অনেকবছর যাবৎ ড্রয়ারটা খোলা হয়না। ভেতরে তেমন কিছু নেই। ড্রয়ারে বিছানো একটা পুরনো অফসেট নিউজপেপার। তার উপর একটা ছবির অ্যালবামে আর এক প্যাকেট মার্লবোরো সিগারেট…

যদিও বিন্দু সিগারেট খাওয়ার ব্যাপারটা পছন্দ করতোনা। তবুও কেনো যেনো একদিন সিগারেটই গিফট করেছিলো। ড্রয়ারের চাবিটা গত ছয়বছর ধরে পকেটে নিয়ে ঘুরছে শুভ্র। কখনোই খুলে দেখতে ইচ্ছে হয়নি। এতোদিনে অবশ্যই সিগারেটগুলো পঁচে গেছে। পোকামাকড়ও বাসা বেধে ফেলেছে। ছবির অ্যালবামটা বাঁচাতে হবে পোকাদের হাত থেকে…

ড্রয়ারের কি-হোলে চাবিটা ছোঁয়ালো শুভ্র। মোমের আলোয় বিষাদগম্ভীর অন্ধকার রুমে একটা সুক্ষ মৃদু বাতাসের অস্তিত্ব টের পাওয়া গেলো। কথা বলতে চাইছে কেউ। শুভ্র উৎসুক…

– হ্যালো!
– হুঁ
– কে? ভাইরাস?
– না। আমি ওর পরিচিত।
– নাম
– শুভ্র
– শুভ্র তো আমার নাম।
– স্বাভাবিক
– আপনি কি ভাসমান? অস্তিত্বহীন?
– না, আমি অদৃশ্যমান। ড্রয়ার খুলছো কেনো?
– ছবিগুলো বাঁচাতে।
– কেনো?
– দেখতে ইচ্ছে হচ্ছে।
– না, তুমি অবাক হতে চাচ্ছো। এর বেশি কিছু না।
– কিভাবে জানেন?
– অবাক হতে চাওয়াটা ভালো। কিন্তু জোর করে কিছু ভুলতে চাওয়াটা ভালো নয়। দম্ভের পর্যায়স্ত।

এই অদৃশ্যমান শুভ্রটা অনেকক্ষণ পটপট করে যাচ্ছে। শুনতে ভালো লাগছে না। মোম নিভিয়ে রুমের লাইটটা অন করে দিলো শুভ্র। ড্রয়ারে চাবিটা অনেকবছর পর ঢুকেছে। তাই খুলতে একটু কষ্ট হচ্ছে। অনেক ধুলো জমেছে। শেষমেষ খোলা গেলো…

সিগারেটের প্যাকেটটা এখনো ঠিক আছে। একদম ফ্রেশ ইনটেক্ট আর ধবধবে সাদা। কিন্তু ছবির অ্যালবামটার অবস্থা ভালো না। ভেতরকার গরমে ঘেমে ছবিগুলো নষ্ট হয়ে গেছে। ওগুলোকে এখন পেইন্টিং বলা যায়। উল্টাপাল্টা যাচ্ছেতাইভাবে অনেকগুলো রংয়ের ছড়াছড়ি… ‍

সত্যিই, অনুভব করতে পারাটা ভাগ্যের ব্যাপার। দুঃখবিলাসী ভাবের মধ্যে কোনো আনন্দ নেই…

Comments

comments