সারারাত এডিটিংয়ের কাজ শেষ করে সকালে যখন ঘুমাতে গেছি, ঢাকায় তখন সেই বৃষ্টি। সাথে বজ্রপাত সহ আরো নানান সমস্যা তো আছেই। আমি যখন কাঁথা মুড়ি দিয়ে ঘুমাচ্ছি, পুরান ঢাকার বনগ্রামে তখন জলাবদ্ধ রাস্তায় রিকশা থেকে পানিতে পরে বিদ্যুৎপৃষ্ঠ হয়ে একজন মারাও গেছে। সাথে তার ওয়াইফও ছিলো। ভদ্রমহিলা বাঁচবে কিনা জানিনা।

বাঙালী হিসেবে ঈদ পুজার পর আমাদের সবচেয়ে বড় উৎসব হচ্ছে প্রাকৃতিক দুর্যোগ। ঈদ-পুজা, দুচারটা সমাবেশ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের এই সময়গুলো ছাড়া আর কখনো এত মানুষ একসাথে জড়ো হয় কিনা, আমার জানা নেই।

ভূমিকম্পের সময় দালান ছেড়ে সব মানুষ একসাথে নিচে নেমে আসে। উৎসব উৎসব ভাব…

আজকে বৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধ রাস্তায় বিদ্যুৎপৃষ্ঠ হয়ে যে দুর্ঘটনা ঘটলো, সেখানেও অনেক মানুষ জড়ো হয়েছে। টাক মাথা এক ভদ্রলোক বিপদের তোয়াক্কা না করে বাঁশ হাতে নিয়ে বেরিয়ে পরেছে রাস্তায় পরে থাকা মহিলাকে কারেন্টের শক থেকে বাঁচানোর জন্য। আরেক দাড়িওয়ালা ভদ্রলোক প্লাস্টিকের বস্তা হাতে নিয়ে ছুটে গেছে ওই দম্পত্তিকে টেনে আলাদা করার জন্য।

… কত সাহস আমাদের !

তবুও সমস্যা লেগেই আছে…

একদিকে গ্যাস নেই, অন্যদিকে কারো ঘরে গ্যাস সিলিন্ডার ব্লাস্ট হয়ে এক পরিবারের সাতজনই পুড়ে গেছে। সেই বাসায় আজ তিনমাস ধরে তালা মারা…

কোনো এলাকায় খাবার জন্য বিশুদ্ধ পানি নেই। সেই এলাকার ধনী গরিব সবাই চৌরাস্তায় টিউবওয়েলের উপর ভরসা করে একসাথে লাইনে দাঁড়াচ্ছে। দুই সোসাইটি এক শ্রেণীতে নেমে এসেছে পানি খাওয়ার জন্য। বিশৃঙ্খলা সেখানেও আছে, আবার আছে একতাও। শুধু সংস্কারের নামগন্ধ নেই…

কয়েক বছরের মধ্যে বড়সড় একটা ভূমিকম্প হলে পুরো ঢাকা শহর নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। আপনি আমি আমরা কেউই থাকবোনা ট্রাস্ট মি। এতটাই অপরিকল্পিত আমাদের এই শহর…

তবুও আমরা বাঁচার আশা নিয়েই বেঁচে আছি !

অন্যান্য দেশগুলো যখন জীবনযাত্রার মান বাড়ানো নিয়ে ভাবছে, আমরা সেখানে ভাবছি কিভাবে হায়াত বাড়ানো যায়। আর কয়টা দিন কিভাবে বেঁচে থাকা যায়…

একটা ভিডিও ক্লিপসে দেখলাম, বিদ্যুৎপৃষ্ঠ হওয়া ওই দম্পত্তির বডি এলাকার কয়েকজন মিলে কাঁধে করে হসপিটালে নিয়ে যাচ্ছে। পাবলিক যেদিন ক্ষেপবে, আমাদের দুর্নীতিবাজ জননেতারাও সেদিন এভাবে রাস্তায় পরে থাকবে।

কিন্তু আফসোস, তাদের কান্ধে করে হসপিটালে নেয়ার মত কেউ থাকবেনা…

Comments

comments