– আপনি কি সত্যিই পাগল?

– হুঁ

– কি নাম আপনার?

– মজা করেন?

– মজা করলাম কোথায়?

– নাম কইয়া আবার নাম জিগান, যান ভাগেন।

– আপনার নাম জিজ্ঞেস করছি।

– ও আইচ্ছা আপনেও একই ভুল করছেন।

– কোন ভুল

– নামের ভুল

– মানে

– মানে হইলো, আমার নামই পাগল।

– তাই?

– হয়

– অন্য কোন নাম নেই আপনার?

– নাম ছিলো, মনে নাই। মানুষ এখন পাগল কইয়াই ডাকে। যখন দেড়ফুট ছিলাম তখন পিচ্চি কইতো, তারছিড়া কইতো। এখন পাগল কয়..!ক

থাগুলো এ্যারোসলের বিষাক্ত গ্যাসের মতো হয়ে ঢুকছিলো শুভ্রর কানে। লোকটা হয়তো পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষদের একজন। ছোটবেলায় বইতে পড়েছিলো সে, পাগলদের নাকি কোনো টেনশন নেই। এরা সবধরণের দুশ্চিন্তা আর চাহিদামুক্ত নির্ভেজাল লোক। এই পাগল লোকটা বেশ ভালো, পার্কেই থাকে সবসময়। তার মধ্যে আলাদা রকমের একটা পাগলামি আছে। পথচারীদের ফেলে দেয়া সিগারেট থেকে তামাকগুলো বের করে ছেড়া শার্টের পকেটে জমায় সে। তারপর আস্ত একটা সিগারেট বানিয়ে নেয়। কয়েক রকমের সিগারেটের ফ্লেভার একসাথে পাওয়া যায়। আলাদা একটা স্বাদ !

– পাগল হলেন কিভাবে?

– আমি ছোটকালেরতেই পাগল।

– নিজেকে পাগল বলতে খারাপ লাগে না।

– খারাপ লাগবো ক্যারে? পাগল তো না। পাগলা

– পাগলা আর পাগল ‍দুটো তো একই জিনিস।

– আরে নাহ। পাগলা তো ভালা টা।

– ক্যামন?

– পাগলা মানে একটু উত্তেজিত তাফাল্লিংবাজ লোক।

– ও আচ্ছা। তাহলে আপনি পাগল নাহ।

– পাগল ওমু ক্যারে? যান কথা কইয়েন না।

– আপনার সাথে কথা বলতে ভালো লাগছে।

– যান ভাগেন, নাইলে ছ্যাপ মারুম।

– মনে করেন, আপনি আর আমি একই ক্যাটাগরির লোক। আমিও নিজেকে পাগল ভাবতে পছন্দ করি।

– পিন্দনের কাপড়চোপড় খুইলা উদাম গায়ে আমার লগে আইয়া বহেন। তাইলে বিশ্বাস করুম।

– কাপড় খুলতে হবে ক্যান?

– মানুষ ছন্দবেশি। সব শালার ভদ্রলোক হইলো মুখোশধারী খবিশ।

আর কথা বাড়ালো না শুভ্র। পাগলেরও প্রকারভেদ আছে। এমন পাগল হওয়ার প্রয়োজন নেই তার। হয়ত পাগলের জীবনটা সুখের। কিন্তু সে পাগল হলে সুখ পাবে না। কারণ নকল কোনো কিছুই সুখের নয়। তার ভিতরের পাগলটাকে নিয়েই সে বেশ সুখী। মুখোশধারী খবিশ হওয়ার কোনো দরকার নেই…

Comments

comments