তিনতলার ভাড়াটিয়ার মেয়ে ছাদে আসছে। আমি সাধারণত মেয়েদের দিকে তাকাইনা। তবুও ক্যান যেনো মনে হলো, এই মেয়েটার শরীর স্বাস্থ্য আমার চেয়েও ভালো। বেশ নাদুস নুদুস। আমি কথা বলার জন্য এগিয়ে গেলাম…

– থার্ডফ্লোর, রাইট?
– জ্বি ভাইয়া
– আমাকে বলছো?
– হ্যাঁ ভাইয়া
– অহ। কি নাম তোমার?
– ভাইয়া সাদিয়া। আপনার ফলোয়ার। পরশুদিন আপনি ব্লাড চেয়ে পোস্ট দিয়েছিলেন না? আমি ব্লাড দিতে চেয়ে ইনবক্স করেছিলাম।
– ওহ ওইটা তুমি !
– জ্বি ভাইয়া

মেয়েটি আমাকে চিনে একথা শুনে একটু বিব্রত হলাম। আমার সচরাচর আড়ালে থাকতেই ভালো লাগে…

– তুমি কি গাঞ্জা খাও?
– না ভাইয়া ছিহ। কেনো ভাইয়া?
– না, জেনে রাখলাম। পরে আবার ব্লাড দেয়া লাগতে পারে তো।
– আচ্ছা ভাইয়া
– পর্ন দেখার অভ্যাস না থাকলে চোখও ডোনেট করতে পারো।
– ভাইয়া আমি চোখ ডোনেট করবোনা।

“তাইলে ভাইয়ের নামে শরীরটা ডোনেট কইরা দেন” – পেছন থেকে সিদ্দিকের গলা ভেসে এলো। দারোয়ান শূয়ারটা ছাদে কি করছে, বুঝলাম না। বেয়াদবের মত একটা কথা বলে সে আমাদেরকে একটা বাজে পরিস্থিতির মধ্যে ফেলে দিলো। মেয়েটি বিব্রতবোধ করছে দেখে আমি বেল্ট খুলে সিদ্দিককে শাসন করার জন্য এগিয়ে গেলাম। সিদ্দিক বালতি নিতে ছাদে এসেছিলো। বালতি নিয়ে সে দৌড়ে পালিয়ে গেলো। আমিও তার পেছন পেছন নামলাম। নিচে নামতে নামতে সিদ্দিক ততক্ষণে দৌড়ে গেটের বাইরে চলে গেছে। আমিও দৌড়াচ্ছি। দৌড়াতে দৌড়াতে একপর্যায়ে সিদ্দিকের গেঞ্জির পকেট থেকে নকিয়া মোবাইল পরে গেলো। সাহসী সিদ্দিক ফিরে এসে ফোন তোলার জন্য নিচু হলে আমি খপ করে এসে তার গেঞ্জির টুটি ধরে ফেললাম। টান লেগে সিদ্দিকের গেঞ্জি ফেরে গেলো। বুকে হাত দিয়ে সে দাঁড়িয়ে আছে। হাহাহা, শালা হাসান মাসুদের জাত…

মেঘ ডাকছে। একটুপর আকাশের অর্গাজম হবে। দৌড়াতে দৌড়াতে অনেকদুর চলে এসেছি। দ্রুত ছাদে ফিরে যাওয়া দরকার…

মিনিট সাতেক পর,
মেয়েটি ছাদে নেই। ওর আব্বা ছাদে দাঁড়িয়ে সিগারেট খাচ্ছে। খুব সম্ভবত নেভি সিগারেট। আমি হতাশ হয়ে সিড়ি বেয়ে নামতে নামতে বললাম, ‘সিদ্দিক, উপরে গিয়ে দেখ তো ছাদে গাঞ্জা টানে কে?’

সিদ্দিক গেঞ্জি খুলে ছাদের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে। কালো ঠোঁট জুড়ে পৈশাচিক হাসি…

Comments

comments