রাজিবরে তো আমি মারবো। রাজিব আমার হাতে মার খাবে। শালা আমার হাতে পায়ে ধরে তেলপানি মেরে আমাকে দিয়ে অ্যাকাউন্ট খোলাইসে। এমন সব মিষ্টি মিষ্টি কথা বলসে, যেনো সে আমার রক্তের ভাই। কেউ হয়ত আমার আব্বার মুখোশ পরে ডাকপিয়নের ছদ্মবেশে তাদের বাসায় গিয়েছে। সেই ডাকপিয়নের উড়োচিঠিতেই রাজিব চাকলাদারের জন্ম…

রাজিবকে আমি হুদাই ‘চাকলাদার’ বলে ডাকি। সামনাসামনি ডাকিনা। আড়ালে ডাকি। এই চাকলাদার শব্দের ইতিহাস ঘাটতে গিয়ে আমি জানতে পারলাম, চাকলাদার মানে হচ্ছে “চাকলা ভোগকারী, ইজারাদার, অথবা মুসলমান আমলে প্রাপ্ত হিন্দুর উপাধিবিশেষ” !

হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কোনো ধর্মাবলম্বীদের নিয়েই আমার সমস্যা নেই। তবে আমি খুব জোর গলায় বলতে চাই, রাজিব একটা ইহুদী। রাজিব জিউইশ। ওই যেখানে অফিস করে, ওর অফিসের সামনে একটা গর্ত খুঁড়তে হবে। দিনে নয়, রাতে। দিনে খুঁড়লে দেখে ফেলবে। সতর্ক হয়ে যাবে। কারণ সে ধুরন্দর, সে একটা হারামজাদা। দুপুরে লাঞ্চ আওয়ারে যখন অফিস থেকে দেয়া তরকারী তার পছন্দ হবেনা, সে তখন নিচে নামবে। সে তো গরিবের রক্তশোষনকারী। খাসির চাপ ছাড়া খেতে পারেনা। রাজিবকে তখন লাইত্থায়ে খাদে ফেলে দিবো। ভয়েস রেকর্ডার চালু করে গর্তে শুয়ে থাকা রাজিবের দিকে তাকিয়ে বলবো, এই গর্ত তুই নিজে খুঁড়সস। নিজের খাদে নিজে পরসস। সরকারী রাস্তায় গর্ত খুঁড়ে জনগণকে ননসেক্সুয়াল হ্যারাজমেন্ট করার দায় তোরেই নিতে হবে।

এইটা বলেই একটা আস্তা ইটা তুলে নিয়ে তার বুকের উপর ছুঁড়ে মারবো…

চাকলাদারের ডেফিনেশন খুঁজতে গিয়ে আমি “চাকলাদার পরিবহণ” নামে একটা পাবলিক ট্রান্সপোর্টেশন কোম্পানিরও সন্ধান পেলাম। খুব সম্ভবত এরা বরিশাল, খুলনা, যশোর, বেনাপোল পোর্টের যাত্রী বহন করে…

এই গাড়ির পেছনে রাজিবরে বেধে একটা বড় মসৃণ লাঠির ভয় দেখাবো। বলবো যে, তোরে এই মসৃণ লাঠি দিয়ে বাইরাবো, যাতে ছালবাকলা না উঠে…

রাজিব তো পাষাণ। সে ভয়ে কাঁদবেনা। আমি তার মুখে আঠা লাগিয়ে দিবো যাতে সে মন খুলে কাঁদতে পারে কিন্তু কান্নার আওয়াজে কারো ঘুমে ডিস্টার্ব না হয়। অন্য একটি লাঠি এনে তার বুকে বেশ কয়েকটি বাড়ি দিয়ে আমি তাকে কাঁদাবো। এরপর আর এক মুহূর্তও দেরি করবোনা। জিজ্ঞাসাবাদ পর্বে চলে যাবো…

* অ্যাকাউন্ট খোলার সময় কি বলছিলা তুমি? লাভের টাকা দিয়ে দুইটা সংসার চালাতে পারবো। দুই বিয়ে তো পরের কথা। আউটস্টান্ডিংয়ের সাথে যেই চার্জ নিচ্ছো, গায়ে দেয়ার সাবান কিনতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে এখন।
* বলছিলা তোমার ব্যাংকের স্টেটমেন্টের ভ্যালু এতই বেশি যে, ইউএস এম্বাসি আমার চেহারা দেখেই ভিসা দিয়ে দিবে। আমার থাই ভিসা রিফিউজ হলো কেনো? বলো, জবাব দাও।
* বলছিলা অ্যাকাউন্টে টাকা না থাকলেও দশলাখ টাকার স্টেটমেন্ট, সলভেন্সি দিবা। অথচ বছরের শুরুতে ক্যালেন্ডার চাইতে গেসি দেখে তুমি বাথরুমে গিয়ে আধাঘন্টা কাটায় দিলা। তুমি কি মানুষ? তোমার নাকে নিচে ওইটা কি ঠোঁট? নাকি বান্দরের ব্যাক্সাইড?

এইটা বলেই তার কানসা বরাবর দশ পনেরোটা বনচটকনা মেরে বাসের ড্রাইভারকে ফোন দেবো। ‘সোলায়মান গাড়ি স্টার্ট দাও। জানোয়ারটাকে ভারতে পাচার করে দিয়ে আসো” !

হেল্পারকে ডেকে বলবো, “তোমার কাজ হচ্ছে ওর জামাকাপড় খুলে পুরা বডি চেক করা। কোনটা আসল মুখ আর কোনটা নকল, তুমি খুঁজে বের করবা। যেটা আসল মনে হবে, সেখান দিয়ে এই ভিসা ক্রেডিট কার্ডটা ঢুকিয়ে দিবা। নাও এইটা ধরো।”

কার্ড হাতে নিয়েই হেল্পারের শরীরে শিহরণ বয়ে যাবে। মারা খেলে যেই ফিলটা হয় আরকি…

Comments

comments