নোয়াখালী ট্রলের পেছনে আসল ঘটনা জানতে পারলাম। দুপুরে বাসা থেকে বেরিয়ে বাইরে হাঁটাহাঁটি করতেসি। কি করবো, কাজ নাই। বিভিন্ন দোকানে দোকানে গিয়ে টহল দিচ্ছি, এলাকার ছোট ভাইব্রাদার কেউ সিগারেট খাচ্ছে কিনা। কোনো দোকানেই পরিচিত এমন কাউকে পেলাম না। পেলাম নোয়াখালীর এক ছেলেকে। এইটারেই ধরে ঘাড়াইলাম…

সে একটা চা দোকানের ভিতর বেঞ্চে বসা ছিলো। আমি পর্দা উল্টায়ে দেখি সে নেভি খাচ্ছে। নেভি সিগারেটের ভোমড়া গন্ধে দোকানের ভিতর থাকা যাচ্ছেনা। আমি ফ্রিজ থেকে একটা দেড়লিটারের মাম পানির বোতল নিয়ে হারামজাদাকে বাইরানো শুরু করলাম। সে চিৎকার করার বদলে আমাকে অবাক করে দিয়ে বললো, “হ ভাই আমিই আমিই…”

‘কি আমিই?’

“নোয়াখালী নিয়া ট্রল করে যে। ওইটা আমিই”

ওর কথা শুনে আমি ঘাবড়ে গেলাম। শালা বলে কি ! আমি ওর ঘাড়ে থাবড় দিয়ে বললাম, “তুই না নোয়াখালীর ছেলে? তোর কথাবার্তা, ফন্ট, ল্যাঙ্গুয়েজ শুনে তো মনে হয় তুই নোয়াখাইলা। নিজের জেলা নিয়ে ট্রল করস ক্যান?”

সে বললো, “ভালো লাগে ভাই। সবসময় আলোচনায় থাকতে ভালো লাগে। যেখানেই যাই, দাম পাই। মানুষ আলাদা চোখে দেখে !”

কথা আদায় করতে আমি তাকে আরেকটা নেভি সিগারেট কিনে তার ঠোঁটে ঢুকিয়ে আগুন ধরিয়ে দিলাম। বন্ধুসুলভ আচরণের মাধ্যমে তাকে জিজ্ঞেস করলাম, “এগুলা কেনো করো বন্ধু? অন্যরা যখন ট্রল করে, তখন খারাপ লাগেনা?”

সে শূয়রের মত করে মুচকি হেসে বললো, “মানুষ নোয়াখালী নিয়ে ট্রল করলে আমরা মজা পাই। আমিই প্রথম নোয়াখালী নিয়া ট্রল শুরু করছি। এখন যেকোনো জেলায় গেলে আমি সম্মান পাই। ফেসবুক প্রোফাইলে হোমটাউন নোয়াখালী লেখা দেখলে মানুষজনও খুব ফলো করে, ট্রল পেজে মেনশন কইরা পঁচায়। ফলোয়ার বাড়ে। সব মিলায়া ভালোই লাগে।”

‘তোমার নাম কি বন্ধু’

“আমার নাম লোকমান”

এ কথা বলেই সে সিগারেট মুখে লাগিয়ে আয়েশ করে আরেকটা টান দিতে নিলো। সাথে সাথে আমি তার সিগারেট সহ থোতা বরাবর একটা ঘুষি দিলাম। ঘুষি দেয়ার সময় দোকানদারের লুঙ্গি খুলে হাতে পেঁচিয়ে নিলাম, যাতে ওর দাঁতের খোঁচা লেগে আমার হাতে ইনফেকশন না হয়…

অনেকক্ষণ মারলাম। মারা থামিয়ে আমি পাশের দোকানে যাওয়ায় সে ভেবেছে আমি চলে গেছি। সে শোয়া থেকে উঠে বসেছে কেবল। আমি পাশের দোকান থেকে ফিল্টার পানির মেশিন এনে তার উপর আছড়ে ফেললাম। ২০ লিটারি বোতল লাগানো ছিলো ফিল্টারে। ওইটাও তুলে এনে তার হাঁটুর উপর ফেললাম। সে খুব সম্ভবত একটু ব্যথা পেলো। যতদুর জানি, প্রিয় জেলা নোয়াখালীর মানুষরা খুব সহনশীল। তাদের সহ্যক্ষমতা বেশি। এজন্যই ওদেরকে আমার এত ভালো লাগে…

… যাক, একটা রহস্যের জট তাহলে খুলে গেলো। আজ থেকে আর নোয়াখালী নিয়ে কারো ট্রল পোস্টে লাইক দেবো না।

Comments

comments