সেহরির সময় হয়েছে। আমরা পরিবার পরিজন নিয়ে ডাইনিং টেবিলে সেহরি খেতে বসেছি। প্রতিদিনই আমরা সপরিবারে বাসার দারোয়ান সিদ্দিককে সেহরি দেয়ার কথা ভুলে যাই। না খেয়ে রোজা রাখতে রাখতে বদমাশটার শরীর শুকিয়ে গেছে। যেসব রিকশাওয়ালাদের সাথে তর্কাতর্কি করে ভাড়া না দিয়ে বাসায় চলে আসি, তাদেরকে কুত্তার মত পিটাইতে পারেনা। হেরে যায়। তাই আজকে খাওয়ার আগেই এটা মাথা রেখে দিয়েছি, যে করেই হোক সিদ্দিককে আজ সেহরি দিতে হবে…

…কিন্তু ডাইনিং রুমে গিয়ে টেবিলে খাসির রান দেখে আর কিছু মনে ছিলো না। উত্তেজনায় ভুলেই গেছি যে নিচে একটা কাঙ্গাল আছে। তাকে খাবার দেয়া লাগবে !

যাই হোক, খাসির লেগ পিসে তিন কামড় দেয়ার পর মনে পরলো সিদ্দিককে সেহরির খাবার পাঠানোর কথা। আব্বা বুয়াকে বললো, ‘বন্যার মা একটা প্লেট নিয়ে আসো। ওখান থেকে একটা নান আর লেগ পিস নাও। সিদ্দিককে দিয়ে আসো।’

আমি তাড়াতাড়ি করে উঠে একটা পলিথিন এনে নিজের প্লেট থেকে অর্ধেক খাওয়া কাসুন্দি মাখানো লেগপিসটা ভরে পলিথিনের মুখ বেধে জানালা দিয়ে সিদ্দিকের নিকট ছুঁড়ে মারলাম।

চারতলা থেকে পলিথিন পরার শব্দে সিদ্দিক চমকে উঠলো এবং উপরের দিকে তাকালো। আমি আঙ্গুল দিয়ে ইশারা করে চেঁচিয়ে বললাম, “সেদ্দেক, ওটা খা। সেহেরি সেহেরি। তোর জন্য এটা” !

নিকষ কালো অন্ধকারের মাঝেও সাদা রং দেখে বুঝতে পারলাম, সিদ্দিক খাবার পেয়ে খুব খুশি হয়েছে। খুশিতে তার ৩৬টা দাঁত বেরিয়ে এসেছে…

বুয়া একটা নানরুটি নিয়ে এগিয়ে এলো। “বললো, একটা রুটি দিয়া দেন স্যার।”

আমি শিশ বাজিয়ে সিদ্দিকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে রুটিটা ছুঁড়ে মারলাম। যাক, একটা ঝামেলা কমলো…

… টেবিলে ফিরে এসে নতুন লেগপিস প্লেটে তুলে নিলাম। আব্বা বললো, তুই এটা কি করলি?

আমি ভয় পেয়ে গেলাম। ভীত মনে জিজ্ঞেস করলাম, কি করেছি আব্বা?

“জানোয়ারটাকে খাবার দিতে গেলি কেনো? এগুলা কি টাকা দিয়ে কিনে আনছিনা?” !!

আব্বার কথা শুনে মনটা ঠান্ডা হয়ে গেলো। একটা জিনিস আছে, এখন নাম বলা যাবেনা। পরে বলবো। ওটা উত্তেজনায় টয়িং করে লাফিয়ে উঠলো। যাত, ভালো হয়েছে। এ মাসের বেতন থেকে খাসির লেগপিস বাবদ ৩৮০টাকা কেটে রাখবো…

নান রুটির ২০ টাকা মাফ। ওটা নেবো না। ওতটা নির্দয়ও আসলে আমি নই, যতটা তোমরা ভাবছো 🙂

Comments

comments