মন ভালো নেই। সকালে যাকাতের কাপড় কিনতে গিয়েছিলাম গাউছিয়া মার্কেটে। দেড়শ পিস শাড়ি আর দুইশ পিস লুঙ্গি কিনবো। ৭০-৮০ টাকার মধ্যে কোনো শাড়িই পাওয়া গেলো না। ৩০ টাকার মধ্যে লুঙ্গি খুঁজলাম। তাও নেই। বাজেটে দেশের বাজারটাকে পুরা উল্টাপাল্টা করে ফেলেছে। ডিজগাস্টিং…

গাউছিয়ার এক দোকানদার জানালো বাংলাদেশে নাকি ৩০ টাকা দামের লুঙ্গি নাই। এটা কোনো কথা? তাহলে যাকাত দিবো কিভাবে? ইমানের ভিত্তি দুর্বল হয়ে যাবে যাকাত না দিলে…

দোকানদাররে বললাম, বিকল্প কি করা যায়? লুঙ্গির বদলে সেন্টুগেঞ্জি দিলে যাকাত হবে নাকি? ওগুলার তো দাম কম আছে…

দোকানদার সম্মতি জানালো। একশো সেন্টুগেঞ্জি নিয়ে ফিরলাম। ২০০ টাকার নিচে কোনো শাড়ি পাওয়া গেলো না। তাই ৭০ টাকা দিয়ে কাফনের কাপড় নিয়ে এলাম। মহিলাদের মাঝে এগুলাই বিতরণ করবো সিদ্ধান্ত নিয়েছি…

দারোয়ান সিদ্দিক যে একেবারেই কাজের না, তা কিন্তু নয়। সে একটা ভালো বুদ্ধি দিলো। সাদা কাপড়গুলোর উপর জরি ছিটিয়ে বিতরণ করতে বললো। সিদ্দিককে দিয়ে কয়েক রঙের পাউডার জরি কিনে আনালাম। সে খুব সুন্দর করে কাফনের কাপড়ের উপর জরি ছিটিয়ে দিয়েছে। এখন বুঝাই যায় না এগুলা আসলে কি ! ফকিররা শাড়ি ভেবে খুশি মনেই নিয়ে যাবে হাহাহা…

দুপুর তিনটার কড়া রোদে মাথা গরম হয়ে আছে। বাড়ির সামনে লম্বা লাইন। মিরপুর উত্তরা বাড্ডা বনশ্রী সহ দুরদুরান্ত থেকে ভিক্ষুকরা যাকাত নিতে আসছে। শালারা এসেই বিশৃঙ্খলা শুরু করসে। মহিলা পুরুষ এক লাইনে দাঁড়ালে যা হয় আরকি…

এসব দেখে সিদ্দিক আবার মাথা ঠিক রাখতে পারেনা। সে ভিক্ষুকদের উপর চড়াও হয়ে যাকাত দিবেনা বলে ঘোষণা করলো। আমি তাকে মাথা ঠান্ডা রাখার পরামর্শ দিলাম। লাঠি হাতে এগিয়ে গেলাম ভিড়ের দিকে। গিয়েই কয়েকটার মাজা কোমড় সই করে লাঠি বসিয়ে দিলাম। হাতে পায়ের গিড়ায় গিড়ায় লাঠিচার্জ করলাম। এক ফকিরের একটা পা ছিলো না। তাই ডান পায়ের ফাঁকা জায়গা ভেদ করে বাম পায়ে গিয়ে বাড়ি লাগলো। শালা সাথে সাথে পরে গেলো। ওরে মাইর, মাইর কাকে বলে, কত প্রকার ও কি কি, বলে বোঝাতে পারবোনা…

সিদ্দিকও চেয়ার নিয়ে আমার সাথে যোগ দিয়েছে। সে কাঠের চেয়ার দিয়ে উড়াধুরা পিটাচ্ছে। দেখতে ভালোই লাগছে। উশৃঙ্খল জাতির সাথে এমনটাই হওয়া উচিত…

ফকিররা হচ্ছে বেহায়ার জাত। এত মাইর খেয়েও আবার ফিরে এসে লাইনে দাঁড়িয়েছে। সিদ্দিককে বলে রেখেছি, পাঁচটার আগে বিতরণ করা যাবেনা। ওদেরকে অপেক্ষায় দাঁড় করিয়ে রাখো। সারাদিন পার করে শেষে সেন্টুগেঞ্জি আর কাফনের কাপড় নিয়ে ঘরে ফিরে যাক। এটাই ওদের শাস্তি…

সিদ্দিকের মুখে বিরহের ছাপ…

Comments

comments