মাদ্রাসার ছাত্রদের নিয়ম হচ্ছে সুস্থ্য থাকা অবস্থায় অবশ্যই রোজা রাখতে হবে। রোজা মিস দেয়া চলবেনা। এর মাধ্যমে তাদেরকে রমজান মাসে রোজা রাখায় অভ্যস্ত করা হয়। আমার বাসা থেকে দুই বিল্ডিং পরেই একটা ইনডোর মাদ্রাসা।

মাদ্রাসার হুজুরকে আমার বিরাট অপছন্দ। আমি শুনেছি, যে সালাম আগে দিবে, তার বেশি সওয়াব হবে। কিন্তু এই মৌলভী জীবনেও আমাকে আগে সালাম দেয়নি। আমার আশেপাশে কেউ না থাকাকালীন আমি কয়েকদিন তাকে আগে সালাম দিয়েছি। সে কন্ঠনালী প্রয়োগ করে সালামের উত্তর না দিয়ে মাথা ঝুঁকিয়ে সালাম গ্রহণ করে…

তবুও আমি অ্যাডভান্স সালাম দিয়ে গেছি। ভেবেছি, এতে করে হয়ত আমার সাথে বা আশেপাশে কেউ থাকাকালে যখন আমি তাকে আগে সালাম দেবো না, তখন সে আমাকে আগে সালাম দিবে। আমি মাথা ঝুঁকে সালাম গ্রহণ করে পার্ট নেবো…

…কিন্তু এই লোক আজ তা করলোনা। আতা মাজি সাটাকলি। মানে, মাথা গরম হয়ে গেলো !

মেজাজ খারাপ হয়ে আছে। সিদ্ধান্ত নিয়েছি, মেজাজ খারাপ থাকার বিষয়টা বুঝাতে তেহারীর দোকানে গিয়ে পার্ট নেবো। ভিতরে ঢুকে বলবো, জাফর তেহারী দে। পারলে একটা পিস্তল এনে দে। আজ মৌলভীরে গুলি করে রোজা ভেঙে ফেলবো…

কিন্তু ভিতরে ঢুকে যা দেখলাম, তাতে আমার মাথা থেকে কোমড়ের নিচতলা পর্যন্ত শিহরণ বয়ে গেলো। ওই মাদ্রাসার তিন ছাত্র ভেতরে বসে তেহারী খাচ্ছে। আমাকে দেখেও তারা থামলোনা বা হুড়মুড় করে দৌড়ে পালিয়ে গেলো না।

…অথচ তাদের ইফতার-সেহরি করানোর জন্য এইতো সেদিন এলাকার উন্নয়ন কমিটি থেকে ১০০ টাকা করে চাঁদা তুলে নিয়ে গেলো !

টাকা জলে যাবার শোকে আবারো আতা মাজি সাটাকলি। মানে আমার মাথাটা গরম হয়ে গেলো…

শুনেছি মাদ্রাসার ছাত্ররা কোমলমতি হয়। বাইরের জগৎ সম্পর্কে তাদের ধারণা খুবই কম। তাই আমি মাসুদের টেইলার্সের দোকান থেকে ট্রাফিক পুলিশের ড্রেস চুরি করে নিয়ে এলাম। বাচ্চু ভাইর হুন্ডার হেলমেট সাদা রংয়ের। ওইটাও চুরি করে নিয়ে এলাম। পুলিশের ড্রেস পাবো কই ! তাই ট্রাফিক পুলিশের ড্রেস পরেই পরিপাটি হয়ে তেহারীর দোকানে ঢুকলাম ওদেরকে ভয় দেখানোর জন্য। যদিও জামাটা ঢিলে হলো। ঢোলা জামা পরেই ওদেরকে গ্রেপ্তার করার ভয় দেখাতে ভেতরে ঢুকলাম…

টেবিলের সামনে গিয়ে হারামজাদাদের বললাম, “হ্যান্ডস আপ ! তোমরা রাতে সেহরি করে এখন তেহারী খাচ্ছো কেনো ! শালা বেরোজদার। তোমাদেরকে জেলখানায় নিয়ে তরমুজ দিবো।”

আমি তাদেরকে ডিম থেরাপীর বদলে তরমুজ থেরাপী দেয়ার ভয় দেখালাম। শালারা ভয়ে কুঁকড়ে গেলো। টেবিল থেকে উঠে তিনজনই আমাকে জড়িয়ে ধরে বললো, “ভাই আর এমন হবেনা। আমরা বরিশালের ছেলে, থাল ভরে ভাত না খেলে মাথা ঠিক থাকেনা। স্যরি ভাই আর রোজা ভাঙবোনা। আজকে থেকে সবগুলা রোজা রাখবো”

…ওদের জাবড়াজাবড়িতে আমার বডি থেকে ট্রাফিক পুলিশের ইউনিফর্ম খুলে গেলো। ভাগ্যিস ভেতরে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের লোগো সংবলিত লাল প্যান্ট ছিলো।

ওদের এই কর্মকাণ্ডের ভিডিও করে রেখে দিয়েছি। আজকে মৌলভিরে ধরবো। কমিটিতে ওরে ডাকায়ে বলবো, “দুষ্টটা আমাকে সালাম দেয় না। ইফতার-সেহরির টাকা নিয়ে ছাত্রদের খাওয়ায়েও রোজা রাখাইতে পারেনা। ও একটা ব্যর্থ। ওকে তাড়িয়ে দাও” !

… আগে মৌলভিকে ফোন দেই। দেখি দু চার বিশ পঁচিশ হাজার টাকা ফিটিং দেয়া যায় কিনা 🌸🦍

Comments

comments