আজ বিজয় দিবসের দিন। ব্যস্ত মানুষদের ছুটির দিন। ভেবেছিলাম বারোটা পর্যন্ত ঘুমাবো। দশটা না বাজতেই ঘুম ভেঙ্গে গেছে…

গ্রাম থেকে সিদ্দিকের কালো ছেলেটা এসেছে। ওকে আজ সামান্য ফর্সা দেখাচ্ছে। নিচে নেমে দেখি সিদ্দিকের ছেলের মোবাইলে গান বাজছে, ‘ওয়ানা বি মা চাম্মাক চাল্লো’ ! সিদ্দিক তার অবৈধ ছেলেকে বুঝিয়ে বৈধ বানাচ্ছে, “আজকের দিনে এসব গান চলবেনা। আজকে ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙ্গানো’ গান শুনতে হবে।”

তিনতলার রাশেদ ভাইও আজকে বউকে নিয়ে বের হয়ে গেছে। ভাবী শাড়ি পরেছে ঠিকই, কিন্তু রাশেদ ভাই কোমড়ে হাত দেয়নি। জানোয়ারটা একদিনের জন্য মানুষ হয়ে গেছে…

আম্মা পোলাও রাঁধবে। গরুর মাংস কিনতে পাঠিয়েছে। এই প্রথমবারের মত ঠিকঠাকভাবে গরুর মাংস কিনলাম। দোকানদার খুব একটা হাড্ডিগুড্ডি দেয় নাই। রিকশাওয়ালাও ভাড়া কম চাইলো। সবাই দেখি ভালো হয়ে গিয়েছে…

সিদ্দিকের কালো ছেলের গালে লাগানোর জন্য একটা পতাকার স্টিকার কিনে নিলাম। বাসার গেটে এসে রিকশা থামতেই সিদ্দিক তার ছেলেকে নিয়ে এগিয়ে এলো। আমি স্টিকারের পেছনের কাগজ খুলে হাতের তালুতে নিয়ে সিদ্দিকের সন্তানের গাল বরাবর মেরে দিলাম। সিদ্দিক বুকে হাত দিয়ে বসে পরলো। মারলাম ছেলেকে, বসে পরলো বাবা। এর নামই ভালোবাসা। আজকে বিজয়ের দিনে সবার মনে পবিত্র ভালোবাসা জন্ম নিয়েছে। সিদ্দিকের ছেলে কাঁদার আগেই আমি হাত সরিয়ে তাকে চমকে দিলাম…

নিগ্রোর গালে চকচকে জাতীয় পতাকা ! বাপ বেটা দুজনই খুশি !

রিকশাওয়ালাকে বললাম, তোমাকেও একটা দিবো নাকি? রিকশাওয়ালা দুই হাত উঠিয়ে বলে, “No” ! হাহাহা…

আজ আর কোনো ভায়োলেন্স হবেনা। আজ শুধুই বিজয়ের সুখ উপভোগ করবো। এটাই হবার কথা ছিলো আমাদের জীবনকথা। তবুও মাঝেমাঝে তর্কেবিবাদে জড়িয়ে পরতে হয়। মুক্তিযুদ্ধে জয়ী হলেও জাতি হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করার যুদ্ধে এখনো জেতা বাকি। একদিন ঠিকই জিতে যাবো। দেখতে দেখতে, আস্তে আস্তে…

একাত্তরের সকল শহীদ ও মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য দোয়া ও ভালোবাসা রইলো। সেই সাথে সবাইকে মহান বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা। প্রিয় দেশকেও শুভেচ্ছা…

Comments

comments