দারোয়ান সিদ্দিকের আগের ঘরে ছেলে হইসে। আমাদের এতদিন জানায় নাই। যেই না রোজার মাস আসলো, ওমনি ঈদের কেনাকাটার জন্য বাচ্চা কোলে করে নিয়ে আসছে। আমি নিচে নামতেসিলাম ইফতার কেনার জন্য। গিয়ে দেখি, সিদ্দিক বাচ্চা কোলে নিয়ে বসে আছে। বাচ্চাটি সিদ্দিকের ঝুনঝুনি হাতাচ্ছে…

– কিরে সিদ্দিক, এইটা কার বাচ্চা? দেখতে তো তোর মত লাগে।
– ভাই আমারই এইটা।
– সেদিন না মাত্র তোর বাচ্চা আসলো। জেএসসি পরীক্ষার জন্য টাকা নিয়া গেলি। এইটা কোনটা?
– এইটা নতুনটা। আগের ঘরের বাচ্চা।
– আগের বউরে না ডিভোর্স দিসস?
– ডিভোর্সের পরই বাচ্চা হইসে।
– এইটা এখন তুই ভাগে পাইসস?
– জ্বি ভাই

সিদ্দিকের কথা শুনে আমি ঘাবড়ে গেলাম। জানোয়ারের বাচ্চা বলে কি? ডিভোর্সের পর সে বাচ্চার দায়িত্ব নিসে। এটা তো মানা যায় না। সিদ্দিক এত ভালো হলো কিভাবে?

রোজা রাখিনি। তাই বঙ্গোজ বিস্কুট কিনে এনে খেতে বসলাম। বিস্কুট খেতে খেতে আমার মনে হলো, এই হারামজাদা আসলে অতটা ভালো নয়। সে হয়ত অঘটন ঘটানোর পর বউকে ডিভোর্স দিয়ে বাচ্চার দায়িত্ব এড়াতে চেয়েছিলো। কিন্তু সারতে পারে নাই…

আমি তাকে আবারো ডাকলাম। সে বাচ্চা কোলে নিয়ে উপরে চলে এলো। বাচ্চা ধরার স্টাইল দেখে আমার মনে ক্যান যেনো সন্দেহ লাগলো। এটা আসলেই তার বাচ্চা তো? নাকি প্রতিবেশীর কাছ থেকে ভাড়া করে এনেছে কৌশলে ভিক্ষাবৃত্তি করে টাকা বা ঈদের উপহার তোলার জন্য !

আমি বাচ্চাটির ব্যাকসাইডে চিবি দিয়ে ডলে দিলাম। বাচ্চাটি জানোয়ারের মত কাঁদতে শুরু করলো। আমি কানে আঙ্গুল দিয়ে বললাম, উফফ…

ভং ধরলাম যে আমি খুব বিরক্ত হচ্ছি !

সাথে সাথে সিদ্দিক বাচ্চাটির মুখ চেপে ধরলো। আমি তাকে উসকে দেয়ার জন্য গরম তেলে পানি ছিটিয়ে দেবার ছলে বললাম, চেপে ধর চেপে ধর।

সিদ্দিক সাথে সাথে বাচ্চাটিকে লুঙ্গির তলে নিয়ে গিয়ে ভালোমত ঠেসে ধরলো, যাতে চিৎকারের শব্দ বের না হয়।

আমি যা বুঝার বুঝে নিলাম। এটা আসলেই সিদ্দিকের ছেলে নয়। একে দেখিয়ে দেখিয়ে ঈদের উপহার তোলার জন্য ভাড়া করে আনা হয়েছে…

সিদ্দিককে বললাম, ‘বাচ্চাটা মাটিতে রাখ’ ! সে বাচ্চাটিকে মাটিতে রাখলো। আমি তাকে তিন তলার সিড়ির সামনে দাঁড় করিয়ে ছয়তলায় চলে এলাম। তারপর ছয়তলা থেকে দৌড়াতে দৌড়াতে নেমে প্রচন্ড গতিতে এক লাফে সিদ্দিকের বুকে লাথি মারলাম। সিদ্দিক উড়ে গিয়ে দোতলার সিড়ির দেয়ালে বাড়ি খেলো। বাড়ি খেয়ে সিদ্দিকের লুঙ্গি খুলে গেলো। আমি এগিয়ে গিয়ে সিদ্দিকের লুঙ্গি নিয়ে এলাম। সিদ্দিক বললো, please…

লুঙ্গি নিয়ে আমি মুহুর্তের মধ্যেই সিদ্দিক দৃষ্টির আড়াল হয়ে গেলাম। নিচতলার মেহেদি গাছের নিচে লুঙ্গি নিয়ে লুকিয়ে রইলাম। হাহাহা এখন কোথায় যাবে শালা !

সিদ্দিকের আওয়াজ শোনা গেলো, “ভাইয়া, ভাইয়া? হোয়ার আর ইউ?”

আমি উত্তর দিলাম, টুকি…

আমাকে খুঁজে না পেয়ে সিদ্দিক চলে গেলো। একটুপর সিদ্দিক নিচে নেমে এলো। চারতলার হিন্দু ভাড়াটিয়া জগদিশ ছাদে ধুতি শুকাতে দিসিলো। সিদ্দিক সেই ধুতি পরে নিচে নেমে এসেছে। তাকে পীথাগোরাসের মত লাগছে…

সিদ্দিককে ধুতি পরা অবস্থায় দেখে আমার একটা কথাই মনে হলো, ধুতি পরলে কি রোজা ভাঙ্গে না?

Comments

comments