল দাও। দোকানদার বললো, গরমের মধ্যে ছাইপাশ না খায়া একটা পানির বোতল দেই, স্যালাইন মিলায়ে খান।

আমি দোকানদারের কপালে চুমু দিয়ে বললাম, ঠিক বলেছ বন্ধু…

দোকানদার টেস্টি স্যালাইন মিশিয়ে ঝাকি দিয়ে এক বোতল পানি আমার কাছে হ্যান্ডওভার করলো। আমি বোতলের মাথা খুলে পানি খেতে শুরু করলাম। মুখ লাগিয়ে গেলাম…

মুখ লাগিয়ে পানি খাওয়ার মধ্যে একটা অন্যরকম স্বাদ আছে। বোতলের পানি মুখে ঢুকবে। মুখের পানি বোতলে। সেই বোতল হাত থেকে ছিনিয়ে নিয়ে পানি খাবে এলাকার ফকিরনির পোলারা…

আমি পানি খাচ্ছি। চারপাশে কালো পর্দাবেষ্টিত নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা দোকান। পর্দায় একটি ছিদ্রও আছে। কোনো এক দুষ্ট ছেলে হয়ত কিছু একটা দিয়ে অনবরত খুচিয়ে এই গর্তটি করেছে। আমি ছিদ্রটি দিয়ে এক জোড়া চোখ দেখতে পেলাম। কুকুর টুকুর হবে হয়ত। গরমে চাঁদি শুকিয়ে যাওয়ায় পানি খেতে এসেছে…

…হঠাৎ করে কে যেনো বলে উঠলো, টুকি !

আমি শিউরে উঠলাম। কিছু বুঝে উঠার আগেই একদল বদমাইশ ছেলে টানাহ্যাঁচড়া করে দোকানের সামনে লাগানো পর্দা খুলে নিয়ে চলে গেলো। পানির বোতল মুখে লাগানো অবস্থায় ভরা মজলিশে সবার সামনে বেরোজদার প্রমাণিত হয়ে গেলাম…

বোতলের ফাঁকে ঠোঁট আটকে গেছে। কোনোভাবেই বের করা যাচ্ছেনা। কি এক বিব্রতকর অবস্থা…

…ঠোঁটে বোতল লাগানো অবস্থায়ই হাঁটতে হাঁটতে বাসায় চলে এসেছি। এ অবস্থায় ডাক্তারের কাছে যাওয়া যাবেনা। পথচারীরা দেখলে হাসবে। ডাক্তারের নাম্বারে ফোন দিলাম। অন্যদিন ফোন ধরলে দেরী করলেও আজ নগদেই ফোন ধরে ফেললো। কিন্তু লাভ হলোনা। বোতলে ঠোঁট আটকে থাকায় কথা বলতে পারলাম না। উহ আহ করলাম।

ডাক্তার বললো, ‘তুমি যা ভাবছো আমি তা নই। শালা রোজার দিনেও ভালো হলেনা…’

… রোজা না রেখে কি এক মুসিবতে পরলাম। সমাজে মুখ দেখানো যাচ্ছেনা !

Comments

comments