বাসের পিছে লেখা, চলো বন্ধু চিড়িয়াখানায় যাই !

একসময় এই বাসগুলো দেখলে কত খুশি হতাম। ভাবতাম এগুলা চিড়িয়াখানার বাস। এগুলাতে যারা উঠেছে, সবাই চিড়িয়াখানায় বাঘ ভাল্লুক জেব্রা দেখতে যাচ্ছে। বাসে উঠার জন্য তখন টানাহ্যাঁচড়া করতাম আব্বার সাথে। সবই ছিলো প্রতারণা !

সিদ্ধান্ত নিয়েছি আজকে এর প্রতিশোধ নিবো…

বিরাট লম্বা লাইন। হুদাই লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। উঠবো না। দাঁড়িয়েই থাকবো। গাদ্দারি করবো বাসওয়ালাদের সাথে। আমিও যাবোনা, কাউকে যেতেও দিবোনা। লাইনের সামনে পর্যন্ত গিয়ে মূর্তির মত দাঁড়িয়ে থাকবো। কেউ ধাক্কায়াও সরাইতে পারবেনা। রোদে দাঁড়া করায়া রাখবো সবাইকে…

বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে পারলাম না। মুহূর্তেই আবহাওয়া পাল্টে বৃষ্টি শুরু হয়ে গেলো। আমি দৌড়ে একটি রেস্টুরেন্টের ভিতর আশ্রয় নিলাম। আদিবাসীদের রেস্টুরেন্ট। এদের খাবারের আইটেমও বেশ ভালো। আমি বাঁশকোড়ল আর কুচ্ছে মাছ অর্ডার করে বসে আছি…

চাকমা মেয়েদের প্রতি আমার আগে থেকেই একটা বিশেষ ভালোবাসা আছে। সম্ভব হলে কয়েকটা চাকমা মেয়ে বিয়ে করতাম। একজন থাকত বেডরুমে। একজন সোফায়। আরেকজন বসে থাকত রান্নাঘরে। আরেকজন বারান্দায়…

… কতরকম ভিডিও যে দেখেছি ! একেকটা একেক জায়গায় শ্যুট করা। সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে অপারেশন থিয়েটারেরটা !

খাওয়া শেষে বের হয়ে সিএনজি নিলাম। বাংলাদেশে তিনরকম ফেসবুকার আছে। প্রথম গ্রুপ হচ্ছে বেশ বড়লোক পরিবারের। এরা নিজেদের গাড়ির উপর হাত পা ছড়িয়ে শুয়ে ছবি আপলোড দেয়। দ্বিতীয় গ্রুপ হচ্ছে আমার মত। এরা সিএনজিতে যাতায়াত করে অভ্যস্ত। তবে মাঝে মাঝে পাঠাও/উবারেও যাতায়াত করে। তখন ফেসবুকে এদের ছবিসহ সরস এক্টিভিটি দেখা যায়। আর তৃতীয় গ্রুপ হচ্ছে ফটোগ্রাফার। এরা রিকশার চাকার ছবি তোলে। রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে কুকুরের ছবি তোলে। ফুল গাছের ছবি তোলে। ভং ধরে থাকে যে এরা আসলে প্রকৃতি প্রেমিক। ফকির সোসাইটির নয়…

সিএনজিওয়ালাকে দেখে ভালো লাগছে। লোকটি মাথার সামনের অংশ টাক করে রেখেছে। নিঃসন্দেহে লোকটি আবুল হায়াতের ফলোয়ার।

সত্তরের দশকের কথা, ঢাকার বিভিন্ন জায়গার বিভিন্ন অলিগলি আবুল হায়াতের নাটকের ঝিকিমিকি রঙের পোস্টারে ছেয়ে যায়। চারিদিকে শুধু ত্রাহি ত্রাহি রব ! পুরো দেশজুড়ে চলছে কেবল আবুল হায়াতের জয়গান। কেউ আবুল হায়াতের মত গোঁফ রেখেছে। কেউ মাথার সামনের অংশ টাক করে ফেলেছে। কেউবা আবার সাদা কাপড়ে আবুল হায়াতের ছবি প্রিন্ট করে বাড়ির ছাদে পতাকা লাগিয়ে রেখেছে। এমন অভূতপূর্ব দৃশ্য বাঙালী আগে কখনো দেখেনি…

এই লোকটিকে আমার সেই সময়কার যিশু বলে মনে হলো। আমি তার সাথে কিছুক্ষণ কথা বললাম –

– ববি
– কিছু বললেন মামা?
– তুমি ববি?
– বুঝলাম না
– কি নাম তোমার? ববি নাকি?
– না মামা, মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন
– আজ থেকে তুমি ববি। তোমার সূর্যদীঘল কপাল আমার ভালো লেগেছে। সিএনজি থামাও। তোমার কপালে ফুঁ দিয়ে দেই। ভালো লাগবো।

দেলোয়ার সিএনজি থামালো না। আগের চেয়ে আরো দ্রুত চালিয়ে আমাকে গন্তব্যস্থলে নিয়ে এলো। আমি ভাড়া চুকিয়ে দিয়ে সিএনজির দরজা লাগানোর সময় তার আঙ্গুল দরজার ফাঁকে ফেলে চাপ দিলাম। লোকটি ব্যথায় মুষড়ে পরলো। তার মুখ দিয়ে লোল বের হয়ে সুন্নতি দাঁড়ি বেয়ে পরছে। দেখতে ভালোই লাগলো। মিটার ভিজে যাবে…

বাসায় এসে দেখি দরজার সামনে পুলিশ দাঁড়ানো।

– কাকে চাচ্ছেন ভাই?
– আপনি কি মাছের ব্যবসায়ী? আড়তে মাছ বেচেন আপনি?
– নারে ভাই, অফিস করে এলাম। স্টার কমিউনিকেশনসের এমডি।
– আপনি বাবুল না?
– এইটা কোনো মানুষের নাম? হেহে
– ওহ দুঃখিত

ভদ্রলোকেরা টিম নিয়ে উপরে চলে গেলো। আমি ঘরে এসে বসে আছি। কিভাবে যেনো সব মিলে গেলো। ববি, বাবুল, টাকমাথা…

… কিছু একটা হচ্ছে না তো? ববি শূয়রটা আবারো ফেক আইডি খুললো নাকি !

Comments

comments