এলাকার মসজিদ থেকে ইফতারের দাওয়াত দিয়েছে। এরজন্য অবশ্য চাঁদাও চেয়েছিলো। আমি দেইনি। মসজিদ কমিটির লোকেরা যখন চাঁদা তুলতে দরজায় এসেছিলো, আমি মুঠোফোনে ভিডিও অন করে তাদেরকে ভয়ভীতি দেখিয়েছি। বলেছি, এই ভিডিও টিকটকে আপলোড করে ভাইরাল করে দিবো। আসলে তো হুদাই। কিছুই ভিডিও করিনি। আমার ফোনে ছবি তোলার জায়গায়ই নাই। ভিডিও করবো কোত্থেকে। মেমরি ফুল…

কমিটির নেতা সোহেল বললো, পোলাপান বুঝে নাই। দুষ্টমি করে চাঁদা চাইসে। কোনো টাকাপয়সা দিতে হবেনা। সবাইকে নিয়ে যেনো ইফতার করে আসি…

আমাদের বিল্ডিংয়ে হিন্দু বৌদ্ধ মুসলিম সব মিলিয়ে ১৮টা পরিবারের মোট ৩৫টা বাচ্চা আছে। সোহেল বলেছিলো সবাইকে নিয়ে ইফতারে যেতে। তার কথামত, আমি সবাইকে নিয়ে ইফতারে গেলাম। ইফতার করে আসলাম। বাচ্চাগুলোর ইফতার খাওয়া দেখে আমার মনটা ভরে গেলো। গরিবের বাচ্চারা কতদিন খায়না, আল্লাহ জানে। মন ভরে খাচ্ছে, সে কি অপূর্ব দৃশ্য…

…খাবারে শর্ট পরেছে। মুসল্লিরা সবাই ইফতার পায়নি। এ নিয়ে ব্যাপক কানাঘুষা চলছে। আমি ৩৫টা বাচ্চাকে বাসায় পৌঁছে দিলাম। রাস্তা দিয়ে হাঁটার সময় মনে হলো একদল ছাগলের পাল নিয়ে খামারে যাচ্ছি। অনেকেই জিজ্ঞেস করলো, এগুলা কার বাচ্চা?

… আমি বললাম, শূয়রের।

সোহেলের মন খারাপ। দেখলাম এক চায়ের দোকানে বসে আছে। আনমনে কাকে যেনো গালাগালি করছে। এখন ওর কাছে যাবো। ওর কি কি সমস্যা আছে, সব শুনবো। একটা মানুষ নিজে থেকে ডেকে নিয়ে ইফতার খাওয়ালো। ওর দুঃখের সময়ে যদি পাশে না থাকি, তাহলে এই খাবার হজম হবেনা।

…থাকো তোমরা। আমি যাই, সোহেলের সাথে কথা বলে আসি।

ইফতার মোবারাক 🙂

Comments

comments