লাইফে এমন কিছু সময় থাকে, যখন খুব ছোটখাট কারণেই নিজেকে অনেক বড় কিছু মনে হয়। ব্যাপারটা শুরু হয়েছিলো সেই ছোটবেলা থেকে, যখন ২৫০ এমএল পেপসির সাথে বিশ্বকাপ ফুটবলের ফিক্সার্স সহ প্লেয়ারদের ভিউকার্ড পাওয়া যেত। তার কয়েকবছর পর ফোনের ব্যাক কভারের ভাঁজে স্টক করে রাখা ৫০ টাকার কয়েকটা রিচার্জ কার্ড…

জ্বর হলে নিয়মিত ডাক্তারদের কাছে যেতাম। ডাক্তার আমার বাবার বন্ধু হবার সুবাদে প্রতিবারই তার চেম্বারে গেলে অনেকগুলা করে প্যাড আর জেলপেন নিয়ে আসতাম। একেকটা একেক কোম্পানির কলম। দেখতেও ছিলো বেশ সুন্দর…

তারপর এমন একটা সময় আসলো, তিনটা সিগারেট কেনার ব্যবস্থা হলেই নিজেকে সুখী মনে হত। বছরকয়েক পর, রাতে বাসায় ফেরার আগে প্যাকেটে সিগারেট থাকতেই হবে পাঁচটা। সারারাত বসে বসে ডিসকভারি চ্যানেলে সময় দেয়া যাবে…

এরপর আরো অনেক বছর পেরোলো। সবই বদলে গেছে। আমিও বদলেছি। বদলে যাবার প্রথা নতুন কিছু নয়। প্রকৃতির সবচেয়ে নির্মমতম নিয়ম…

এখন সত্যিকার অর্থেই সবকিছু আছে। কোনো কিছু নিয়ে বাধা নেই, কোনো নিয়ম কানুন নেই, কোনো কিছু নিয়ে ভাবনা নেই। পকেট খালি, তো এটিএমে গিয়ে কার্ড পাঞ্চ করলেই টাকা চলে আসছে। সিগারেট নেই, তো কেয়ারটেকারকে ফোন দিলেই এক প্যাকেট বেনসন লাইট নিয়ে আসছে। এজন্যই বললাম, সবকিছু আছে…

তাহলে নেই টা কি?

হিসেব করে দেখলাম, খুব ছোটখাট প্রাপ্তিতেই আমরা বেশ খুশি হই। আমাদের চাওয়াগুলো খুব বড় না। দিনশেষে আমাদের সুখের দাম খুব সম্ভবত মাত্র দেড়শ টাকা…

তবুও মাঝেমাঝে এই প্রাপ্তি অপ্রাপ্তির হিসাবের খাতাটা অসমাপ্ত থেকে যায়। তাই দিন শেষ হবার আগেই ক্রিস্টোফার ম্যাকেন্ডলেসের উক্তি টেনে নিজেকে গুটিয়ে নিতে হয় –

“My days were more exciting when I was penniless…”

Comments

comments