২০০৭ সালের কথা…

সিগারেট নিয়ে ইন্ডিয়ায় একটা সিনেমা বেরিয়েছে, নো স্মোকিং ! তখন আমি টুকটাক সিগারেট খেতাম। খুব বেশি না। এই সিনেমাটি আমি এক নাগাড়ে কয়েক সপ্তাহ দেখেছি। কয়েকশো বার দেখেছি। কাহিনীটা ছিলো এরকম, ৩০ বছর বয়সের এক ব্যবসায়ী তুখোড় সিগারেটখোর। অফিসে যাবার সময় টাই বাধতে ভুলে গেলেও পাঁচ প্যাকেট সিগারেট ঠিকই তার হাতে থাকে। বাথটাবে শুয়েও সে সিগারেট খায়। এমনকি ঘুমানোর সময় তার ঠোঁটে থাকে সিগারেট। টানতে টানতেই সে ঘুমিয়ে যায়…

একপর্যায়ে দেখা যায়, তার উপর একরকম বিরক্ত হয়েই তার ওয়াইফ তাকে ছেড়ে চলে যায়। বাধ্য হয়ে সিগারেট ছাড়ার জন্য সে প্রজ্ঞাশালা নামে কলকাতার এক রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টারে যায়। সেখানকার চিকিৎসকরা তাকে এক নির্মম যন্ত্রণার মধ্যে রাখে। নানান রকম ভাবে তাকে মানসিক টর্চারের মধ্যে রাখা হয়। সে তার এই জীবনে যত সিগারেট খেয়েছে, ঠিক সে পরিমাণ সিগারেটের ধোয়া ভর্তি করা এক চেম্বারে তার কাছের কোনো আত্মীয়কে ৫ মিনিট রেখে তাকে দেখানো হয়। এরপরও সিগারেট ছাড়তে না পারলে দ্বিতীয় থেরাপী হিসেবে তার একটি আঙ্গুল কেটে রেখে দেয়া হয়। ছবির ঘটনা এভাবেই এগোতে থাকে…

সিগারেট টানার মধ্যেও যে একটা আর্ট থাকে, সেটা আমি এই মুভিতে জন আব্রাহামকে দেখে বুঝেছিলাম। এত এত ভালো ম্যাসেজ থাকা স্বত্তেও ক্যান জানি শুধু এই বিষয়টাই তখন আমার মাথার মধ্যে ঢুকেছিলো…

… ড্রেসিং টেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে সিগারেট টেনে আয়নায় ফুঁ দিতাম। সানগ্লাস পরে ধোয়ার মধ্যে আয়নায় নিজের চেহারা দেখতে ভালো লাগতো। এই বদভ্যাসের জন্য অবশ্য ড্রেসিং টেবিলের আয়না পাল্টাতে হয়েছিলো। বেশ লজ্জাও পেয়েছিলাম বাসায় সবার সামনে !

অনেক লেকচার শুনলাম, সিগারেট কিভাবে ছাড়া যায়। দিনশেষে সংখ্যা বেড়ে পাঁচটা থেকে দশটায় গিয়ে ঠেকলো…

হঠাৎ করেই একটু অসুস্থ হয়ে সপ্তাহখানেক বিছানায় থাকার পর একদিন বের হয়ে সিগারেট খেতে গিয়ে খারাপ লাগলো। মনে হলো, পুরোটা খেয়ে শেষ করতে পারবোনা…

… অর্ধেক খেয়ে ফেলে দিলাম

সেই থেকে যে অর্ধেক টেনে ফেলে দেয়ার অভ্যাস হয়েছে, এখনো সেই অভ্যাসের মধ্যেই আছি। সারাদিনে দুইটা সিগারেট খাই। সকালে একটার অর্ধেক, রাতে আরেকটার অর্ধেক। এখন অবস্থাটা এমন হয়ে দাঁড়িয়েছে, সিগারেট না খেলেও আর কোনো সমস্যা হয়না।

আশেপাশের অনেককেই দেখেছি সিগারেট খেতে মন চাইলে তারা দোকানে গিয়ে মেন্টোস কিনে খায়। অনেকে আবার বাইরে চা খাওয়াই ছিড়ে দিয়েছে সিগারেট খাওয়ার ভয়ে ! টিব্যাগ এনে বাসায় চা বানিয়ে খায়।

এই দশবছর পর এসে হঠাৎ মনে হলো, এইটা আসলে খুব বড় কোনো ব্যাপার না। চাইলেই নিজেকে বদলে নেয়া যায়।

সিগারেট খাওয়ার মধ্যে; এবং আমি সিগারেট খাই, এটা বলার মধ্যে সত্যিই কোনো স্মার্টনেস নাই !

রাস্তায় দাঁড়িয়ে একটা সিগারেট খেলাম। সামনে একটা মহিলা বাচ্চা কোলে নিয়ে হেঁটে যাচ্ছে। আমাকে দেখে সে ওড়না দিয়ে তার বাচ্চার নাক ঢেকে দিলো, যাতে বাচ্চার নাকে ধোয়া না যায়। লজ্জার ব্যাপার…

… আমি তো এখন কি করি, ইনবক্সে কারো সাথে কথা বলার সময় হঠাৎ খুব দরকারে যদি বাইরে সিগারেট খেতে যাওয়া হয়, তাকে বলি, ‘চা খেতে যাচ্ছি’ । সিগারেটের কথা বলতেই পারিনা। নিজেকে রিকশাওয়ালা মনে হয়…

সেলুনের দোকানের কার্তিক ভাইও এখন শেভ করা শেষে টিটকারি দিয়ে বলে, “ঠোঁট তো গাঞ্জুটিদের মত হইয়া গেছে। বসেন একটু লিপ কেয়ার লাগায় দেই”

… উচিত না এখন সিগারেট ছেড়ে দেয়া? সামান্য দশটাকার কাছে ব্যক্তিত্ব বিক্রি করে দিবো ক্যান !

#quitsmoking 💭

Comments

comments