সকাল থেকে বাসার দারোয়ান সিদ্দিক টিকটিকি নিয়ে ঘুরতেসে। ফাঁদ পেতে কিভাবে যেনো একটা টিকটিকি ধরেছে। এইটার লেজ সুতা দিয়ে বেধে কান্ধে নিয়ে ঘুরতেসে আর গেটে দাঁড়িয়ে পথচারীদের দিকে তাকিয়ে হু হা হা হা করে ভয় দেখাচ্ছে। বুয়া গেট দিয়ে ভেতরে ঢুকার সময় সে লাফ দিয়ে বুয়ার সামনে দাঁড়িয়ে টিকটিকি দেখিয়ে বলতেসে, ‘আমাকে চেনো? আমি ফাদার অব ড্রাগন’ !

আমি আবার প্রতিদিন ওয়াশরুমের জানালা দিয়ে ওর মাথার উপর টিস্যু ফেলি। এটা আমার একটা অভ্যাস। টিস্যু ফেলতে গিয়েই আজকে এই কাহিনী দেখলাম। ওর কার্যকলাপ দেখে আমি ঘাবড়ে গেলাম ! বোকাচোদা পাগল হয়ে গেলো নাকি !

… তড়িঘড়ি করে প্যান্টের বেল্ট বাধতে বাধতে নিচে নেমে এলাম। নিচে নেমে দেখি আরেক দৃশ্য। সে ফ্লোরে উপুড় হয়ে শুয়ে আছে। টিকটিকির সামনে একটা ম্যাচের কাঠি ধরে রেখেছে। টিকটিকিকে শিখাচ্ছে, ‘আগুন ছাড়ো। এটাতে আগুন জ্বালাও’ !

আমি সিদ্দিকের কাছে গিয়ে বললাম, ‘কিরে শূয়রের বাচ্চা কি করিস? সকালবেলা কি নাটক শুরু করলি? কিছুই তো বুঝলাম না’

সিদ্দিক আমার কথার উত্তর না দিয়ে টিকটিকিকে আমার দিকে ইঙ্গিত করে বললো, ‘ওকে পুড়িয়ে দাও। আমি তোমার বাবা। আমার নির্দেশ তুমি মানো। ওকে পুড়িয়ে ভস্ম করে দাও। ফায়ার বেবি ফায়ার…’ !

অবস্থা বেগতিক দেখে টিকটিকি লেঞ্জা থুয়েই দৌড় দিলো। ফ্লোরে পরে থাকা টিকটিকির লেজটা লাফাতে থাকলো। আমি বিরক্ত হয়ে সিদ্দিকের ঘাড়ের উপর লাথি দিলাম। লাথি খেয়ে সিদ্দিকের দেহ পিছলাতে পিছলাতে গেটের সাথে গিয়ে বাড়ি খেলো। বাড়ির শব্দে দোতলার ভাড়াটিয়া জয়নালের মেয়ে নিচে নেমে এলো…

– কি হয়েছে চাচ্চু?
– তোমাকে না কতবার করে বলেছি চাচ্চু বলবেনা?
– স্যরি। কি হয়েছে ভাইয়া?
– সিদ্দিক কইত্থেকে টিকটিকি একটা ধরে আনছে। এটা নিয়ে নানান রকমের কাহিনী করে বেড়াচ্ছে। খোঁজখবর কিছু রাখো?

জয়নালের মেয়ে লুঙ্গি খুলে যাবার মত করে মন খুলে হাসলো। আমি বললাম, হাসছো কেনো?

জয়নালের মেয়ে বললো, “আপনাকে খুলে বলি। আমি সিদ্দিক চাচ্চুকে গেম অব থ্রোনসের কাহিনী বলে বোকাচোদা বানাইছি। চাচ্চুকে শেষ এপিসোডটা দেখিয়ে বলেছি, চাচ্চু তুমি যদি একটা টিকটিকি ধরে এটাকে পালনপোষণ করে ট্রেনিং দিয়ে বড় করতে পারো, তাহলে এটা মুখ দিয়ে আগুন ছাড়বে আর তোমার সব কথা শুনবে। তখন সিদ্দিক চাচ্চু আমার গাল টেনে বললো, থ্যাংক ইউ মামণি। এখন আমার প্রতিশোধ নিতে সুবিধা হবে।”

জয়নালের মেয়ের কথা শুনে বুঝলাম, সিদ্দিক আমাকে হ্যারাজমেন্ট করার জন্য ফাদার অব ড্রাগন হবার চেষ্টা চালাচ্ছে। হারামজাদারে তো আমি শাস্তি দিবোই। পালায়ে কই যাবে? চাকরী যেহেতু করে, আর দেড়বছরের বেতনও আটক‍ানো, ওকে এখানেই থাকতে হবে। আগে ওর উসকানিদাতাকে শাস্তি দেয়া দরকার…

… জয়নাল অফিসে গেছে। ওর বাসায় গিয়ে দেখি, কি করা যায় !

Comments

comments