দুনিয়ার আর দশটা দেশের তুলনায় সবচেয়ে সহজে প্রতারণা করা যায় বাংলাদেশিদের সাথে। এতটাই সরল মন আমাদের। কয়েক বছর আগের কথা, বাজার যখন জাল টাকায় সয়লাব, পত্রিকার হেডলাইনে যখন প্রতিদিন নিয়ম করে জাল নোটের খবর ছাপা হচ্ছে, একদল ব্যবসায়ী তখন রাস্তায় নেমেছে পকেট সাইজের টর্চলাইট বেচার জন্য। তাদের দাবী, এটা নাকি জাল টাকা ধরার মেশিন…

একজনরে বললাম, এই লাইটের বিশেষত্ব কি? এইটা দিয়ে কেমনে জাল নোট চিনবো?

“টাকার নিচে টর্চলাইট মেরে বঙ্গবন্ধুর জলছাপ দেখা গেলেই সেই টাকা আসল” – লাইট বিক্রেতার উত্তর।

এই হচ্ছে আমাদের অবস্থা…

চারপাশ বদলাচ্ছে, নতুনত্ব আসছে। মুঠোফোন সবার হাতে থাকায় অ্যাপস বাজারেও এখন ভিড় পরেছে নামীদামী কর্পোরেটদের…

কিছুদিন আগেই বোধহয় Bkash এর একটা অ্যাপ চালু হয়েছে। নিঃসন্দেহে কোম্পানি এটা গ্রাহক সুবিধার জন্যই বাজারে ছেড়েছে। কিন্তু একদল অসাধু লোক এই অ্যাপ সুবিধার সুযোগ নিয়েও প্রতারণার ফাঁদ বিছিয়ে বসে পরেছে…

… ঘটনাটা কিরকম?

ধরেন আপনার ফোনে একটা নাম্বার থেকে কল গেলো। কল দিয়ে বলা হলো, “বিকাশ কাস্টমার কেয়ার থেকে বলছি। আপনাকে আমাদের অ্যাপের আওতায় আসতে হবে”

তাদের কথামত আপনি প্লেস্টোর থেকে বিকাশ অ্যাপ নামালেন…

এরপর আপনাকে বলা হবে, “আপনার ফোনে একটি ভেরিফিকেশন কোড গেছে। কোডটি বলুন, আমরা একটিভ করে দিচ্ছি”

আপনি খাস মনে তাকে কোডটি দিয়ে দিলেন। ব্যস ! এবার আপনি ঘুম দেন। এই ফাঁকে আপনার দেয়া ভেরিফিকেশন কোড ব্যবহার করে ওই লোকটি Bkash অ্যাপে আপনার নাম্বার দিয়ে বানানো বিকাশ অ্যাকাউন্টে লগিন করে যেকোনো অংকের টাকাই হাতিয়ে নিতে পারবে। খুব সহজ…

… প্রতারণার একটা সুন্দর মাধ্যম !

আপনি আমি সচেতন। আমরা খুব চোখ কান খোলা রেখে চলি। তবুও হঠাৎ করে আমাদের ভুল হয়েই যায়।

গ্রাম থেকে একটা ছেলে শহরে লেখাপড়া করতে এসেছে। প্রতিমাসে সে বাড়ি থেকে বিক্যাশে ৫০০০ টাকা পায়। এই ছেলেটার সাথে যদি এরকম প্রতারণার ঘটনা ঘটে, ওই মাসটা সে কিভাবে চলবে? কি খেয়ে থাকবে? বাসা ভাড়া কোথেকে দিবে?

… প্রতারক চক্র কিন্তু এসব ভাবেনা !

প্রতারক চক্র বললে ভুল হবে। এরা কোনো সিন্ডিকেট নয়। আপনার আমার মতই সাধারণ মানুষ। আমাদের আশেপাশে থাকা কিছু সাধারণ তরুণ, যাদের অনলাইন সম্পর্কে দক্ষতা আছে ! একমাত্র এদের মাথায়ই আসবে এভাবে টাকা হাতিয়ে নেয়ার প্লান…

এই টাকা দিয়ে এরা নিশ্চয়ই সংসার চালাবেনা? হয় নেশা করবে, নাহয় গার্লফ্রেন্ড নিয়ে ঘুরতে যাবে।

আপনি আমি চাইলেও এদেরকে থামাতে পারবোনা। আপনি প্রতারিত হয়ে যদি আলসেমির কারণে প্রশাসনিক সাহায্য না নেন, তাহলে সেটা আপনার দোষ। আপনাকে অবশ্যই প্রশাসনের কাছে যেতে হবে। না গেলে, আপনি নিজেই আরো দশকে সুযোগ দিচ্ছেন প্রতারিত হবার…

মোটকথা, এদেরকে মিডিয়ার সামনে আনতে হবে। অপরাধ করেছে? অ্যারেস্ট করে গার্ডিয়ান ডেকে শুধু চড়-থাপ্পড় দিয়ে ছেড়ে দিলে হবেনা। হাত পা বেধে ছবি তুলে মিডিয়ায় দিতে হবে। তাহলেই এদের শিক্ষা হবে। একবার ধরে বেধে ক্যামেরার সামনে আনা শুরু হোক, দেখবেন এমনিতেই পাপ কমে যাবে…

পত্রিকার হেডলাইনে পলিথিন, জাল টাকা আর শীর্ষ সন্ত্রাসীর খবর দেখতে দেখতে একটা সময় কিন্তু ঠিকই এরা হারিয়ে গেছে। ছোটখাট অপরাধগুলোও এভাবেই দমন করতে হবে…

… ছোট করেই হোক, আগে শুরুটা তো হোক

Comments

comments