ত্রিদেশীয় সিরিজ না কি যেনো একটা ম্যাচ হইসে গতকাল। আমি তো ক্রিকেট বুঝিনা। সেই ছোটকাল থেকে খেলা দেখার মত সময়ই আমার নাই। বিরাট বিজি মানুষ…

এই খেলা নিয়ে গতকাল রাতে একজনকে ভুল বুঝাইলাম। ঘটনার সুত্রপাত ইফতারের পর, ঝড়ের সময়; যখন আমি হোটেলের মেসিয়ারকে পেটানোর জন্য প্যান্টের বেল্ট খুললাম আর ঝড়ে হাওয়ায় আমার হাত থেকে বেল্টটি উড়ে গেলো। টাইফুন বা সুনামি আসবে ভেবে আমি কুকোরের মত দৌড়াতে দৌড়াতে বাসায় চলে এলাম। মানুষ গরু চোখে দেখলাম না। চোখের সামনে যে-ই পরলো, তাকেই কেইন্না দিয়ে গুতাতে শোয়াতে দিলাম। রাস্তার মানুষজন অবাক হয়ে আমার দিকে তাকিয়ে রইলো। তারা বুঝতেই পারতেসেনা, কত বড় একটা প্রলয়ংকারী ঝড় আসছে…

… বাসার সামনে এসে দেখি মানুষজন জড়ো হয়ে বাসার সামনে দাঁড়িয়ে আছে। দারোয়ানকেও দেখা যাচ্ছেনা। বুঝলাম না এরা চোর ডাকাত কিনা। তাদের মতিগতি বুঝার জন্য আমি পথচারীর বেশ ধরে তাদের মাঝে গিয়ে দাঁড়িয়ে রইলাম। এদের মধ্যে থেকে এক মধ্যবয়সী লুঙ্গি পরা লোক আমাকে জিজ্ঞেস করলো, “খেলার কি হবে ভাই?”

– কিসের খেলা?
– তিন দেশি খেলা
– যুদ্ধটুদ্ধ লাগসে নাকি?

পাশ থেকে আরেকজন বললো, “আরে ভাই ত্রিদেশীয় সিরিজ। বাংলাদেশ বনাম ওয়েস্টইন্ডিজের খেলা চলতেছে।” লুঙ্গি পরা লোক বললো, “হ ভাই ওইটাই ওইটাই…”

আমি বললাম, “খেলা চলবে। সবাই ছাতা মাথায় দিয়ে খেলবে। শুধু ব্যাটসম্যান আর বোলারকে ছাতিওয়ালা হেলমেট দেওয়া হবে। হেলমেটের উপর আঠা দিয়ে ছাতা লাগায় দিবে। কারণ তারা তো ব্যাট বল নিয়ে খেলবে। হাত দিয়ে ছাতা ধরতে পারবেনা…”

বোকাচোদা অবাক হয়ে আমার দিকে তাকালো। সাথে সাথে কারেন্ট চলে গেলো। সে বললো, “কারেন্ট যে গেলো গা। এখন খেলার কি হবে?”

বললাম, “খেলা থেমে গেছে। যে যেই পজিশনে দাঁড়িয়ে ছিলো, সে সেভাবেই দাঁড়িয়ে থাকবে। নড়বেনা। নড়লেই তো চোরামি হবে। বুঝেন নাই?”

লুঙ্গিওয়ালা বিড়বিড় করে বলতে থাকলো, “কি বাল বুঝায়, কোন বালের দেশে আইসি। মগা ভাবছে etc etc…”

বলতে বলতে সে বৃষ্টির মধ্যে দিয়েই রিকশা চালাতে চালাতে চলে গেলো। বুঝেছি সে রিকশাওয়ালা হাহাহা। এবার নেক্সট কারে ধরা যায়, সেটাই ভাবছি। এভাবে একটা একটা করে সবটিরে ভাগাবো। বাড়ির গেট খালি করবো। তোরা ফকিরনির পোলা বৃষ্টিতে ভিজবি। ভিজে ভিজে কাজ করবি। তোদের কিসের এত শরীরচর্চা? কিসের এত হেলথ কেয়ার?

… হাহাহা

Comments

comments