ঘুম থেকে উঠেই রাব্বানীর সাথে মারামারি করলাম। স্বপ্নে দেখলাম, আরবের মরুভূমিতে দৈত্যাকার এক খেঁজুর গাছের নিচে রাব্বানীর সাথে আমার দেখা। ঠিক নিচে নয়, উপর থেকে নিচে। রাব্বানী খেঁজুর গাছের আগায় বসে ছিলো। বিচি ছিলো নিচে। নির্জন মরুভূমিতে এত বিচি দেখে আমি অবাক হলাম। একটা বিচি তুলে নিয়ে দুরে ফিক্কা মেরে ফেলে দিলাম। হঠাৎ কোত্থেকে যেনো চিৎকারের শব্দ ভেসে গেলো, “ফেলবেন না ফেলবেন না। প্লিজ আমাকে দয়া করুন” !

আশ্চর্য ঘটনা। মরুভূমিতে আবার কে ডাকে? ডানে বামে তাকালাম, কেউ নেই। সামনে পিছেও কেউ নেই। উপরে তাকিয়ে দেখি গাছের আগায় কে যেনো বসে আছে। জিজ্ঞেস করলাম, তুমি কে? ওইখানে উঠসো কেনো? কি নাম তোমার?

গাছের উপর থেকে জবাব এলো, “রাব্বানী” !

– কিধরণের আছো?
– বুঝলাম না ভাই
– কিধরণের আছো? মানে অনেকে প্রশ্ন করেনা যে কেমন আছো? কিরকম আছো? ‘কিধরণের’ শব্দটাও এগুলার সমার্থক। তাই গতমাস থেকে এইভাবে প্রশ্ন করতেছি, কিধরণের আছো?
– আমিও গতমাস থেকে প্যারায় আছি। মানুষের যন্ত্রণায় বাসায় থাকা যাচ্ছেনা। তাই খেঁজুর গাছের উপর এসে বসে আছি।
– বিচি নিচে কেনো? মানুষ তো পারাবে।
– খেঁজুরের বিচি জমাইয়া কি করবো ভাই?
– আমি ছুঁড়ে ফেলার সময় তো ঠিকই চিৎকার দিলা।
– খাইতে না পারি। চেঁচাইতে অসুবিধা কোথায়?

রাব্বানীর বুদ্ধিদীপ্ত উত্তর শুনে আমার ভালো লাগলো। খুশি হয়ে গাছ ধরে ঝাঁকি দিলাম। উপর থেকে রাব্বানী পরে গেলো। দেরি না করে আমি তার বুকের উপর গিয়ে দাঁড়ালাম এবং মুঠোফোনে আজা নাচলে গান ছেড়ে নাচতে শুরু করলাম। হঠাৎ টের পেলাম আমি তলিয়ে যাচ্ছি। চারপাশ উপরে উঠে যাচ্ছে। শালা বোকাচোদা মেবি চোরাবালির উপর এসে পরেছে। হারামজাদা নিজে তো বিপদে পরছস পরছসই, সাথে সাথে আশেপাশের মানুষজনরেও বিপদে ফেলাইসস…

… দরজা খটখটানির শব্দে ঘুম ভেঙে গেলো। উফফ কি বাজে একটা দুঃস্বপ্ন দেখলাম। নিশ্চয়ই ফকির এসেছে। ফকির আসুক বা ব্যারিষ্টার আসুক, যেই আসুক না কেনো, তাকে একটা ধন্যবাদ জানাতে হবে। কৃতজ্ঞতা না জানিয়ে আমি অকৃতজ্ঞ হয়ে থাকতে পারবোনা…

ওপাশ থেকে সমানে দরজায় নক দিয়ে যাচ্ছে। মেবি আঙ্গুলের উল্টা পিঠ দিয়ে টোকা দিচ্ছে। দরজার সামনে গিয়ে আমিও এপাশ থেকে টোকা দিলাম। একবার সে নক দেয়, আরেকবার আমি নক দেই। এভাবে একমিনিট পার হবার পর আমি হাসিমুখে দরজা খুলে ফকিরের হাত ধরে মোচড়ানি দিলাম। জিজ্ঞেস করলাম, তুমি রাব্বানী?

ফকির বললো, ‘না। আমি ইলিয়াস…’

“তুমি শালা মিথ্যা কথা বলো। আমি জানি তুমি রাব্বানী।”

ফকির এবারো অস্বীকার করলো। কিন্তু আমাকে কনফার্ম হতেই হবে তার নাম রাব্বানী কিনা। আমি মানিব্যাগ থেকে একটা ৫০০ টাকার নোট বের করে তার হাতে ধরিয়ে দিলাম। বললাম, “আমার কাছে ভাংতি নেই। যাও তুমি ভাংতি নিয়ে এসো। এখান থেকে দশ টাকা খরচ করবে। বেশি খরচ করবেনা যেনো। ওকে? বুঝতে পেরেছ কি বলেছি?”

ফকির মাথা নেড়ে সায় জানালো এবং ভিক্ষুকদের থিম সং গাইতে গাইতে সিড়ি বেয়ে চলে গেলো…

একঘন্টা পেরিয়ে গেছে। ফকির হারামজাদা আর আসেনি। জানি আসবেনা। জেনেশুনেই টাকাটা দিয়েছি। কেনো দিলাম? ইচ্ছা করেই দিয়েছি। অন্তত কনফার্ম তো হতে পেরেছি, ওর নামই রাব্বানী…

পার্ট টাইম করতে এসেছিলো হয়ত। কে জানে 🙂

Comments

comments