মনসুরের দোকানে চা ছিলো। কিন্তু টাকা রাখার জন্য ক্যাশ বক্স ছিলো না। তাই মনসুর চা বিক্রি করেনি। শুভ্র মনসুরের চেহারা দেখে ফিরে এসেছে। মনসুর শুভ্রকে দেখে দোকানের সামনে পানি ছিটিয়ে ঝাড়ু দিয়েছে, যাতে শুভ্র দোকানে গিয়ে চা খুঁজতে না পারে। অযথা বকবকাতে মনসুরের ভালো লাগেনা…

 

উত্তরা নর্থ টাওয়ারের সামনে শুভ্রর পরিচিত এক গার্ড আছে। নাম মোতালেব। বাসা বেশি দুরে না। পাশের বস্তিতেই। সেখানে গিয়ে চা খাওয়া যায়। মোতালেবের মেয়ে বিরাট সুন্দরী। মোতালেবের বান্ধবী শখ করে মেয়ের নাম রেখেছে স্বর্ণলতা। তাকে বললেই দুধ দিয়ে সুন্দর করে চা বানিয়ে দিবে। সরাসরি তাদের বাসায় চলে যাওয়া যাক। মোতালেব নিশ্চয়ই ডিউটিতে আছে। তাকে বিরক্ত করার কোনো মানেই হয়না !

 

স্বর্ণলতার বিছানায় বসে আছে শুভ্র। পাশে শুয়ে আছে বৃদ্ধ মোতালেব। তার বসন্ত রোগ হয়েছে। বসন্ত দুই প্রকার। যথাঃ ১ জল বসন্ত ও ২ গুটি বসন্ত। মোতালেবের দ্বিতীয়টা হয়েছে….

 

মেয়ে বাড়িতে না থাকায় তিনি শুভ্রকে দিয়ে গুটিবসন্তের ক্ষত’র উপর স্যাভলন লাগাচ্ছেন। শুভ্র মাথা নিচু করে স্যাভলন লাগিয়ে যাচ্ছে। হঠাৎ শুভ্র বলে উঠলো, ‘মোতালেব চাচা আপনি কি যৌনরোগী?’ মোতালেব আর চোখ বুজলো না। শুভ্র চুপ করে ঘর থেকে বেরিয়ে গেলো। স্বর্ণলতা এখন এতিম। তার বাবা স্ট্রোক করে মারা গেছে। মেয়েটা গরিব। নিশ্চয়ই দাফন কাফনের খরচ জোগাড় করতে পারবেনা। তার জন্য কিছু করা উচিত। এইমুহূর্তে পরনের জামাকাপড় ছাড়া আর কিছু সাথে নেই। এক কাজ করা যায়। মোতালেবের বডিটাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজে বিক্রি করে দেয়া যায়। তাতে অবশ্য বেশি লাভ হবেনা। এদেশে মৃতদেহর চেয়ে কঙ্কালের দাম বেশি। মেডিকেল স্টুডেন্টরা ব্যাপারটা ভালো বুঝে। যাই হোক, এখন যত দ্রুত ডেডবডিটা বিক্রি করে দেয়া যায়…

 

Something is better than nothing !

 

Comments

comments