বাসার ঢুকার সময় দারোয়ান হারামজাদা পথ আগলে দাঁড়ালো। গেটের দুই কোণায় দুই পা চেগায়ে দাঁড়িয়েছে। অন্যসময় সে গেট খুলতে দেরী করলে আমি তাকে এভাবে চেগায়ে দাঁড়াতে বলি। সে রাজি না হলে তিনতলার ভাড়াটিয়া জগদীশরে ফোন করে আনাই। জগদীশ সিদ্দিককে জোরজবস্তি করে ধরে এনে গেটের মুখে চেগায়ে দাঁড় করায়। পেছনে থেকে সে সিদ্দিকরে জড়ায়ে ধরে রাখে। আমি মাঝখান বরাবর পা রেখে একসাথে দুইটারেই লাথি দেই। এক শটে সিদ্দিক সোজা হয়ে যায়। কয়েকদিন পর্যন্ত আর কাজে ফাঁকি দেয়না। জগদীশও ঠিকঠাকমত যথাসময়ে বাড়িভাড়া পরিশোধ করে দেয়…

সেই সিদ্দিক আজ কিভাবে অকুতোভয় সৈনিকের মত গেটের মাঝখানে এসে দুই পা মেলে চেগায় দাঁড়ালো, আমি বুঝলাম না। সে কি কোনো ডিপ্রেশনে ভুগছে? নাকি কোনো অপরাধবোধে ভুগছে, যার ফলস্বরুপ সে নিজেকে নিজে শেষ করে দিতে চাচ্ছে। হয়ত এজন্যই চেগায়ে দাঁড়াইসে। আমি লাথি দেয়ার জন্য রেডি হলাম। দুই পা পেছনে ব্যাক করলাম যাতে শরীরের পুরো শক্তি দিয়ে লাথিটা মারা যায়। সিদ্দিকরে বললাম, তুমি রেডি?

সিদ্দিক বললো, ‘দাঁড়ান। আপনি যাবেন না। কথা আছে আপনার সাথে…’

জিজ্ঞেস করলাম, “কি কথা?”

সিদ্দিক আমাকে বলে, “আপনের ফোনে তিন পাত্তি গেমস আছেনা? ওইটা ডিলেট করেন। সারাদেশে কিভাবে ক্যাসিনো ধরতেছে দেখছেন? কাইটা দেন ওটা। আপনার ভালোর জন্যই বলি”

হারামজাদা কারে কি বলে ! কিসের তিন পাত্তি গেমস !! ওর কথা শুনে মেজাজটাই গরম হয়ে গেলো। ছোটলোকের বাচ্চা কিভাবে ভাবলো আমি গেমস খেলবো, তাও আবার এইসব নিম্নমানের গেমস। মাথাটাই গরম হয়ে গেলো পুরা…

তাড়াতাড়ি জাফরের দোকান থেকে একটা গেন্ডারি দুইভাগ করে এনে দুইটা দুইহাতে নিয়ে সিদ্দিকের দু পায়ের নিচে ড্রামস বাজানো শুরু করলাম। সিদ্দিক গেট ছেড়ে ফ্লোরে শুয়ে গড়াতে গড়াতে ‘বাবা রে মারে বলে’ চেঁচানো শুরু করলো। ওর আহাজারি শুনে মনে হইলো, সে একটা প্রতিবেশীর সন্তান…

সিদ্দিক মেবি গড়াতে গড়াতে বহুদুর চলে গিয়ে সুকৌশলে আমাক হাত থেকে পালিয়ে যাবার চেষ্টা করছে। জগদীশকে ফোন দিসি। ও আসুক। ওকে বলবো, সিদ্দিকরে উপরে রেখে সে যেনো নিচে শুয়ে জড়ায়ে ধরে রাখে। তাহলে আর সিদ্দিক পালাতে পারবেনা। ইন দা মিনটাইম, আমি গ্যারেজ থেকে রাশেদ ভাইর বাইকটা নিয়ে আসি। এইটার স্ট্যান্ট তুলে সিদ্দিকের পাশে নিয়ে কাত করে ওর বুকের উপর ফেলে দিবো। ব্যথা পেলে পাক। মানুষ চিনতে শিখুক…

“তুমি চেয়ে আছো চাই
আমি পথে শুয়ে যাই
শুয়ে শুয়ে গড়াতে গড়াতে
বহুদুর যেতে চাই…”

(You can use ‘Kazi Nipu app’ ! Now it is available on Google Play Store )

Comments

comments