শুভ্রর আম্মু জাহানারা বেগম হসপিটালে। আজকে উনার ডেলিভারি। শুভ্র আশা করছে তার একটা ভাই হবে। এবং এই ব্যাপারে সে মোটামুটি নিশ্চিত। ভাইয়ের নামও ঠিক করে ফেলা হয়েছে। মোতাহার ভাই !

 

শুভ্র বিরাট টেনশনে আছে। শুভ্রর বাবা মোতাহার হোসেন দুর থেকে সেটা দেখছেন। ‌টেনশন কমাতে তিনি শুভ্রর পাশে গিয়ে বসলেন। শুভ্র মুখ তুলে তাকালো।

 

– Hello young man

– Hello old man and the sea !

– কি করা হচ্ছে?

– টেনশন করা হচ্ছে।

– কিসের টেনশন?

– ভাইয়ের নাম ঠিক করেছি মোতাহার।

– মোতাহার তো আমার নাম।

– তুমি মোতাহার হোসেন। আর সে শুধু মোতাহার অথবা জনাব মোতাহার।

– জনাব কোনো নাম নয়। এটা একটা সম্বোধন।

– ‍আমরা এটাকে নাম বানাবো।

 

মোতাহার সাহেব নষ্টালজিক হয়ে গেলেন। কলেজ জীবনে উনার থুতনির তলে অল্প কিছু দাড়ি ছিলো। সেই থেকে সবাই উনাকে ছাগল মোতাহার বলে ডাকত। জনাব মোতাহারের ক্ষেত্রেও যদি একই ঘটনা ঘটে ! ছেলের এহেন বিপদে উনি বসে থাকতে পারেন না। দ্রুত নামটা বদলানো দরকার…

 

অপারেশন থিয়েটার থেকে হন্তদন্ত হয়ে ডাক্তার সাহেব বেরিয়ে এলেন। শুভ্রর বাবার দিকে কটমট করে তাকিয়ে বললেন, বাচ্চা কই ! উনার তো পেটে টিউমার হয়েছে !

 

শুভ্রর বাবা চুপ করে রিসিপশনে বসে আছেন। শুভ্র মোটেও অসুখী না। সে টিউমারের নাম দিয়েছে জনাব মোতাহার। টিউমারটি সার্জারী করে কেটে ফেলা হয়েছে। শুভ্র আত্রলিতাকে ফোন দিয়ে একটা পলিথিন ব্যাগ আনিয়েছে। ব্যাগে করে সার্জারীকৃত টিউমারটা বাসায় নিয়ে যাবে শুভ্র। বাসার পেছনের প্রাচীর ঘেরা কাঁঠাল গাছটার নিচে সমাধীস্থ করা হবে জনাব মোতাহারকে। সাথে একটা সমাধীফলক বসানো হবে…

 

সমাধীফলকে লেখা থাকবে – “মোতাহার এখানে ঘুমিয়ে আছে। প্লিজ কেউ ডিস্টার্ব করবেন না”

Comments

comments