সেমাই কিনতে আসছি। ঈদের সময় বাসাবাড়িতে ছোটলোকের আনাগোণা বেড়ে যায়। তারা পরিবার পরিজন নিয়ে সেমাই খেতে আসে। তাও আবার বিকাল বেলায়। আমার কথা হইলো, তুই বউবাচ্চা নিয়ে ঘুরতে আইসস, সেমাই মালটা আপেল কমলা খেয়ে চলে যা। বিরিয়ানী খাওয়ার আসায় বইসা রইসস ক্যান? ঈদের দিন মানুষ থাকবে নিজের বাসায়। বাবা মা, বউবাচ্চা, প্রতিবেশীদের নিয়ে সুন্দর সময় কাটাবে। তা না করে এরা অন্যের বাসায় ঘুরতে চলে যায়। শালা ছোটলোক…

অবশ্য একটা কথা না বললেই নয়, এধরণের ছোটলোকদের দেখা যাত্রাবাড়ীতে খুব কমই পাওয়া যায়। মিরপুর, ধানমন্ডি, উত্তরা, বাড্ডা ও বনশ্রী সহ অন্যান্য এলাকাগুলোয় সে তুলনায় ছোটলোক অনেক বেশি…

দোকানদারকে দেখেই ক্লান্ত লাগছে। শালা সেমাই বেচতে বেচতে দিশাহারা হয়ে গেছে। নিজের ছেলেকেও দোকানে নিয়ে আসছে। বাচ্চা ছেলে। দেখলেই বুঝা যায় অবৈধ সন্তান। চেহারায় কোনো মিল নেই। কিন্তু ছেলেটি তেল, চিনি, সেমাইর বস্তা কাঁধে করে এনে তার বাবাকে হেল্প করছে। এই ছেলেটি মাদার তেরেসা হবে…

– সেমাই দেন
– পাকিস্তানিটা দিবো? নাকি লাচ্ছা সেমাই দিবো?
– ইউকে’র টা দেন
– বুঝলাম না
– ইউকে’র সেমাই নাই? ইংল্যান্ড, লন্ডন?
– না বাবা। শুধু পাকিস্তানি আর লাচ্ছা সেমাই আছে।
– ইউকে’র সেমাই নাই কেনো? এত বড় দোকান, অথচ ভালো সেমাই রাখেন না। দুই পদ নিয়ে বসে আছেন। এগুলা কোনো কথা?

আমি দুই পদের মোট ১০ প্যাকেট সেমাই কিনলাম। সেমাই কিনতে গিয়ে এক অদ্ভুত কথা মনে হলো। আবুল হায়াত তো গোঁফ কাটেনা। সেমাই খেতে গেলে নিশ্চয়ই আবুল হায়াতের গোঁফে সেমাই আটকে যায়…

ভাবতে ভাবতে আমার মুখে সূর্যের হাসি চলে এলো। দ্রুত বাজার থেকে বেরিয়ে আসলাম। মিনিট পাঁচেক হাঁটতে হাঁটতে বাসার কাছে চলে এসেছি। বাবুলের দোকানে দুই মিনিট রেস্ট নেয়ার জন্য ঢুকলাম। সিগারেট ধরাতে ধরাতে ভিতরে গিয়ে ঢুকলাম। পর্দা লাগানো দোকান। কেউ দেখবেনা…

সিগারেট খেতে খেতে আবিষ্কার করলাম, বাবুল পাশা নিজের লুঙ্গি দিয়ে আড়াল করে এক লোককে ঢেকে রেখেছে।কেউ একজন তার পায়ের কাছে বসে আছে। বাবুল কেনো লোকটিকে আড়াল করতে চাইছে, আমার বোধগম্য হলো না। আমি উৎসুক ভঙ্গিতে এগিয়ে গিয়ে বাবুলের লুঙ্গি টেনে খুলে ফেললাম। লুঙ্গির তল থেকে আমার আব্বা বেরিয়ে এলো…

“আব্বা এইখানে কি করেন?”

‘তোমার আব্বা সিগারেট খাচ্ছে, তোমাকে দেখে লজ্জায় লুকাইছে’ – বাবুল পাশার উত্তর !

আমি আরো কি না কি ভেবেছিলাম। লজ্জায় সেমাইর প্যাকেট নিয়ে দোকান থেকে বের হয়ে এলাম। বাবুলের লুঙ্গি দিতে মনে ছিলো না। সেটাও হাতে করে নিয়ে এসেছি। বাবুল মেবি খেয়াল করে নাই…

বাসার নিচে এসে সিদ্দিককে বাবুলের লুঙ্গিটি ভাজ করে ঈদের উপহার হিসেবে দিয়ে দিলাম। উপরে চলে এসেছি। আব্বার রোজা রাখার ভং ধরার কথা আম্মাকে বলা যাবেনা। বললে অশান্তি হবে ঈদের আগে…

এখনো মেবি ২৬ রোজা হয় নাই। এরমধ্যেই চারিদিকে ত্রাহি ত্রাহি ভাব…

Comments

comments