অফিস থেকে বেরিয়ে লাঞ্চে গিয়ে এক ডাক্তার দম্পত্তির সাথে দেখা হয়ে গেলো। উনি সম্পর্কে আমার মামা। গ্রামের বাড়ির দুরসম্পর্কের মামা। সে হিসেবে তার ওয়াইফ আমার মামী হবার কথা। দুজনই ডাক্তার। বুঝিনা এরা এত টাকাপয়সা দিয়ে কি করবে…

টুকটাক আলাপচারিতা শেষে ইনিয়ে বিনিয়ে দুই চারটা অসুখের কথা বললাম। আত্মীয়দের মধ্যে ডাক্তার থাকবে, কিন্তু ফ্রি চিকিৎসা নিবো না, সেটা তো হবেনা। আত্মীয় হইলেও সে ডাক্তার। সে মানুষ না…

– আংকেল শরীরটা তো ভালো যাচ্ছেনা, অসুখ।

– কি হয়েছে?

– সমস্যা তো অনেকগুলা। জ্বরে তো পহেলা বৈশাখটাই মাটি হয়ে গেলো। প্রচুর জ্বর। মানে এটা কোনো সাধারণ জ্বর না। এছাড়াও নাকের ভেতর বাঁশি বাজার মত আওয়াজ হয়। ঘুম থেকে উঠে আর দম নিতে পারিনা। মনে হয় মারা যাবো। আগে টাকাপয়সা হাতে না থাকলে বুক ব্যথা করত, এখন সারাদিনই ব্যথা করে। হুদাই ব্যথা করে।

মামা একবার মামীর দিকে তাকালো। চেহারায় কিসের যেনো ছাপ…

– আপনার ভাইরাল জ্বর হয়েছে। এটা কোনো ব্যাপার না। নাপা খান, সেরে যাবে।

– না মামা, আপনি একটু গুরুত্ব সহকারে ব্যাপারটা দেখেন। জ্বর কিন্তু শুধু রাত্রে আসে।

– হ্যাঁ ওইটাই

– মামা কখন খাবো ওষুধ, বললেন না তো। খাওয়ার আগে না পরে?

– খাওয়ার আগে একটা গ্যাস্ট্রিকের ট্যাবলেট খেয়ে নিবেন। খাওয়ার পর নাপা খাবেন।

– তাইলে আর অন্য কোনো ওষুধ লাগবেনা মামা?

– নাহ আর কিছু লাগবেনা

মামীর চেহারায় বিরক্তির ছাপ দেখতে পেলাম। মনে হচ্ছে খাবারটা ভালো হয়নি। অথবা উনি আর খাবেন না। মেইবি খাবারটা বাসায় নিয়ে যেতে চাচ্ছেন…

আমি মামাকে আবারো বললাম –

– মামা চোখেও হালকা সমস্যা আছে। মনে করেন, বিছানায় শুয়ে তো ক্যালেন্ডার দেখতে পারিনা। লেখা সব ঝাপসা দেখি।

– ভালো কোনো আই স্পেশালিস্ট দেখান।

মামার বোধহয় গরম লাগছে। কপাল, থোতামোতা সব ঘেমে গেছে। স্টাফকে বললাম, “এই ফকিরনির পোলা ফ্যান ছাড়। মামার গরম লাগতেসে…”

– আচ্ছা। মলম এখন কোনটা ভালো মামা? ভিক্স নাকি মুভ?

– পেইন রিলিফের জন্য একটা। জয়েন্টের সমস্যার জন্য আরেকটা। একেক কাজের জন্য একেক মলম। সমস্যা কোনটা?

– এই ধরেন ঠান্ডাকাশি হলে একটু গলায় দিলাম। বুকে মাখলাম।

– ভিক্স

– সবাই মিলে দেয়া যাবে তো?

– যাবে

– আমি তাইলে শুধু নাপা খাবো? অন্য কিছু লাগবেনা?

– নাহ নাপা খেলেই হবে।

– স্কয়ারের অবস্থা দেখসেন? এযুগের ডাক্তাররা তো দেখি মানুষ সব মাইরা ফেলাবে।

মামার চেহারা কালো হয়ে চোখমুখ শুকিয়ে গেলো। হাহাহা। উনাকে পুরাই শূয়রের মত লাগছে। আমি আমার নিজের টেবিলে ফিরে এলাম। শালা ডাক্তার হয়ে এখন কত যে পার্ট নিচ্ছে। ঠিকমত ওষুধের নামও বলতে চায় না। বুঝলাম তুই প্রেসক্রিপশন প্যাড সাথে নিয়া ঘুরস না। তাই বলে কি তোর সাথে মোবাইলও নাই? টেক্সট করে তো কয়েকটা ওষুধের নাম লিখে দিতে পারতি। দুইটা ভিটামিন ওষুধের নাম বলতে পারতি। তা না করে শুধু নাপা ওষুধ খেতে বলেই ঝামেলা খালাস? নাপা তো বাচ্চারাও চিনে…

শালা অমানুষ…

Comments

comments